12:43 am, Sunday, 2 August 2026

কংক্রিটের মাথায় সবুজ স্বপ্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:16:13 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকা শহরে হাঁটতে গেলে পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পাওয়া কষ্ট। দিনকে দিন খোলা জায়গা কমছে, জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে, গাছের স্থান দখল করছে কংক্রিট। শহর যত উঁচু হচ্ছে, যত বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে, ততই এর নিচে চাপা পড়ছে প্রকৃতি। অথচ এই কংক্রিটের শহরের মাথার ওপরই তৈরি করা সম্ভব আরেকটি শহর, সবুজের শহর। এটি যে হচ্ছে না, তা নয়। তবে কচ্ছপ গতিতে। শৌখিন গতিতে, বাণিজ্যিক হিসেবে নয়। ভবনের ছাদে ছাদে টব, বেড, লতাগুল্ম, ফলের গাছ, সবজি, ফুল করে বাণিজ্যিক চাহিদাও মেটানো সম্ভব। আশার দিকটা হচ্ছে, কিছু কিছু ভবনে দেখা যায়— কোথাও বৃষ্টির পানি ধরে রাখা হচ্ছে, কোথাও রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট থেকে তৈরি হচ্ছে কম্পোস্ট। ফুল ফুটতেই আসছে মৌমাছি, প্রজাপতি। ফলের গাছে দেখা মিলছে পাখির। কোনো কোনো ছাদে উৎপাদিত সবজি যাচ্ছে পরিবারের রান্নাঘরে। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করে এগোলেই অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করে অর্থ আয়ও সম্ভব স্থানীয় বাজার থেকে। নগর পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে কথা বললে তারাই এভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, একটু সচেতন হলেই ছাদে ছাদে গড়ে উঠতে পারে ক্ষুদ্র ইকোসিস্টেম— কমতে পারে অসহনীয় তাপ, উৎপাদন হতে পারে খাবারের উপাদান এবং সর্বশেষে একটি নতুন বাজার। আশার আলো দেখিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলেন, ছাদ এখন আর কেবল ভবনের শেষ প্রান্ত নয়। এটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে পারে শহরের ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্র, খাদ্য উৎপাদন কেন্দ্র এবং নতুন সবুজ অর্থনীতির ক্ষেত্র। কিন্তু এই সবুজ পরিবর্তনের আড়ালে রয়েছে একাধিক অজানা প্রশ্ন। ঢাকার কত ছাদে এখন বাগান হচ্ছে? কত ভবন এই সবুজ অবকাঠামোর আওতায় এসেছে? এতে ভবনের তাপমাত্রা বাস্তবে কতটা কমছে? বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে কি? ছাদবাগান ঘিরে বছরে কত টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়েছে? কত মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত? আর এই বাগানগুলো কি সত্যিই শহরের জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনছে? সরকারিভাবে এই নজরদারি আর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে সেটা কার্যকর করা গেলে আসলেই আমরা একটা সুন্দর বাস্তবতা খুঁজে পাব। কংক্রিটের শহরের ওপর ধীরে ধীরে জন্ম নেবে এক অদৃশ্য সবুজ অর্থনীতি। তারা আরও বলেন, পরিকল্পিত ছাদবাগানে যখন গাছ, মাটি, পানি, জৈব সার, অণুজীব, পোকামাকড় ও পাখির মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন সেটি নগরের বৃহত্তর পরিবেশব্যবস্থার ক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয়। ফুলের গাছে আসে মৌমাছি ও প্রজাপতি। ফল ও বীজের গাছ আকৃষ্ট করে পাখিকে। জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি হয় কম্পোস্ট। সেই কম্পোস্ট যায় গাছের গোড়ায়। গাছ দেয় খাদ্য, ছায়া ও সবুজ আচ্ছাদন। একটি ছোট ছাদেই তৈরি হতে পারে প্রকৃতির একটি ক্ষুদ্র চক্র। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ সার্থকভাবে সম্পন্ন হলে দেখা যাবে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট সূর্যের তাপ শোষণ করে ধরে রাখছে। ফলে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের অপেক্ষাকৃত সবুজ এলাকার তুলনায় বেশি অনুভূত হতে পারে। সবুজ ছাদও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গাছের ছায়া এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ছাদের পৃষ্ঠে সরাসরি সূর্যতাপের প্রভাব কমানো সম্ভব। ফলে ভবনের ওপর তাপের চাপও কমতে পারে। কিন্তু এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকারের উদ্যোগ এবং সরেজমিনে বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ। একই এলাকায় পাশাপাশি দুটি ভবন। একটির ছাদ কংক্রিটে ঢাকা, অন্যটির ছাদ সবুজ। একই সময়ে দুই ছাদের পৃষ্ঠতাপমাত্রা পরিমাপ করলে পাওয়া যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পৃষ্ঠতাপমাত্রা, ছাদের আর্দ্রতা, সবুজ আচ্ছাদনের পরিমাণ এবং ভবনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনামূলক তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। তখনই বোঝা যাবে— ছাদবাগান কি শুধু সৌন্দর্য, নাকি সত্যিই নগরের তাপ মোকাবিলায় কার্যকর একটি অবকাঠামো? রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, শুধু শৌখিনভাবে বা শখের বশে নয়, বাণিজ্যিকভাবেও অনেক এলাকায় ছাদবাগান তৈরি হতে শুরু হয়েছে। ছাদে জন্ম নিচ্ছে সবুজ অর্থনীতি। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নার্সারি ব্যবসা, বীজ ও চারা বিক্রি, টব ও প্ল্যান্টার তৈরি, মাটি ও জৈব সার সরবরাহ, কম্পোস্ট উৎপাদন, ছাদবাগান ডিজাইন, সেচব্যবস্থা স্থাপন, বাগান রক্ষণাবেক্ষণ, জৈব কীটনাশক, হাইড্রোপনিক ও ভার্টিক্যাল গার্ডেন। অর্থাৎ, একটি ছাদে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্তের পেছনে তৈরি হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা। একজন ব্যক্তি হয়তো একটি ছাদবাগান তৈরি করছেন। কিন্তু তার পেছনে কাজ করছেন নার্সারির কর্মী, চারা উৎপাদক, টব প্রস্তুতকারী, মাটি সরবরাহকারী, পরিবহনকর্মী এবং বাগান পরিচর্যাকারী। এখানেই ছাদবাগান পরিণত হচ্ছে সবুজ অর্থনীতির ক্ষুদ্র কিন্তু সম্ভাবনাময় খাতে। তবে এই খাতের প্রকৃত আকার এখনো অজানা। নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ নূর-ই খোদা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকায় ছাদবাগানকে কেন্দ্র করে বছরে কত টাকার ব্যবসা হয়— এ প্রশ্নের কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব আছে কি? নেই। ঢাকার কত শতাংশ ভবনের বা কতটি ভবনে ছাদবাগান আছে— এই সংখ্যা কারও কাছে আছে কি? নেই। এ বিষয়টিই এখন ভাবতে হবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন হয়তো কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেটা কাগজেই সীমাবদ্ধ। কার্যকর হচ্ছে না। মোহাম্মদ নূর-ই খোদা আরও বলেন, একটি ছাদ হয়তো একটি বন নয়। কিন্তু একশটি, এক হাজারটি ছাদ যদি পরস্পরের কাছাকাছি ছোট ছোট সবুজ দ্বীপে পরিণত হয়, তাহলে সেগুলো নগরের বিচ্ছিন্ন সবুজ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি সম্ভাব্য পরিবেশগত সংযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশে কতটা গবেষণা হয়েছে? কিছুই হয়নি। কোন গাছ সবচেয়ে বেশি পাখি আকর্ষণ করে? কোন ফুলে বেশি মৌমাছি আসে? কোন ধরনের ছাদবাগান জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে কার্যকর? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পর্যাপ্তভাবে জানা নেই। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। মনে রাখতে হবে, শহর থেকে সবুজ কমলে শুধু মানুষ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পোকামাকড় ও পাখিরাও। পরিকল্পিত ছাদবাগান সেই সংকট কিছুটা মোকাবিলা করতে পারে। বিশেষ করে দেশি ফুল ও ফলের গাছ থাকলে সেখানে পরাগায়নকারী পোকামাকড়ের উপস্থিতি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, একটি ছাদবাগান থেকে উৎপাদিত কয়েক কেজি মরিচ, ধনেপাতা, লেবু কিংবা শাক হয়তো একটি পরিবারের মাসিক বাজারের বড় অংশ পূরণ করবে না। কিন্তু হাজার হাজার পরিবার একইভাবে উৎপাদন করলে চিত্র বদলে যেতে পারে। এটি হতে পারে মাইক্রো-ফুড প্রোডাকশন—শহরের ভেতরেই ক্ষুদ্র পরিসরে খাদ্য উৎপাদন। স্থপতি ইকবাল হাবিব, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক। জন্ম ১৯৬৩ সালে। পড়াশোনা করেছেন বুয়েটের স্থাপত্যবিদ্যায়। ঢাকার হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেক, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনসহ অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের অন্যতম ডিজাইনার তিনি। এ ছাড়া পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। আরেকজন হচ্ছেন আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, স্বনামধন্য পরিকল্পনাবিদ। তাদের দুজনেরই অভিন্ন বক্তব্য—শহরের তাপমাত্রা কমাতে ছাদবাগান তৈরি, খালি জায়গায় সবুজায়নসহ নগর কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, ‘যত বেশি ছাদবাগান ও খোলা স্থানে সবুজায়ন হবে, ততই আমাদের শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাই আমাদের সবারই আরবান অ্যাগ্রিকালচারে এগিয়ে আসা দরকার। আমাদের শহরে ভবন বাড়ছে, রাস্তা বাড়ছে, নির্মাণ এলাকা বাড়ছে। তাই অবশ্যই সবুজায়ন নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ আমাদের তাপমাত্রা মরুভূমির মতো হয়ে যাচ্ছে।’ তাঁরা বলেন, শহরের প্রায় সব বাসিন্দার মধ্যেই কৃষির প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তাঁরা কোথাও সামান্য সুযোগ পেলেই গাছ লাগানোর চেষ্টা করেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধানমন্ডির ৩৯ শতাংশ এবং লালমাটিয়ার ৩৬ শতাংশ ভবনে রুফটপ গার্ডেন রয়েছে। উত্তরায় এ হার আরও বেশি। তবে কিছু ভবনের মালিক ছাদবাগানের অনুমতি দিতে চান না। তাঁদের দাবি, ছাদবাগানে ছাদ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ছাদবাগানের জন্য ছাদ প্রস্তুত করা কঠিন কোনো বিষয় নয়। বরং ছাদবাগান ভবনের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ছাদবাগান নিয়ে আমাদের একটি পরিকল্পনা করা দরকার। অনেকেই ছাদ নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে ছাদবাগান করতে চান না। কিন্তু ছাদবাগান যে ভবনকে শীতল রাখতে সহায়তা করে, সেটি আরও বেশি করে প্রচার করতে হবে। পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইমতিয়াজ আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকার প্রতিটি ছাদকে বাগানে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যেসব ছাদ বাগানের উপযোগী, সেগুলোকে কি শহরের জলবায়ু পরিকল্পনার অংশ করা যায় না? বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সবুজ ছাদ, রুফ গার্ডেন ও আরবান ফার্মিং নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ রয়েছে। বাংলাদেশে এই ধারণা এখনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য প্রয়োজন ছাদ জরিপ, ভবনের নিরাপত্তা যাচাই, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দেশীয় উদ্ভিদ রোপণ, কমিউনিটি রুফ গার্ডেন এবং সবুজ ছাদের জন্য প্রণোদনা। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তথ্য। ঢাকায় কত ছাদ আছে, তার কতটুকু ব্যবহারযোগ্য, কতটুকু সবুজ, কতটুকু বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে পারে—এসব তথ্য ছাড়া কোনো বড় পরিকল্পনা কার্যকর করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে রাজউক ও সিটি করপোরেশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঢাকার বহু মানুষ এমন ভবনে থাকেন, যেখানে ছাদের ওপর তাদের কোনো অধিকার নেই। কোথাও ছাদ তালাবদ্ধ, কোথাও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত, আবার কোথাও নিরাপত্তাজনিত কারণে সাধারণ বাসিন্দাদের প্রবেশ সীমিত। ফলে প্রশ্ন ওঠে, ছাদবাগানের সুবিধা কি কেবল সামর্থ্যবানদের জন্য? যদি তাই হয়, তবে এটি শহরের পরিবেশগত বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে। এর সমাধান হতে পারে কমিউনিটি রুফ গার্ডেন। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি ভবন, আবাসিক সমিতি ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ পরিকল্পিতভাবে সবুজ করা হলে সেখানে বহু মানুষ অংশ নিতে পারবেন। উৎপাদিত খাদ্য ব্যবহার করা যাবে। অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করে বাগানের খরচও মেটানো সম্ভব হবে। তখন ছাদবাগান পরিবারের অর্থনৈতিক সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য শুধু গাছ লাগানোর উৎসাহ নয়; প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, অর্থনৈতিক হিসাব এবং নাগরিক অংশগ্রহণ। আজ যে ছাদ কংক্রিটের তাপে আগুন হয়ে ওঠে, আগামীকাল সেই ছাদই হয়তো হয়ে উঠতে পারে শহরের সবচেয়ে ছোট সবুজ বন। তিনি আরও বলেন, ছাদবাগানের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছাদে বাগান করলে পানি ব্যবহারের কারণে বাড়ির দেয়াল ও মেঝে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে ওয়াটারপ্রুফিং সলিউশন। বাগান করার আগে ওয়াটারপ্রুফিং সলিউশন দিয়ে দেয়াল ও মেঝের ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিলে সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘোষণা দিয়েছে, ছাদে বাগান করলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি ছাদে বাগান করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা—মাটি, টব ও সার—দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সিটি করপোরেশন। ঢাকা শহরকে সবুজায়নের লক্ষ্যে বাসাবাড়ির ছাদ ও বারান্দায় রুফ গার্ডেন গড়ে তোলার জন্য একসময় প্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু কালের প্রবাহে সেই উদ্যোগ অনেকটাই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। শহরকে রক্ষা করতে হলে এখন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পরিকল্পনা নেওয়ার চেয়ে তার বাস্তবায়নই বেশি জরুরি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কংক্রিটের মাথায় সবুজ স্বপ্ন

Update Time : 11:16:13 pm, Saturday, 1 August 2026

ঢাকা শহরে হাঁটতে গেলে পায়ের তলায় মাটি খুঁজে পাওয়া কষ্ট। দিনকে দিন খোলা জায়গা কমছে, জলাভূমি হারিয়ে যাচ্ছে, গাছের স্থান দখল করছে কংক্রিট। শহর যত উঁচু হচ্ছে, যত বহুতল ভবন নির্মাণ হচ্ছে, ততই এর নিচে চাপা পড়ছে প্রকৃতি। অথচ এই কংক্রিটের শহরের মাথার ওপরই তৈরি করা সম্ভব আরেকটি শহর, সবুজের শহর। এটি যে হচ্ছে না, তা নয়। তবে কচ্ছপ গতিতে। শৌখিন গতিতে, বাণিজ্যিক হিসেবে নয়। ভবনের ছাদে ছাদে টব, বেড, লতাগুল্ম, ফলের গাছ, সবজি, ফুল করে বাণিজ্যিক চাহিদাও মেটানো সম্ভব। আশার দিকটা হচ্ছে, কিছু কিছু ভবনে দেখা যায়— কোথাও বৃষ্টির পানি ধরে রাখা হচ্ছে, কোথাও রান্নাঘরের উচ্ছিষ্ট থেকে তৈরি হচ্ছে কম্পোস্ট। ফুল ফুটতেই আসছে মৌমাছি, প্রজাপতি। ফলের গাছে দেখা মিলছে পাখির। কোনো কোনো ছাদে উৎপাদিত সবজি যাচ্ছে পরিবারের রান্নাঘরে। কিন্তু একটু পরিকল্পনা করে এগোলেই অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করে অর্থ আয়ও সম্ভব স্থানীয় বাজার থেকে। নগর পরিকল্পনাবিদদের সঙ্গে কথা বললে তারাই এভাবে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। তারা মনে করেন, একটু সচেতন হলেই ছাদে ছাদে গড়ে উঠতে পারে ক্ষুদ্র ইকোসিস্টেম— কমতে পারে অসহনীয় তাপ, উৎপাদন হতে পারে খাবারের উপাদান এবং সর্বশেষে একটি নতুন বাজার। আশার আলো দেখিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদরা বলেন, ছাদ এখন আর কেবল ভবনের শেষ প্রান্ত নয়। এটি ধীরে ধীরে হয়ে উঠতে পারে শহরের ক্ষুদ্র বাস্তুতন্ত্র, খাদ্য উৎপাদন কেন্দ্র এবং নতুন সবুজ অর্থনীতির ক্ষেত্র। কিন্তু এই সবুজ পরিবর্তনের আড়ালে রয়েছে একাধিক অজানা প্রশ্ন। ঢাকার কত ছাদে এখন বাগান হচ্ছে? কত ভবন এই সবুজ অবকাঠামোর আওতায় এসেছে? এতে ভবনের তাপমাত্রা বাস্তবে কতটা কমছে? বিদ্যুৎ সাশ্রয় হচ্ছে কি? ছাদবাগান ঘিরে বছরে কত টাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড তৈরি হয়েছে? কত মানুষ সরাসরি বা পরোক্ষভাবে এর সঙ্গে যুক্ত? আর এই বাগানগুলো কি সত্যিই শহরের জীববৈচিত্র্য ফিরিয়ে আনছে? সরকারিভাবে এই নজরদারি আর বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়ে সেটা কার্যকর করা গেলে আসলেই আমরা একটা সুন্দর বাস্তবতা খুঁজে পাব। কংক্রিটের শহরের ওপর ধীরে ধীরে জন্ম নেবে এক অদৃশ্য সবুজ অর্থনীতি। তারা আরও বলেন, পরিকল্পিত ছাদবাগানে যখন গাছ, মাটি, পানি, জৈব সার, অণুজীব, পোকামাকড় ও পাখির মধ্যে একটি পারস্পরিক সম্পর্ক তৈরি হয়, তখন সেটি নগরের বৃহত্তর পরিবেশব্যবস্থার ক্ষুদ্র অংশে পরিণত হয়। ফুলের গাছে আসে মৌমাছি ও প্রজাপতি। ফল ও বীজের গাছ আকৃষ্ট করে পাখিকে। জৈব বর্জ্য থেকে তৈরি হয় কম্পোস্ট। সেই কম্পোস্ট যায় গাছের গোড়ায়। গাছ দেয় খাদ্য, ছায়া ও সবুজ আচ্ছাদন। একটি ছোট ছাদেই তৈরি হতে পারে প্রকৃতির একটি ক্ষুদ্র চক্র। একই সঙ্গে এই উদ্যোগ সার্থকভাবে সম্পন্ন হলে দেখা যাবে, ঢাকার মতো ঘনবসতিপূর্ণ শহরে কংক্রিট ও অ্যাসফল্ট সূর্যের তাপ শোষণ করে ধরে রাখছে। ফলে শহরের তাপমাত্রা আশপাশের অপেক্ষাকৃত সবুজ এলাকার তুলনায় বেশি অনুভূত হতে পারে। সবুজ ছাদও এই পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গাছের ছায়া এবং বাষ্পীভবনের মাধ্যমে ছাদের পৃষ্ঠে সরাসরি সূর্যতাপের প্রভাব কমানো সম্ভব। ফলে ভবনের ওপর তাপের চাপও কমতে পারে। কিন্তু এসব স্বপ্ন বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজন সরকারের উদ্যোগ এবং সরেজমিনে বৈজ্ঞানিক পদক্ষেপ। একই এলাকায় পাশাপাশি দুটি ভবন। একটির ছাদ কংক্রিটে ঢাকা, অন্যটির ছাদ সবুজ। একই সময়ে দুই ছাদের পৃষ্ঠতাপমাত্রা পরিমাপ করলে পাওয়া যেতে পারে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য। পৃষ্ঠতাপমাত্রা, ছাদের আর্দ্রতা, সবুজ আচ্ছাদনের পরিমাণ এবং ভবনের বিদ্যুৎ ব্যবহারের তুলনামূলক তথ্য সংগ্রহ করা যেতে পারে। তখনই বোঝা যাবে— ছাদবাগান কি শুধু সৌন্দর্য, নাকি সত্যিই নগরের তাপ মোকাবিলায় কার্যকর একটি অবকাঠামো? রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে এবং খোঁজখবর নিয়ে জানা গেছে, শুধু শৌখিনভাবে বা শখের বশে নয়, বাণিজ্যিকভাবেও অনেক এলাকায় ছাদবাগান তৈরি হতে শুরু হয়েছে। ছাদে জন্ম নিচ্ছে সবুজ অর্থনীতি। এর সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নার্সারি ব্যবসা, বীজ ও চারা বিক্রি, টব ও প্ল্যান্টার তৈরি, মাটি ও জৈব সার সরবরাহ, কম্পোস্ট উৎপাদন, ছাদবাগান ডিজাইন, সেচব্যবস্থা স্থাপন, বাগান রক্ষণাবেক্ষণ, জৈব কীটনাশক, হাইড্রোপনিক ও ভার্টিক্যাল গার্ডেন। অর্থাৎ, একটি ছাদে গাছ লাগানোর সিদ্ধান্তের পেছনে তৈরি হচ্ছে একটি সম্পূর্ণ সরবরাহব্যবস্থা। একজন ব্যক্তি হয়তো একটি ছাদবাগান তৈরি করছেন। কিন্তু তার পেছনে কাজ করছেন নার্সারির কর্মী, চারা উৎপাদক, টব প্রস্তুতকারী, মাটি সরবরাহকারী, পরিবহনকর্মী এবং বাগান পরিচর্যাকারী। এখানেই ছাদবাগান পরিণত হচ্ছে সবুজ অর্থনীতির ক্ষুদ্র কিন্তু সম্ভাবনাময় খাতে। তবে এই খাতের প্রকৃত আকার এখনো অজানা। নগর পরিকল্পনাবিদ মোহাম্মদ নূর-ই খোদা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকায় ছাদবাগানকে কেন্দ্র করে বছরে কত টাকার ব্যবসা হয়— এ প্রশ্নের কোনো পূর্ণাঙ্গ সরকারি হিসাব আছে কি? নেই। ঢাকার কত শতাংশ ভবনের বা কতটি ভবনে ছাদবাগান আছে— এই সংখ্যা কারও কাছে আছে কি? নেই। এ বিষয়টিই এখন ভাবতে হবে। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন হয়তো কিছু উদ্যোগ নিয়েছে। কিন্তু সেটা কাগজেই সীমাবদ্ধ। কার্যকর হচ্ছে না। মোহাম্মদ নূর-ই খোদা আরও বলেন, একটি ছাদ হয়তো একটি বন নয়। কিন্তু একশটি, এক হাজারটি ছাদ যদি পরস্পরের কাছাকাছি ছোট ছোট সবুজ দ্বীপে পরিণত হয়, তাহলে সেগুলো নগরের বিচ্ছিন্ন সবুজ অঞ্চলগুলোর মধ্যে একটি সম্ভাব্য পরিবেশগত সংযোগ তৈরি করতে পারে। কিন্তু এই সম্ভাবনা নিয়ে বাংলাদেশে কতটা গবেষণা হয়েছে? কিছুই হয়নি। কোন গাছ সবচেয়ে বেশি পাখি আকর্ষণ করে? কোন ফুলে বেশি মৌমাছি আসে? কোন ধরনের ছাদবাগান জীববৈচিত্র্যের জন্য সবচেয়ে কার্যকর? এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো পর্যাপ্তভাবে জানা নেই। এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হবে। মনে রাখতে হবে, শহর থেকে সবুজ কমলে শুধু মানুষ নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হয় পোকামাকড় ও পাখিরাও। পরিকল্পিত ছাদবাগান সেই সংকট কিছুটা মোকাবিলা করতে পারে। বিশেষ করে দেশি ফুল ও ফলের গাছ থাকলে সেখানে পরাগায়নকারী পোকামাকড়ের উপস্থিতি বাড়তে পারে। তিনি বলেন, একটি ছাদবাগান থেকে উৎপাদিত কয়েক কেজি মরিচ, ধনেপাতা, লেবু কিংবা শাক হয়তো একটি পরিবারের মাসিক বাজারের বড় অংশ পূরণ করবে না। কিন্তু হাজার হাজার পরিবার একইভাবে উৎপাদন করলে চিত্র বদলে যেতে পারে। এটি হতে পারে মাইক্রো-ফুড প্রোডাকশন—শহরের ভেতরেই ক্ষুদ্র পরিসরে খাদ্য উৎপাদন। স্থপতি ইকবাল হাবিব, নগর পরিকল্পনাবিদ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক। জন্ম ১৯৬৩ সালে। পড়াশোনা করেছেন বুয়েটের স্থাপত্যবিদ্যায়। ঢাকার হাতিরঝিল, ধানমন্ডি লেক, টুঙ্গিপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর সমাধি কমপ্লেক্স, কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনসহ অসংখ্য দৃষ্টিনন্দন স্থাপত্যের অন্যতম ডিজাইনার তিনি। এ ছাড়া পরিবেশ ও সামাজিক আন্দোলনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয়ভাবে যুক্ত আছেন। আরেকজন হচ্ছেন আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, স্বনামধন্য পরিকল্পনাবিদ। তাদের দুজনেরই অভিন্ন বক্তব্য—শহরের তাপমাত্রা কমাতে ছাদবাগান তৈরি, খালি জায়গায় সবুজায়নসহ নগর কৃষিকে গুরুত্ব দিতে হবে। তাদের মতে, ‘যত বেশি ছাদবাগান ও খোলা স্থানে সবুজায়ন হবে, ততই আমাদের শহরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকবে। তাই আমাদের সবারই আরবান অ্যাগ্রিকালচারে এগিয়ে আসা দরকার। আমাদের শহরে ভবন বাড়ছে, রাস্তা বাড়ছে, নির্মাণ এলাকা বাড়ছে। তাই অবশ্যই সবুজায়ন নিয়ে ভাবতে হবে। কারণ আমাদের তাপমাত্রা মরুভূমির মতো হয়ে যাচ্ছে।’ তাঁরা বলেন, শহরের প্রায় সব বাসিন্দার মধ্যেই কৃষির প্রতি আগ্রহ রয়েছে। তাঁরা কোথাও সামান্য সুযোগ পেলেই গাছ লাগানোর চেষ্টা করেন। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, ধানমন্ডির ৩৯ শতাংশ এবং লালমাটিয়ার ৩৬ শতাংশ ভবনে রুফটপ গার্ডেন রয়েছে। উত্তরায় এ হার আরও বেশি। তবে কিছু ভবনের মালিক ছাদবাগানের অনুমতি দিতে চান না। তাঁদের দাবি, ছাদবাগানে ছাদ নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু ছাদবাগানের জন্য ছাদ প্রস্তুত করা কঠিন কোনো বিষয় নয়। বরং ছাদবাগান ভবনের তাপমাত্রা কমাতে সাহায্য করে। ইন্ডিপেন্ডেন্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. হাফিজুর রহমান বলেন, ছাদবাগান নিয়ে আমাদের একটি পরিকল্পনা করা দরকার। অনেকেই ছাদ নষ্ট হয়ে যাবে ভেবে ছাদবাগান করতে চান না। কিন্তু ছাদবাগান যে ভবনকে শীতল রাখতে সহায়তা করে, সেটি আরও বেশি করে প্রচার করতে হবে। পরিবেশ ও নগর পরিকল্পনাবিদ ইমতিয়াজ আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ঢাকার প্রতিটি ছাদকে বাগানে রূপান্তর করা সম্ভব নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যেসব ছাদ বাগানের উপযোগী, সেগুলোকে কি শহরের জলবায়ু পরিকল্পনার অংশ করা যায় না? বিশ্বের বিভিন্ন শহরে সবুজ ছাদ, রুফ গার্ডেন ও আরবান ফার্মিং নিয়ে নীতিগত উদ্যোগ রয়েছে। বাংলাদেশে এই ধারণা এখনো বিচ্ছিন্ন উদ্যোগের মধ্যে সীমাবদ্ধ। ফলে এর সম্ভাবনা পুরোপুরি কাজে লাগানো সম্ভব হচ্ছে না। এ জন্য প্রয়োজন ছাদ জরিপ, ভবনের নিরাপত্তা যাচাই, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, জৈব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, দেশীয় উদ্ভিদ রোপণ, কমিউনিটি রুফ গার্ডেন এবং সবুজ ছাদের জন্য প্রণোদনা। সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তথ্য। ঢাকায় কত ছাদ আছে, তার কতটুকু ব্যবহারযোগ্য, কতটুকু সবুজ, কতটুকু বৃষ্টির পানি ধরে রাখতে পারে—এসব তথ্য ছাড়া কোনো বড় পরিকল্পনা কার্যকর করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে রাজউক ও সিটি করপোরেশন কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ঢাকার বহু মানুষ এমন ভবনে থাকেন, যেখানে ছাদের ওপর তাদের কোনো অধিকার নেই। কোথাও ছাদ তালাবদ্ধ, কোথাও বাণিজ্যিক কাজে ব্যবহৃত, আবার কোথাও নিরাপত্তাজনিত কারণে সাধারণ বাসিন্দাদের প্রবেশ সীমিত। ফলে প্রশ্ন ওঠে, ছাদবাগানের সুবিধা কি কেবল সামর্থ্যবানদের জন্য? যদি তাই হয়, তবে এটি শহরের পরিবেশগত বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে। এর সমাধান হতে পারে কমিউনিটি রুফ গার্ডেন। স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, সরকারি ভবন, আবাসিক সমিতি ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদ পরিকল্পিতভাবে সবুজ করা হলে সেখানে বহু মানুষ অংশ নিতে পারবেন। উৎপাদিত খাদ্য ব্যবহার করা যাবে। অতিরিক্ত পণ্য বিক্রি করে বাগানের খরচও মেটানো সম্ভব হবে। তখন ছাদবাগান পরিবারের অর্থনৈতিক সহায়ক হয়ে উঠতে পারে। তবে এর জন্য শুধু গাছ লাগানোর উৎসাহ নয়; প্রয়োজন বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনা, নীতিগত সহায়তা, অর্থনৈতিক হিসাব এবং নাগরিক অংশগ্রহণ। আজ যে ছাদ কংক্রিটের তাপে আগুন হয়ে ওঠে, আগামীকাল সেই ছাদই হয়তো হয়ে উঠতে পারে শহরের সবচেয়ে ছোট সবুজ বন। তিনি আরও বলেন, ছাদবাগানের এই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ছাদে বাগান করলে পানি ব্যবহারের কারণে বাড়ির দেয়াল ও মেঝে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা দূর করতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হতে পারে ওয়াটারপ্রুফিং সলিউশন। বাগান করার আগে ওয়াটারপ্রুফিং সলিউশন দিয়ে দেয়াল ও মেঝের ট্রিটমেন্ট করিয়ে নিলে সেগুলো নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকবে না। বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রচার করতে হবে। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন ঘোষণা দিয়েছে, ছাদে বাগান করলে ১০ শতাংশ হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হবে। পাশাপাশি ছাদে বাগান করতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা—মাটি, টব ও সার—দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সিটি করপোরেশন। ঢাকা শহরকে সবুজায়নের লক্ষ্যে বাসাবাড়ির ছাদ ও বারান্দায় রুফ গার্ডেন গড়ে তোলার জন্য একসময় প্রচার চালানো হয়েছিল। কিন্তু কালের প্রবাহে সেই উদ্যোগ অনেকটাই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ হয়ে গেছে। শহরকে রক্ষা করতে হলে এখন বাস্তবায়নে কার্যকর ভূমিকা রাখতে হবে। পরিকল্পনা নেওয়ার চেয়ে তার বাস্তবায়নই বেশি জরুরি।