11:55 pm, Sunday, 2 August 2026

বেনজীরকে ফেরানো নিয়ে ধোঁয়াশা

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:25:49 pm, Sunday, 2 August 2026
  • 6
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দুর্নীতির মামলায় বাংলাদেশের আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর বিদেশে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি হয়েছিল এক বছর আগে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেড নোটিশ জারির পর চলতি বছরের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ আটকের খবর জানায় দেশটির পুলিশ। এর পরই বহুল আলোচিত পুলিশের এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু মাত্র ১৮ দিনের মাথায় বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের একটি আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। যদিও পাসপোর্ট জমা দিয়ে অনুমতি ছাড়া দুবাই ত্যাগ না করার শর্তে মিলেছে এই জামিন। রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে দুদক ও বাংলাদেশ পুলিশের কাছে বেনজীরের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অজানা থাকলেও বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে মুখ খোলেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি জানার পর তার জামিন বাতিল করে তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে দুবাইয়ে ল ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এত আয়োজন করে বেনজীর আহমেদকে কি আদৌ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে? বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে শুরু করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তো আমরা প্রক্রিয়া শুরু করতেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে, আলাপ-আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আপনাদের জানাব।’ বেনজীরের জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরেক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আপনারা আপডেট পাবেন। আমি তো এইমাত্র মিটিং থেকে এলাম। আপনাদের জানানোর মতো কিছু এখনো আমি জানতে পারিনি।’ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, দুবাইয়ের কারাগারে বন্দি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গত ২৭ জুলাই জামিনের জন্য দেশটির একটি আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুলাই তাকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন আদালত। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন এই সাবেক আইজিপি। জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছেন, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। যদিও তিনি ইউরোপের কোনো দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরুর পর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আস্থাভাজন বেনজীর আহমেদের ওপর। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় পুলিশের সহায়তায়ই সপরিবারে দেশ ছাড়েন বেনজীর। এরপর থেকেই তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে থাকেন বলে জানা যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় একাধিক মামলা করে দুদক। এরপর গত বছর তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। সেই মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে দুদক আন্তর্জাতিক পুলিশি তদন্ত সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারে রেড নোটিশ জারি করে। চলতি বছরের ১২ জুন দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে জানালে তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে তাকে কারাগারে পাঠানোর খবর জানা থাকলেও জামিনে মুক্ত হওয়ার খবর জানা ছিল না বলে জানিয়েছেন সরকারসংশ্লিষ্টরা। অবশ্য এখন তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল ফার্ম নিয়োগের খবর জানানো হয়। তবে শিগগিরই তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে অনেকের মধ্যে। দুদকের একটি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ একটি চিঠিতে বেনজীর আহমেদকে আটক করার তথ্য জানায় বাংলাদেশকে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফেরত আনার বিষয়ে দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ পুলিশ। মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুদক বেনজীরকে কেন ফেরত চায়, সেই ব্যাখ্যাসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠিয়েছে দুবাই পুলিশের কাছে। এর পরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করে বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে বলে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়। এর মধ্যে রোববার একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়, ৩০ মে দুবাই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর আহমেদ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্ত বেনজীরকে আদৌ ফেরত আনা যাবে কি? এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রোববার রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তাকে যেকোনো প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। জামিন বাতিলের চেষ্টা ও ল ফার্ম নিয়োগ: বেনজীর আহমেদ জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার খবরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন আদেশ যাতে আদালত বাতিল করেন, সে জন্য দুবাইয়ে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। বেনজীর আহমেদের ‘জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ওই আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) নিয়োগ করেছে।’ রোববার বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিব্যয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ দুবাই আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন এটি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদ্বূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জামিন আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল ফার্ম নিয়োগ করেছে। আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ করা ল ফার্ম এ বিষয়ে কাজ করছে।’ যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন করতে সরকার জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও কাগজপত্র আদান-প্রদান চলছে। রোববার দুপুরে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথিপত্র জানতে চেয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যগুলো ইতোমধ্যে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।’ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’ বেনজীরকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই অভিযুক্ত আসামি বেনজীর আহমেদকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে পারব। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে এ দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তার বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি আরও জানান, ‘এ বিষয়ে পরবর্তী কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ ‘বেনজীরের ইস্যুতে দুদকের কোনো গাফিলতি নেই’: দুদকের মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী জানান, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে দুদকের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। এ-সংক্রান্ত কাজে দুদকের গাফিলতি ছিল না। বেনজীরের মুক্তির বিষয়টি দুদক পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছে। তবে আইনগতভাবে যা যা করা প্রয়োজন, দুদক তা করবে। দুদক মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু আইনি পদক্ষেপের সেন্ট্রাল অথরিটি হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা স্বরাষ্ট্রে পাঠাই, সেখানে থেকে পররাষ্ট্র হয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে যায়। আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। আমাদের এখান থেকে যা যা করা দরকার, যা পাঠানো দরকার, আমরা সব করেছি। দুদক পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা এমএলএ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে তা পাঠানো হয়। বেনজীরকে দেশে ফেরাতে কি প্রক্রিয়া নিয়েছে সরকার: পুলিশ ও দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাব তৈরি করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরোতে পাঠানো হয়। ইন্টারপোল তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। এ নোটিশ বিভিন্ন দেশে থাকা ইন্টারপোলের শাখাগুলোতে পাঠানো হয়। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারপোল শাখার পুলিশ সদস্যরা। পরে তাকে দুবাই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত ১২ জুন বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরো (এনসিবি)। ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানায়, আমিরাতের ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। বেনজীরকে দুবাই পুলিশ আটক করার খবর জানার পর গত ১৬ জুন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর পর দুবাই পুলিশ বেশ কিছু প্রশ্ন করে। বেনজীরকে কেন ফেরত দিতে হবে, জানতে চায় এর যৌক্তিকতা। তবে সেই চিঠির পাল্টা যুক্তি পাঠাতে পারেনি দুদক। এনসিবি বাংলাদেশ শাখার মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর জানানোর আগেই বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর প্রকাশ পায়। প্রসঙ্গত, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলাটিতে গত বছর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সেই মামলা বিচারাধীন। এই মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করে। তার বিরুদ্ধে হওয়া অন্য পাঁচটি মামলা এখনো তদন্ত করছে দুদক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বেনজীরকে ফেরানো নিয়ে ধোঁয়াশা

Update Time : 10:25:49 pm, Sunday, 2 August 2026

দুর্নীতির মামলায় বাংলাদেশের আদালতে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর বিদেশে পলাতক সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদকে ধরতে ইন্টারপোলের মাধ্যমে রেড নোটিশ জারি হয়েছিল এক বছর আগে। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রেড নোটিশ জারির পর চলতি বছরের জুনে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদ আটকের খবর জানায় দেশটির পুলিশ। এর পরই বহুল আলোচিত পুলিশের এই সাবেক শীর্ষ কর্মকর্তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার পক্রিয়া শুরু হয়। কিন্তু মাত্র ১৮ দিনের মাথায় বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের একটি আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন নিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পান। যদিও পাসপোর্ট জমা দিয়ে অনুমতি ছাড়া দুবাই ত্যাগ না করার শর্তে মিলেছে এই জামিন। রোববার (২ আগস্ট) সকাল থেকে দুদক ও বাংলাদেশ পুলিশের কাছে বেনজীরের মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি অজানা থাকলেও বিকেলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ বিষয়ে মুখ খোলেন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার বিষয়টি জানার পর তার জামিন বাতিল করে তাকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া দ্রুত করতে দুবাইয়ে ল ফার্ম নিয়োগ করেছে সরকার। এখন প্রশ্ন উঠেছে, এত আয়োজন করে বেনজীর আহমেদকে কি আদৌ দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে? বেনজীর আহমেদকে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে শুরু করার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির। রোববার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ‘ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে তো আমরা প্রক্রিয়া শুরু করতেছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করেছে, আলাপ-আলোচনা চলছে। অগ্রগতি হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আপনাদের জানাব।’ বেনজীরের জামিনে বেরিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আরেক প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘এটা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আপনারা আপডেট পাবেন। আমি তো এইমাত্র মিটিং থেকে এলাম। আপনাদের জানানোর মতো কিছু এখনো আমি জানতে পারিনি।’ সংবাদমাধ্যমের খবর অনুসারে, দুবাইয়ের কারাগারে বন্দি সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ গত ২৭ জুলাই জামিনের জন্য দেশটির একটি আদালতে আবেদন করেন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৯ জুলাই তাকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন দেন আদালত। সব আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ৩০ জুলাই কারামুক্ত হন এই সাবেক আইজিপি। জামিনের ক্ষেত্রে আদালত শর্ত দিয়েছেন, বেনজীরের পাসপোর্ট আদালতের হেফাজতে থাকবে এবং অনুমতি ছাড়া তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না। যদিও তিনি ইউরোপের কোনো দেশে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে। আওয়ামী লীগ সরকারের শেষের দিকে দুর্নীতির অনুসন্ধান শুরুর পর দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা ছিল সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার একান্ত আস্থাভাজন বেনজীর আহমেদের ওপর। অভিযোগ রয়েছে, সে সময় পুলিশের সহায়তায়ই সপরিবারে দেশ ছাড়েন বেনজীর। এরপর থেকেই তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশে অবস্থান করতে থাকেন বলে জানা যায়। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আগের অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতির ঘটনায় একাধিক মামলা করে দুদক। এরপর গত বছর তার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলা তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দেয় দুদক। সেই মামলায় বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে দুদক আন্তর্জাতিক পুলিশি তদন্ত সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাকে গ্রেপ্তারে রেড নোটিশ জারি করে। চলতি বছরের ১২ জুন দুবাই পুলিশ বেনজীরকে গ্রেপ্তার করার বিষয়টি বাংলাদেশ সরকারকে জানালে তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু হয়। এরই মধ্যে তাকে কারাগারে পাঠানোর খবর জানা থাকলেও জামিনে মুক্ত হওয়ার খবর জানা ছিল না বলে জানিয়েছেন সরকারসংশ্লিষ্টরা। অবশ্য এখন তাকে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া ও জামিন বাতিলে দুবাইয়ে ল ফার্ম নিয়োগের খবর জানানো হয়। তবে শিগগিরই তাকে ফিরিয়ে আনা যাবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে অনেকের মধ্যে। দুদকের একটি সূত্র জানায়, গত ১২ জুন দুবাই পুলিশ একটি চিঠিতে বেনজীর আহমেদকে আটক করার তথ্য জানায় বাংলাদেশকে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে তাকে ফেরত আনার বিষয়ে দুবাই পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করে বাংলাদেশ পুলিশ। মামলার তদন্তকারী সংস্থা দুদক বেনজীরকে কেন ফেরত চায়, সেই ব্যাখ্যাসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠিয়েছে দুবাই পুলিশের কাছে। এর পরই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করে বেনজীর আহমেদকে ফেরত আনার বিষয়ে প্রক্রিয়া চলছে বলে সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়। এর মধ্যে রোববার একটি গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ করা হয়, ৩০ মে দুবাই কারাগার থেকে মুক্তি পেয়েছেন বেনজীর আহমেদ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, মুক্ত বেনজীরকে আদৌ ফেরত আনা যাবে কি? এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে রোববার রাজশাহীতে এক অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিল এবং তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ সরকার। অন্যদিকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বেনজীরকে দেশে ফেরাতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। তাকে যেকোনো প্রক্রিয়ায় দেশে ফিরিয়ে এনে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। জামিন বাতিলের চেষ্টা ও ল ফার্ম নিয়োগ: বেনজীর আহমেদ জামিন পেয়ে কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার খবরের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিন আদেশ যাতে আদালত বাতিল করেন, সে জন্য দুবাইয়ে আইনজীবী নিয়োগ করা হয়েছে। বেনজীর আহমেদের ‘জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের চেষ্টা চলছে এবং ওই আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান (ল ফার্ম) নিয়োগ করেছে।’ রোববার বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সে রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মহানগর পুলিশের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিব্যয় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ দুবাই আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন এটি আমরা শুনেছি। এ বিষয়ে দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদ্বূতের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা জামিন আদেশের সার্টিফায়েড কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছি। তার জামিন আদেশ বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি ল ফার্ম নিয়োগ করেছে। আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব। বাংলাদেশ থেকে নিয়োগ করা ল ফার্ম এ বিষয়ে কাজ করছে।’ যা বললেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী: সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার সম্পন্ন করতে সরকার জোরালো প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রয়োজনীয় যোগাযোগ ও কাগজপত্র আদান-প্রদান চলছে। রোববার দুপুরে প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বেনজীর আহমেদকে ফিরিয়ে আনার অগ্রগতি প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব তথ্য জানান। শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। আমিরাত কর্তৃপক্ষ আমাদের কাছে সুনির্দিষ্ট কিছু তথ্য ও নথিপত্র জানতে চেয়েছিল। দেশের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সেই কাঙ্ক্ষিত তথ্যগুলো ইতোমধ্যে তাদের কাছে সরবরাহ করা হয়েছে।’ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পর্কে শামা ওবায়েদ বলেন, ‘সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজস্ব আইন অনুযায়ী তারা এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা ও পদক্ষেপ নিচ্ছে। একই সঙ্গে আমাদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’ বেনজীরকে দেশে ফেরানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সব ধরনের আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আমরা আশা করছি খুব শিগগিরই অভিযুক্ত আসামি বেনজীর আহমেদকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনতে পারব। তাকে দেশে ফিরিয়ে এনে এ দেশের প্রচলিত আইনি প্রক্রিয়ায় তার বিচারকাজ সম্পন্ন করা হবে।’ তিনি আরও জানান, ‘এ বিষয়ে পরবর্তী কী ধরনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া যায়, তা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’ ‘বেনজীরের ইস্যুতে দুদকের কোনো গাফিলতি নেই’: দুদকের মহাপরিচালক মীর মো. জয়নুল আবেদীন শিবলী জানান, পুলিশের সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের দুবাইয়ে মুক্তি পাওয়ার বিষয়ে দুদকের কাছে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য নেই। এ-সংক্রান্ত কাজে দুদকের গাফিলতি ছিল না। বেনজীরের মুক্তির বিষয়টি দুদক পত্রপত্রিকার মাধ্যমে জেনেছে। তবে আইনগতভাবে যা যা করা প্রয়োজন, দুদক তা করবে। দুদক মহাপরিচালক আরও বলেন, ‘আমাদের কিছু আইনি পদক্ষেপের সেন্ট্রাল অথরিটি হলো স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আমরা স্বরাষ্ট্রে পাঠাই, সেখানে থেকে পররাষ্ট্র হয়ে সংশ্লিষ্ট দেশে যায়। আন্তঃদেশীয় অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ হিসেবে কাজ করে। আমাদের এখান থেকে যা যা করা দরকার, যা পাঠানো দরকার, আমরা সব করেছি। দুদক পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ বা এমএলএ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। সেখান থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশে তা পাঠানো হয়। বেনজীরকে দেশে ফেরাতে কি প্রক্রিয়া নিয়েছে সরকার: পুলিশ ও দুদকের একাধিক কর্মকর্তা জানান, নিয়ম অনুযায়ী বিদেশে আসামি গ্রেপ্তার হওয়ার পর তাকে সংশ্লিষ্ট দেশে ফেরাতে তদন্তকারী সংস্থা বা আদালত কর্তৃক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, এজাহার, অভিযোগপত্র এবং অপরাধের বিস্তারিত বিবরণ সংযুক্ত করে প্রস্তাব তৈরি করা হয়। এরপর স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রত্যর্পণ প্রস্তাব অনুমোদন করার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তা ইন্টারপোলের ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরোতে পাঠানো হয়। ইন্টারপোল তখন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে রেড নোটিশ জারি করে। এ নোটিশ বিভিন্ন দেশে থাকা ইন্টারপোলের শাখাগুলোতে পাঠানো হয়। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে রেড নোটিশ থাকায় তাকে গ্রেপ্তার করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের ইন্টারপোল শাখার পুলিশ সদস্যরা। পরে তাকে দুবাই পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। গত ১২ জুন বাংলাদেশ সরকারকে চিঠি দিয়ে বিষয়টি জানায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আবুধাবিস্থ ন্যাশনাল সেন্টার ব্যুরো (এনসিবি)। ওই চিঠিতে এনসিবি আবুধাবি জানায়, আমিরাতের ‘ফৌজদারি বিষয়ে আন্তর্জাতিক বিচারিক সহযোগিতা সংক্রান্ত’ ফেডারেল আইন নং ৩৯/২০০৬-এর ১১ নম্বর ধারা অনুযায়ী, গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির প্রত্যর্পণ চেয়ে বাংলাদেশকে ৩০ দিনের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক লিখিত আবেদন পাঠাতে হবে। বেনজীরকে দুবাই পুলিশ আটক করার খবর জানার পর গত ১৬ জুন তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ইংরেজি ও আরবি ভাষায় দুই ধরনের প্রত্যর্পণ প্রস্তাব স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠায় দুদক। প্রয়োজনীয় নথিপত্র পাঠানোর পর দুবাই পুলিশ বেশ কিছু প্রশ্ন করে। বেনজীরকে কেন ফেরত দিতে হবে, জানতে চায় এর যৌক্তিকতা। তবে সেই চিঠির পাল্টা যুক্তি পাঠাতে পারেনি দুদক। এনসিবি বাংলাদেশ শাখার মাধ্যমে প্রশ্নের উত্তর জানানোর আগেই বেনজীর আহমেদের জামিনে মুক্তি পাওয়ার খবর প্রকাশ পায়। প্রসঙ্গত, দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং পাসপোর্ট জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগে বেনজীর আহমেদ ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত ছয়টি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এর মধ্যে ১২ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে করা মামলাটিতে গত বছর অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। সেই মামলা বিচারাধীন। এই মামলার বাদী দুদকের উপপরিচালক মোহাম্মদ জয়নাল আবেদিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইন্টারপোলে রেড নোটিশ ইস্যু করে। তার বিরুদ্ধে হওয়া অন্য পাঁচটি মামলা এখনো তদন্ত করছে দুদক।