২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি-সেপ্টেম্বর) সমন্বিতভাবে কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৩৮ শতাংশ বাড়িয়েছে ব্র্যাক ব্যাংক। এ সময়ে ব্যাংকটির মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ১২১ কোটি টাকা, যা ২০২৫ সালের একই সময়ে ছিল ১ হাজার ৫৩৬ কোটি টাকা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) প্রকাশিত ব্যাংকটির আর্থিক ফলাফলসংক্রান্ত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এককভাবে ব্যাংকটির কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ৫০ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। আগের বছরের একই সময়ে এ মুনাফা ছিল ১ হাজার ৫৫ কোটি টাকা। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির গ্রাহক আমানত ১৬ শতাংশ এবং ঋণ বিতরণ ৭ শতাংশ বেড়েছে।
একই সময়ে ব্যাংকটির খরচ ও আয়ের অনুপাত ৪৬ শতাংশ থেকে কমে ৪১ শতাংশে নেমেছে। এ ছাড়া খেলাপি ঋণের হার ২ দশমিক ২৭ শতাংশে স্থিতিশীল রয়েছে। আর্থিক ফলাফলে আরও দেখা যায়, তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যাংকটির সমন্বিত শেয়ারপ্রতি আয় (ইপিএস) বেড়ে ৭ টাকা ৭০ পয়সায় দাঁড়িয়েছে, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ৫ টাকা ২৯ পয়সা। সমন্বিত রিটার্ন অন ইক্যুইটি (আরওই) ২০ দশমিক ২৮ শতাংশ এবং রিটার্ন অন অ্যাসেটস (আরওএ) ১ দশমিক ৬৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।
আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় মোট সমন্বিত আয় বেড়েছে ২৬ শতাংশ। ব্র্যাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ব্যাংকটির ব্যবসায়িক মডেল, সুশাসন ও সুশৃঙ্খল কর্মপরিকল্পনার প্রতিফলন এই আর্থিক সাফল্য। গ্রাহকদের আস্থা ধরে রেখে খেলাপি ঋণের হার কম রাখা এবং খাতের গড় প্রবৃদ্ধির চেয়ে এগিয়ে থাকার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, গ্রাহকদের আস্থা, পরিচালনা পর্ষদের কৌশলগত দিকনির্দেশনা, বাংলাদেশ ব্যাংকের সহযোগিতা এবং কর্মীদের পরিশ্রম এ অর্জনে ভূমিকা রেখেছে। সুশাসন, উদ্ভাবন, স্বচ্ছতা ও গ্রাহকসেবার মান বজায় রেখে প্রবৃদ্ধি অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতিও ব্যক্ত করেন তিনি। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর শেষে ব্যাংকটির গ্রাহক আমানত ১ লাখ ৩ হাজার ৯১ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে।
একই সময়ে ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৭৭ হাজার ৯৪৭ কোটি টাকা। ফলে ব্যাংকটির মোট ফান্ড আন্ডার ম্যানেজমেন্টের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৮১ হাজার ৩৮ কোটি টাকার বেশি। ব্যাংকটি করপোরেট, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (এসএমই) এবং রিটেইল ব্যাংকিং খাতে সুষম প্রবৃদ্ধি বজায় রাখার পাশাপাশি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও পরিচালন দক্ষতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।


























