সৌদি আরবের মক্কায় এক সড়ক দুর্ঘটনায় কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার প্রবাসী তারা মিয়া (৫১) নিহত হয়েছেন। শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরে স্বজনদের প্রাপ্ত মেডিকেল রিপোর্ট অনুযায়ী জানা যায়, গত রোববার (১১ অক্টোবর) সৌদি আরবের স্থানীয় সময় দুপুর ২টা ৫৯ মিনিটে তাঁর মৃত্যু হয়।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে সড়ক দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তাকে মক্কার কিং আবদুল আজিজ হাসপাতালে আনা হলেও হাসপাতালের বাইরে তার মৃত্যু হয়। নিহত তারা মিয়া কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের জালুয়াপাড়া নেহারদিয়া গ্রামের মৃত ইনতাজ উদ্দিন ভূঁইয়ার ছেলে। নিহতের বড় ভাই মো. চান মিয়া ভূঁইয়া জানান, প্রায় ২৭ বছর ধরে সৌদি আরবে বসবাস করছিলেন তার ছোট ভাই তারা মিয়া।
সেখানে গাড়ি কিনে চালক হিসেবে কাজ করতেন তিনি। তিনি বলেন, গত রোববার সৌদি আরবের স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে মক্কার রিয়াদ রোডে সড়ক দুর্ঘটনার শিকার হন তিনি। চান মিয়া আরও বলেন, দুর্ঘটনার পর থেকে ভাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তারা কোনো সাড়া পাননি। প্রথমে তার মোবাইল ফোনে কল গেলেও কেউ ধরেননি। পরে ফোন বন্ধ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন।
সৌদি আরবে থাকা পরিচিতজন ও তার নিয়োগকর্তার মাধ্যমে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তারা। পরে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ভাইয়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। তিনি আরও জানান, তারা মিয়ার স্ত্রী, দুই ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছে। তার বড় ছেলে প্রায় ছয় মাস আগে সৌদি আরবে গেলেও সম্প্রতি একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরিতে যোগ দিয়েছেন। বাবার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে তার অভিজ্ঞতা কম থাকায় পরিবারকে এ নিয়ে নানা জটিলতার মুখে পড়তে হচ্ছে।
পরিবারের সদস্যদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চান মিয়া বলেন, দীর্ঘদিন প্রবাসে থেকে তার ভাই দেশের অর্থনীতিতে অবদান রেখেছেন। এখন ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। দ্রুত মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান মারুফ জানান, তারা মিয়ার মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, প্রবাসে মারা যাওয়া বাংলাদেশিদের জন্য প্রযোজ্য আর্থিক সহায়তা যাতে পরিবারটি দ্রুত পায়, সে বিষয়েও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হবে।
একই সঙ্গে মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা বা দাফনের জন্য পরিবারের আর্থিক সহায়তার প্রয়োজন হলে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতার উদ্যোগ নেওয়া হবে।






















