আজ শনিবার, ১৭ অক্টোবর ২০২৬
২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ০৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৫°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৪%

ভারতে সরকার পরিবর্তন হতে হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে, বাংলাদেশ বা নেপালের মতো নয়: প্রকাশ রাজ

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:40:46 pm, Saturday, 17 October 2026
  • 11

ভারতে সরকার পরিবর্তন হতে হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে, বাংলাদেশ বা নেপালের মতো নয়: প্রকাশ রাজ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ ভারতে বর্তমান সরকারের পরিবর্তন চান। তবে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই পরিবর্তন কোনো সহিংসতা বা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নয়, বরং নির্বাচন এবং সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেই হওয়া উচিত।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ এবং ২০২৫ সালে নেপালে গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের প্রসঙ্গ টেনে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই অভিনেতা। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ রাজ বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান চান তারা। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে গণতান্ত্রিক পথই অনুসরণ করা হবে। উত্তর প্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, ভারত বাংলাদেশ কিংবা নেপাল নয়। দেশটির রয়েছে ড. বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও ভগৎ সিংয়ের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের আদর্শ, পাশাপাশি রয়েছে সংবিধান এবং ভোটাধিকার। শুক্রবার দিল্লিতে প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা মিছিলের’ আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করার ঘটনার পর তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। প্রকাশ রাজের অভিযোগ, প্রতিবাদকারীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা না করে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। সরকারের এমন অবস্থানই ক্ষমতা পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলছে বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের আলোচনার সুযোগ না দিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের সামনে বিকল্প সংকুচিত হয়ে আসছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দাবি তোলাকে বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখার প্রবণতারও বিরোধিতা করেন তিনি। তার মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ জানানো এবং ভোট দেওয়ার অধিকার নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।

প্রকাশ রাজ বলেন, আন্দোলনকারীদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই; তাদের শক্তি সংবিধান এবং প্রতিবাদ করার অধিকার। তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দাবি আদায়ের পথেই তারা এগিয়ে যেতে চান। তিরঙ্গা মিছিলের আগে বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ প্রচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দেশের তরুণেরা সামনে এগিয়ে যেতে চান।

সেই উদ্যোগে বাধা দেওয়ার কারণ কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন প্রকাশ রাজ। তার দাবি, এ ঘটনায় নারীরাও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রকাশ রাজের বক্তব্য, সরকারের অবস্থান যা-ই হোক, নাগরিকেরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।

তার মতে, ভারতে সরকার পরিবর্তনের পথ হবে গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটাধিকার ও সংবিধান অনুসরণের মধ্য দিয়েই।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নেত্রকোণায় সাংবাদিক আলিফ হত্যা: ২৪ ঘণ্টা পর থানায় মামলা

ভারতে সরকার পরিবর্তন হতে হবে গণতান্ত্রিক উপায়ে, বাংলাদেশ বা নেপালের মতো নয়: প্রকাশ রাজ

Update Time : 01:40:46 pm, Saturday, 17 October 2026

অভিনেতা ও অধিকারকর্মী প্রকাশ রাজ ভারতে বর্তমান সরকারের পরিবর্তন চান। তবে তিনি মন্তব্য করেছেন, এই পরিবর্তন কোনো সহিংসতা বা গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নয়, বরং নির্বাচন এবং সাংবিধানিক পদ্ধতি অনুসরণ করেই হওয়া উচিত।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ এবং ২০২৫ সালে নেপালে গণ-আন্দোলনের মুখে সরকার পতনের প্রসঙ্গ টেনে শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) ভারতের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন এই অভিনেতা। ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রকাশ রাজ বলেন, বর্তমান শাসনব্যবস্থার অবসান চান তারা। তবে সেই লক্ষ্য অর্জনে গণতান্ত্রিক পথই অনুসরণ করা হবে। উত্তর প্রদেশ থেকে শুরু করে ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত বিভিন্ন নির্বাচনি লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে সরকার পরিবর্তনের প্রচেষ্টার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিজের বক্তব্যে ভারতের গণতান্ত্রিক ঐতিহ্য ও সাংবিধানিক কাঠামোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ রাজ বলেন, ভারত বাংলাদেশ কিংবা নেপাল নয়। দেশটির রয়েছে ড. বি আর আম্বেদকর, মহাত্মা গান্ধী ও ভগৎ সিংয়ের মতো ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্বের আদর্শ, পাশাপাশি রয়েছে সংবিধান এবং ভোটাধিকার। শুক্রবার দিল্লিতে প্রস্তাবিত ‘তিরঙ্গা মিছিলের’ আগে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকেকে আটক করার ঘটনার পর তিনি এসব মন্তব্য করেন।

বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ তুলে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছে সংগঠনটি। প্রকাশ রাজের অভিযোগ, প্রতিবাদকারীদের দাবির বিষয়ে আলোচনা না করে কেন্দ্রীয় সরকার শক্তি প্রয়োগের পথ বেছে নিচ্ছে। সরকারের এমন অবস্থানই ক্ষমতা পরিবর্তনের দাবিকে আরও জোরালো করে তুলছে বলে মনে করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিক্ষোভকারীদের আলোচনার সুযোগ না দিয়ে বলপ্রয়োগের মাধ্যমে এমন পরিস্থিতিতে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যেখানে তাদের সামনে বিকল্প সংকুচিত হয়ে আসছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ ও নির্বাচনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের দাবি তোলাকে বিশৃঙ্খলা হিসেবে দেখার প্রবণতারও বিরোধিতা করেন তিনি। তার মতে, প্রশ্ন তোলা, প্রতিবাদ জানানো এবং ভোট দেওয়ার অধিকার নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার।

প্রকাশ রাজ বলেন, আন্দোলনকারীদের হাতে কোনো অস্ত্র নেই; তাদের শক্তি সংবিধান এবং প্রতিবাদ করার অধিকার। তাই গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে দাবি আদায়ের পথেই তারা এগিয়ে যেতে চান। তিরঙ্গা মিছিলের আগে বিক্ষোভকারীদের আটকের ঘটনা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এই অভিনেতা। এ সময় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘হর ঘর তিরঙ্গা’ প্রচারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে দেশের তরুণেরা সামনে এগিয়ে যেতে চান।

সেই উদ্যোগে বাধা দেওয়ার কারণ কী, তা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের অভিযোগও করেছেন প্রকাশ রাজ। তার দাবি, এ ঘটনায় নারীরাও সহিংসতার শিকার হয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে শীতকালীন অধিবেশনে সংসদে সোচ্চার হওয়ার জন্য বিরোধী দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি। প্রকাশ রাজের বক্তব্য, সরকারের অবস্থান যা-ই হোক, নাগরিকেরা তাদের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করে রাজপথে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন অব্যাহত রাখবেন।

তার মতে, ভারতে সরকার পরিবর্তনের পথ হবে গণতান্ত্রিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, ভোটাধিকার ও সংবিধান অনুসরণের মধ্য দিয়েই।