কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা পাঁচ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
একই সঙ্গে অন্যত্র সংযুক্তিতে কর্মরত থাকা সাতজন চিকিৎসককে অবিলম্বে নিজ কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। গতকাল বুধবার সকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি হাসপাতালের চিকিৎসকদের উপস্থিতি, রোগীদের চিকিৎসাসেবার মান এবং সার্বিক পরিবেশ ঘুরে দেখেন। পরিদর্শনকালে তিনি রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং চিকিৎসার খোঁজখবর নেন।
এ সময় দুই অসহায় রোগীকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অনুমোদিত ৫১ জন চিকিৎসকের মধ্যে পরিদর্শনের সময় ১২ জনকে অনুপস্থিত ছিল। যার মধ্যে সাতজন বিভিন্ন স্থানে সংযুক্তিতে এবং পাঁচজন দীর্ঘদিন ধরে কোনো অনুমতি ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন। এই অনিয়মের সত্যতা পেয়ে অনুপস্থিত পাঁচজনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন মন্ত্রী।
পরিদর্শন শেষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার বড় ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হাসপাতালটিতে নতুন করে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতি নারীদের জন্য ২০ শয্যার আলাদা ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার বিশেষ ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা এবং একটি ডেডিকেটেড ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর ঘোষণা দেন।
মন্ত্রী জানান, আগামী ১৫ দিনের মধ্যে এই উন্নয়ন প্রকল্পের টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ ছাড়া ১ নভেম্বর নতুন করে যোগদান করতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকে মুরাদনগর হাসপাতালেও পর্যাপ্ত চিকিৎসক পদায়নের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। হাসপাতালের কার্যক্রমে আগের চেয়ে কিছুটা উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা ব্যবস্থাপনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ অপরিচ্ছন্ন থাকায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি দ্রুত পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার তাগিদ দেন। বর্জ্য ফেলার নির্দিষ্ট জমির সংকট নিরসনে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি। এ ছাড়া হাসপাতালের সচল নয় এমন বিকল যানবাহনগুলো দ্রুত কন্ডেমনেশন (নিলাম বা বাতিল প্রক্রিয়া) প্রক্রিয়ায় নেওয়ার জন্য উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিনের অ্যাম্বুলেন্স সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, আগামী অর্থবছরের মধ্যে এই হাসপাতালে নতুন অ্যাম্বুলেন্স সরবরাহ করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।






















