পটুয়াখালীর গলাচিপায় বিদ্যুতের ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টার অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের এক নেতাকে আটক করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। এ সময় তার কাছ থেকে ট্রান্সফরমার খোলার কাজে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ।
আটক ব্যক্তির নাম মো. মনির মীর। তিনি উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও সাবেক ইউপি সদস্য। তিনি পূর্ব গোলখালী গ্রামের আ. কাদের মীরের ছেলে। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার নলুয়াবাগী গ্রামের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে মজিবুল হক খলিফার বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে শুক্রবার সকালে তাকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বরাতে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কয়েকজন জেলে ওই এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় এক ব্যক্তিকে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমারের কাছে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখতে পান। তাদের সন্দেহ হলে চিৎকার শুরু করেন। পরে আশপাশের লোকজন এসে ওই ব্যক্তিকে আটক করেন। এরপর তাকে পূর্ব দক্ষিণ নলুয়াবাগী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়।
সকালে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয় তাকে। পল্লী বিদ্যুতের জুলেখা বাজার অভিযোগ কেন্দ্রের জুনিয়র ইনচার্জ সৈয়দ আবদুল হান্নান বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির চেষ্টার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা মনির মীরকে আটক করেন। এ সময় তার কাছ থেকে রেঞ্জ, প্লাস, রড, কাটিং প্লাস ও মিনি রোলকাটারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এদিকে গলাচিপায় ধারাবাহিক ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এসব ঘটনায় বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের দিনের পর দিন বিদ্যুৎহীন থাকতে হচ্ছে। গত এক বছরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ। উত্তর পক্ষিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মিজানুর রহমান মিল্টন বলেন, প্রায় দেড় মাস আগে নতুনগ্রাম এলাকায় একটি ট্রান্সফরমার চুরি হয়।
এতে ওই এলাকার প্রায় ২৫টি পরিবার এক সপ্তাহ বিদ্যুৎবিহীন ছিল। নতুন ট্রান্সফরমার স্থাপন না হওয়া পর্যন্ত তাদের দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে। গোলখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. বাবুল মিয়া বলেন, গত দুই মাসে ওই এলাকায় চার থেকে পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। বারবার এমন ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ছেন। গলাচিপা পল্লী বিদ্যুতের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) জয় প্রকাশ নন্দী বলেন, উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভায় প্রায়ই ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটছে। গত এক বছরে ৬০ থেকে ৬৫টি ট্রান্সফরমার চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় কেউ বাদী না হলে পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে মামলা করা হবে।
গলাচিপা থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।





















