4:37 am, Friday, 31 July 2026

সুন্দরবনের বাঘ ও আবাসস্থল রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:48:04 pm, Wednesday, 29 July 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুন্দরবনের বাঘ ও এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পাহারাদার। একটি কিস্টোন স্পিসিস হিসেবে বাঘ বনাঞ্চলের খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাঘ সংরক্ষণ কেবল একটি প্রাণী রক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বনজ সম্পদ, খাদ্য ও প্রজননক্ষেত্রসহ সামগ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা জড়িত। তিনি জানান, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত নিরসনে সরকার সম্প্রতি ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধি, অবৈধভাবে দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে। মন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিকতা, বন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সুন্দরবনে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টি বাঘের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, বাঘ সংরক্ষণে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ এবং স্থানীয় বননির্ভর জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি বাঘ ও বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচারের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে আরও সক্রিয় করা হবে। বাঘ-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্যদাতাদের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাঘ বাংলাদেশের সাহসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাঘের সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ৮০টি পুকুর খনন এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী লোকালয় ও বনাঞ্চলের মধ্যে নাইলনের নেট দিয়ে বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বাঘের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা কমে এসেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে বাঘের গুরুত্ব অপরিসীম। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়, বন অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সুন্দরবনের বাঘ ও আবাসস্থল রক্ষায় সরকার বদ্ধপরিকর : পরিবেশমন্ত্রী

Update Time : 11:48:04 pm, Wednesday, 29 July 2026

সুন্দরবনের বাঘ ও এর প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণে সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু। বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। এবারের বিশ্ব বাঘ দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ। পরিবেশমন্ত্রী বলেন, বাঘ বাংলাদেশের জাতীয় প্রাণী এবং সুন্দরবনের প্রাকৃতিক পাহারাদার। একটি কিস্টোন স্পিসিস হিসেবে বাঘ বনাঞ্চলের খাদ্যশৃঙ্খল ও পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই বাঘ সংরক্ষণ কেবল একটি প্রাণী রক্ষার বিষয় নয়; এর সঙ্গে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য, বনজ সম্পদ, খাদ্য ও প্রজননক্ষেত্রসহ সামগ্রিক প্রতিবেশব্যবস্থার সুরক্ষা জড়িত। তিনি জানান, বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থল রক্ষা এবং মানুষ-বন্যপ্রাণী সংঘাত নিরসনে সরকার সম্প্রতি ১০ সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিশন গঠন করেছে। কমিশন সুন্দরবনের বেঙ্গল টাইগারের সংখ্যা বৃদ্ধি, অবৈধভাবে দখল হওয়া বনভূমি পুনরুদ্ধার এবং বনসংলগ্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করবে। মন্ত্রী বলেন, সরকারের আন্তরিকতা, বন বিভাগের নিরলস প্রচেষ্টা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর সহযোগিতায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ক্যামেরা ট্র্যাপিং জরিপ অনুযায়ী, ২০১৫ সালে সুন্দরবনে ১০৬টি, ২০১৮ সালে ১১৪টি এবং ২০২৪ সালে ১২৫টি বাঘের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, বাঘ সংরক্ষণে ভিলেজ টাইগার রেসপন্স টিম, কমিউনিটি প্যাট্রোলিং গ্রুপ এবং স্থানীয় বননির্ভর জনগোষ্ঠী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। পাশাপাশি বাঘ ও বাঘের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ পাচারের বিরুদ্ধে সরকার জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। বন্যপ্রাণী অপরাধ নিয়ন্ত্রণ ইউনিট এবং বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগকে আরও সক্রিয় করা হবে। বাঘ-সংক্রান্ত অপরাধের তথ্যদাতাদের জন্য ২৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক পুরস্কারের ব্যবস্থাও রয়েছে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম। তিনি বলেন, বাঘ বাংলাদেশের সাহসিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতীক। সুন্দরবনে বাঘ সংরক্ষণের জন্য সংরক্ষিত এলাকা সম্প্রসারণ করা হয়েছে। বাঘের সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে ৮০টি পুকুর খনন এবং বিশ্রামের জন্য ২০টি টিলা নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী লোকালয় ও বনাঞ্চলের মধ্যে নাইলনের নেট দিয়ে বেড়া স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে বাঘের লোকালয়ে প্রবেশের ঘটনা কমে এসেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম বলেন, সুন্দরবনের খাদ্যশৃঙ্খল নিয়ন্ত্রণে বাঘের গুরুত্ব অপরিসীম। বাঘের নিরাপদ আবাসস্থল নিশ্চিত করতে টেকসই পর্যটন ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা এবং পর্যটকের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের বিষয়টিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসাইন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. এম এ আজিজ এবং খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা করেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন ওয়াইল্ডটিমের প্রধান নির্বাহী ড. মো. আনোয়ারুল ইসলাম এবং আইইউসিএন বাংলাদেশের কান্ট্রি রিপ্রেজেন্টেটিভ বিপাশা এস হোসেন। অনুষ্ঠানে মন্ত্রণালয়, বন অধিদপ্তর এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।