8:11 pm, Saturday, 1 August 2026

ইসরায়েলের শহর হাইফার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের পক্ষে লন্ডনের শহর হ্যাকনি

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:50:49 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইসরায়েলের শহর হাইফার সঙ্গে প্রায় ৬০ বছরের যমজ শহর সম্পর্ক (টুইনিং অ্যাগ্রিমেন্ট) ছিন্ন করার পক্ষে ভোট দিয়েছে পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনি কাউন্সিল। গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে গ্রিন পার্টি-নিয়ন্ত্রিত কাউন্সিলটি। ইসরায়েলের অন্যতম প্রগতিশীল শহর হিসেবে পরিচিত হাইফার সঙ্গে ১৯৬৮ সালে হ্যাকনির এই সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। তবে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সম্পর্কটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলটি আগামী ৭ অক্টোবর—ইসরায়েলে হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকীর দিনে—এই সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি আয়োজন করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকেরা এটিকে ‘অসংবেদনশীল’ ও ‘উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেন। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টি ক্ষমতায় আসার পর কাউন্সিল এই উদ্যোগ নেয়। তবে সমালোচনার মুখে তাদের গণশুনানির সময় পরিবর্তন করতে এবং এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়। ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বোর্ড অব ডেপুটিজের সভাপতি ফিল রোজেনবার্গ হ্যাকনির গ্রিন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘অজ্ঞতা ও গোঁড়ামি’ প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হাইফা একটি বৈচিত্র্যময় শহর, যা জাতিগত ও ধর্মীয় সহাবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। শহরটি একজন প্রগতিশীল মেয়রের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং এর কাউন্সিলে গ্রিন, আরব ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাকনি গ্রিনস যদি সত্যিই শান্তির প্রতি আগ্রহী হতো, তাহলে তারা হাইফাকে উদ্‌যাপন করত, নিন্দা করত না। এই ভোট যুক্তির চেয়ে বিদ্বেষকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিফলন।’ গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পূর্ণ কাউন্সিল সভায় ১৯৬৮ সালের যমজ শহর চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার পক্ষে ভোট দেওয়া হয়। হ্যাকনির মেয়র জো গারবেট বলেন, জাতিসংঘের একটি কমিশন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনার পর কাউন্সিল এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি কাউন্সিল হিসেবে আমরা কারা, আমরা কী সমর্থন করি, কার সঙ্গে কাজ করি এবং এসব বিষয় আমাদের পরিচয় সম্পর্কে কী বলে—এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।’ এদিকে কনজারভেটিভ কাউন্সিলর সিমশে স্টাইনবার্গার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই পুরো বিষয়টির একমাত্র বিজয়ী হবে হাইফা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি যদি হাইফা হতাম, তাহলে হ্যাকনির সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক বজায় রাখতে লজ্জা বোধ করতাম।’ তিনি অভিযোগ করেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কাউন্সিলের ইহুদি সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। লেবার পার্টির কাউন্সিলর বেন লুকাস বলেন, ‘প্রায় ৬০ বছর আগে ১৯৬৮ সালে বাসিন্দাদের উদ্যোগে হাইফার সঙ্গে এই যমজ শহর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এটি শ্রমিক শ্রেণির সংহতি, বহু ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতা এবং বিশেষ করে চিকিৎসা সহযোগিতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সম্পর্ক শেষ করা সংহতির পরিবর্তে বন্ধুদের পরিত্যাগ করার বার্তা দেয়। এটি সংলাপ ও জবাবদিহিতার পথকে দুর্বল করে এবং শুধু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।’ গত বুধবার রাতে বেন লুকাস জানান, ৭ অক্টোবর গণশুনানি শেষ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। হলোকাস্ট-পরবর্তী বিষয় নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সাবেক বিশেষ দূত লর্ড পিকলস বলেন, ‘হলোকাস্টের পর ইহুদিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞের বার্ষিকীতে এই পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ করার সিদ্ধান্ত হয় উসকানিমূলক, নয়তো চরম অসংবেদনশীল।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবেই দেখা হোক না কেন, এটি গ্রিন পার্টির জন্য একটি নতুন নিম্ন পর্যায়।’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

চুনারুঘাটে ৫২ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক

ইসরায়েলের শহর হাইফার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নের পক্ষে লন্ডনের শহর হ্যাকনি

Update Time : 06:50:49 pm, Saturday, 1 August 2026

ইসরায়েলের শহর হাইফার সঙ্গে প্রায় ৬০ বছরের যমজ শহর সম্পর্ক (টুইনিং অ্যাগ্রিমেন্ট) ছিন্ন করার পক্ষে ভোট দিয়েছে পূর্ব লন্ডনের হ্যাকনি কাউন্সিল। গাজা যুদ্ধের প্রতিবাদ হিসেবে এই পদক্ষেপ নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে গ্রিন পার্টি-নিয়ন্ত্রিত কাউন্সিলটি। ইসরায়েলের অন্যতম প্রগতিশীল শহর হিসেবে পরিচিত হাইফার সঙ্গে ১৯৬৮ সালে হ্যাকনির এই সম্পর্ক স্থাপিত হয়েছিল। তবে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে প্রতিবাদের অংশ হিসেবে সম্পর্কটি বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কাউন্সিলটি আগামী ৭ অক্টোবর—ইসরায়েলে হামাসের হামলার তৃতীয় বার্ষিকীর দিনে—এই সম্পর্ক ছিন্ন করার প্রস্তাব নিয়ে গণশুনানি আয়োজন করায় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়ে। সমালোচকেরা এটিকে ‘অসংবেদনশীল’ ও ‘উসকানিমূলক’ বলে অভিহিত করেন। মে মাসের স্থানীয় নির্বাচনে গ্রিন পার্টি ক্ষমতায় আসার পর কাউন্সিল এই উদ্যোগ নেয়। তবে সমালোচনার মুখে তাদের গণশুনানির সময় পরিবর্তন করতে এবং এ বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করতে হয়। ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন বোর্ড অব ডেপুটিজের সভাপতি ফিল রোজেনবার্গ হ্যাকনির গ্রিন নেতৃত্বের বিরুদ্ধে ‘অজ্ঞতা ও গোঁড়ামি’ প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেন, ‘হাইফা একটি বৈচিত্র্যময় শহর, যা জাতিগত ও ধর্মীয় সহাবস্থানের একটি উদাহরণ হিসেবে পরিচিত। শহরটি একজন প্রগতিশীল মেয়রের নেতৃত্বে পরিচালিত হয় এবং এর কাউন্সিলে গ্রিন, আরব ও কমিউনিস্ট পার্টির প্রতিনিধিরাও রয়েছেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘হ্যাকনি গ্রিনস যদি সত্যিই শান্তির প্রতি আগ্রহী হতো, তাহলে তারা হাইফাকে উদ্‌যাপন করত, নিন্দা করত না। এই ভোট যুক্তির চেয়ে বিদ্বেষকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রতিফলন।’ গত মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত পূর্ণ কাউন্সিল সভায় ১৯৬৮ সালের যমজ শহর চুক্তি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করার পক্ষে ভোট দেওয়া হয়। হ্যাকনির মেয়র জো গারবেট বলেন, জাতিসংঘের একটি কমিশন ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ আনার পর কাউন্সিল এই পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি বলেন, ‘একটি কাউন্সিল হিসেবে আমরা কারা, আমরা কী সমর্থন করি, কার সঙ্গে কাজ করি এবং এসব বিষয় আমাদের পরিচয় সম্পর্কে কী বলে—এই সিদ্ধান্ত তারই প্রতিফলন।’ এদিকে কনজারভেটিভ কাউন্সিলর সিমশে স্টাইনবার্গার এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেন, ‘এই পুরো বিষয়টির একমাত্র বিজয়ী হবে হাইফা। বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি যদি হাইফা হতাম, তাহলে হ্যাকনির সঙ্গে এমন একটি সম্পর্ক বজায় রাখতে লজ্জা বোধ করতাম।’ তিনি অভিযোগ করেন, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে কাউন্সিলের ইহুদি সদস্যদের সঙ্গে যথাযথ আলোচনা করা হয়নি। লেবার পার্টির কাউন্সিলর বেন লুকাস বলেন, ‘প্রায় ৬০ বছর আগে ১৯৬৮ সালে বাসিন্দাদের উদ্যোগে হাইফার সঙ্গে এই যমজ শহর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এটি শ্রমিক শ্রেণির সংহতি, বহু ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীর সহযোগিতা এবং বিশেষ করে চিকিৎসা সহযোগিতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছিল।’ তিনি আরও বলেন, ‘এই সম্পর্ক শেষ করা সংহতির পরিবর্তে বন্ধুদের পরিত্যাগ করার বার্তা দেয়। এটি সংলাপ ও জবাবদিহিতার পথকে দুর্বল করে এবং শুধু সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা বাড়াতে পারে।’ গত বুধবার রাতে বেন লুকাস জানান, ৭ অক্টোবর গণশুনানি শেষ করার সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তিনি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছেন। হলোকাস্ট-পরবর্তী বিষয় নিয়ে যুক্তরাজ্য সরকারের সাবেক বিশেষ দূত লর্ড পিকলস বলেন, ‘হলোকাস্টের পর ইহুদিদের বিরুদ্ধে সংঘটিত সবচেয়ে বড় হত্যাযজ্ঞের বার্ষিকীতে এই পরামর্শ প্রক্রিয়া শেষ করার সিদ্ধান্ত হয় উসকানিমূলক, নয়তো চরম অসংবেদনশীল।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেভাবেই দেখা হোক না কেন, এটি গ্রিন পার্টির জন্য একটি নতুন নিম্ন পর্যায়।’