আজ রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭১%

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তর করা হবে: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:14:03 pm, Saturday, 3 October 2026
  • 11

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তর করা হবে: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তরিত করা হবে।

পর্যটনে আমাদের জিডিপি ৩ শতাংশ, তা ৭ থেকে ৮ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারব। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাতীয় পর্যটন কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে এনটিসি (ন্যাশনাল ট্যুরিজম কমিটি) গঠিত হয়েছে, পর্যটনে আমাদের ৩ শতাংশ জিডিপি রয়েছে, আমরা আশা করি তাঁর নেতৃত্বে ও পরামর্শে এই কার্যক্রমে এবং অংশীজনের সহযোগিতায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপিতে অংশগ্রহণ করতে পারব।

’ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় শনিবার সন্ধ্যায় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তর করার জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই আমাদের নতুন এয়ারপোর্টটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ট্রায়াল চলছে। আগামী নভেম্বরের ফার্স্ট উইকেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেটাকে ওপেন করব, আরেকটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হিসেবে ইনশাআল্লাহ।

’ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, অতিরিক্ত আইজিপি (ট্যুরিস্ট পুলিশ) জি এম আজিজুর রহমান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ অনেকে।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পদক্ষেপসমূহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। ’ শনিবার ছিল সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজকের সমাপনী উৎসব। পর্যটন দিবস ঘিরে এবারেই প্রথম ১৬টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়েছে।

এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগামীর পর্যটন’। ‘তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশ পর্যটন খাতটি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খাপ মিলিয়ে নিবে, খাপ খেয়ে নিবে’ বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক সম্পদ পর্যটনের অন্যতম ভিত্তি।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, লোকজ ঐতিহ্য, উৎসব এবং আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্যটন—কালচারাল ট্যুরিজমকে আরও বিকশিত করা সম্ভব। তাই দেশের ৫৫৪টিরও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পর্যটনকে বিকশিত করার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা একটা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সাইন করেছি।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিনিয়োগবান্ধব নতুন জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘জিডিপিতে আমাদের অবদান ৩ শতাংশ থেকে আমরা ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই, এতে করে আমাদের সকলকেই একসঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। সবচেয়ে বড় যে সৈকত ১২০ কিলোমিটারের স্যান্ডি বিচ, এটাকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, নিশ্চয়ই আমাদের দেশে পর্যটনের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে—আমি আশা রাখি।

’ ‘আমাদের সহযোগিতার হাত ১৫ বছর বন্ধ ছিল, এখন আমাদের হাত উন্মুক্ত। আমরা উন্মুক্তভাবে আপনাদেরকে সাহায্য করতে চাই, সহযোগিতা করতে চাই, একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই’ বলেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি জোর দিয়ে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, ‘পর্যটন করপোরেশনকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমাদের দেশ-বিদেশের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

’ সেজন্য সবার প্রতি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বিনিয়োগ নিরাপত্তা দেয়ার কথাও বলেন তিনি। সভায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ট্যুরিজমে আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সেই সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে চাই। সেজন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটকদের জন্য তথ্য, পরিবহন, নিরাপত্তা এবং সেবাগুলোকে খাত হিসেবে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে সর্বাত্বক চেষ্টা চলছে।

এবারে প্রথম ১৬টি ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়। এবার বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘শাখাওয়াত’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্টস ফর ফুড কস্ট অপ্টিমাইজেশন’।

বর্ষসেরা পাঁচ তারকা হোটেল নির্বাচিত হয়েছে ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’। চার তারকা হোটেল হিসেবে ‘হোটেল আগ্রাবাদ’ এবং তিন তারকা হোটেল হিসেবে ‘হানসা-এ প্রিমিয়াম রেসিডেন্স বাই ইউএইচপিএলসি’ নির্বাচিত হয়েছে। বর্ষসেরা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটর হিসেবে ‘দি বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেড’ এবং ডোমেস্টিক ট্যুর অপারেটর হিসেবে ‘শেয়ারট্রিপ লি’ পুরস্কার পাচ্ছে।

বর্ষসেরা বিনোদন পার্ক নির্বাচিত হয়েছে ‘ফ্যান্টাসি কিংডম কমপ্লেক্স’। বর্ষসেরা তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা হিসেবে ‘বাংলাদেশ ইকো অ্যাডভেঞ্চার’, বর্ষসেরা হোমস্টে হিসেবে ‘চারুবালা হোমস্টে অ্যান্ড ট্যুরস’ এবং বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ‘আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (সুমন)’ নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া বর্ষসেরা পর্যটন প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোগ হিসেবে ‘বিডি টিকেটস’, বর্ষসেরা পর্যটন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ‘নুরানী শারমিন আফরোজ’, বর্ষসেরা ট্যুরিস্ট ভেসেল হিসেবে ‘এমভি মালঙ্গি’ এবং বর্ষসেরা ট্যুর গাইড হিসেবে ‘মো. সারোয়ার জাহান (মিন্টু)’ নির্বাচিত হয়েছেন। বর্ষসেরা মাইস উদ্যোগের পুরস্কার পাচ্ছে ‘সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’।

আর বর্ষসেরা পর্যটন সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন ‘মো. নাঈম উল ইসলাম’।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ১২০০ কৃতি শিক্ষার্থীকে গাজী কে.ডি ফাউন্ডেশনের সংবর্ধনা

বাংলাদেশকে আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তর করা হবে: বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী

Update Time : 11:14:03 pm, Saturday, 3 October 2026

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে বাংলাদেশকে একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন হাবে রূপান্তরিত করা হবে।

পর্যটনে আমাদের জিডিপি ৩ শতাংশ, তা ৭ থেকে ৮ পর্যন্ত অংশগ্রহণ করতে পারব। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। জাতীয় পর্যটন কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে যে এনটিসি (ন্যাশনাল ট্যুরিজম কমিটি) গঠিত হয়েছে, পর্যটনে আমাদের ৩ শতাংশ জিডিপি রয়েছে, আমরা আশা করি তাঁর নেতৃত্বে ও পরামর্শে এই কার্যক্রমে এবং অংশীজনের সহযোগিতায় ৭ থেকে ৮ শতাংশ পর্যন্ত জিডিপিতে অংশগ্রহণ করতে পারব।

’ বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে বিশ্ব পর্যটন দিবস ২০২৬ উপলক্ষে আলোচনা সভায় শনিবার সন্ধ্যায় এসব কথা বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘কক্সবাজারে আঞ্চলিক পর্যটন হাবে রূপান্তর করার জন্য পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে এবং ইতিমধ্যেই আমাদের নতুন এয়ারপোর্টটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য ট্রায়াল চলছে। আগামী নভেম্বরের ফার্স্ট উইকেই প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সেটাকে ওপেন করব, আরেকটি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট হিসেবে ইনশাআল্লাহ।

’ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে সভায় উপস্থিত ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ সিদ্দিকী, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রউফ, বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী, অতিরিক্ত আইজিপি (ট্যুরিস্ট পুলিশ) জি এম আজিজুর রহমান, ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের অধ্যাপক ডক্টর মোহাম্মদ রুহুল আমিনসহ অনেকে।

সভায় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী বলেন, ‘সরকারের ১৮০ দিনের পরিকল্পনার আওতায় পর্যটন মহাপরিকল্পনা চূড়ান্তকরণ, নদী ও জলভিত্তিক পর্যটনের প্রসার এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের পদক্ষেপসমূহকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে আমরা কাজ করতে চাই। ’ শনিবার ছিল সাত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের আজকের সমাপনী উৎসব। পর্যটন দিবস ঘিরে এবারেই প্রথম ১৬টি ক্যাটাগরিতে বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬ প্রদান করা হয়েছে।

এ বছরের মূল প্রতিপাদ্য ‘ডিজিটাল রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার আগামীর পর্যটন’। ‘তথ্যপ্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে বিশ্বের পর্যটন ব্যবস্থা একটি নতুন যুগে প্রবেশ করছে। বাংলাদেশ পর্যটন খাতটি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে খাপ মিলিয়ে নিবে, খাপ খেয়ে নিবে’ বলেন তিনি। মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহাসিক সম্পদ পর্যটনের অন্যতম ভিত্তি।

প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনা, লোকজ ঐতিহ্য, উৎসব এবং আমাদের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে পর্যটনের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক পর্যটন—কালচারাল ট্যুরিজমকে আরও বিকশিত করা সম্ভব। তাই দেশের ৫৫৪টিরও বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থাপনাকে কেন্দ্র করে সাংস্কৃতিক পর্যটনকে বিকশিত করার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আমরা একটা সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সাইন করেছি।

বেসরকারি উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে বিনিয়োগবান্ধব নতুন জাতীয় পর্যটন নীতিমালা ২০২৬ প্রণয়ন করা হচ্ছে। ’ তিনি আরও বলেন, ‘জিডিপিতে আমাদের অবদান ৩ শতাংশ থেকে আমরা ৬-৭ শতাংশে উন্নীত করতে চাই, এতে করে আমাদের সকলকেই একসঙ্গে একযোগে কাজ করতে হবে। সবচেয়ে বড় যে সৈকত ১২০ কিলোমিটারের স্যান্ডি বিচ, এটাকে যদি আমরা কাজে লাগাতে পারি, নিশ্চয়ই আমাদের দেশে পর্যটনের একটা সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে—আমি আশা রাখি।

’ ‘আমাদের সহযোগিতার হাত ১৫ বছর বন্ধ ছিল, এখন আমাদের হাত উন্মুক্ত। আমরা উন্মুক্তভাবে আপনাদেরকে সাহায্য করতে চাই, সহযোগিতা করতে চাই, একসঙ্গে এগিয়ে যেতে চাই’ বলেন তিনি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতি জোর দিয়ে পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, ‘পর্যটন করপোরেশনকে ঢেলে সাজাতে চাই। আমাদের দেশ-বিদেশের বিনিয়োগ প্রয়োজন।

’ সেজন্য সবার প্রতি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বিনিয়োগ নিরাপত্তা দেয়ার কথাও বলেন তিনি। সভায় বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ব্যারিস্টার মুতাসিম বিল্লাহ ফারুকী বলেন, ট্যুরিজমে আমাদের অনেক সম্ভাবনা রয়েছে। আমরা সেই সম্ভাবনাগুলোকে কাজে লাগাতে চাই। সেজন্য দেশ ও বিদেশের পর্যটকদের জন্য তথ্য, পরিবহন, নিরাপত্তা এবং সেবাগুলোকে খাত হিসেবে আরও উন্নত পর্যায়ে নিতে সর্বাত্বক চেষ্টা চলছে।

এবারে প্রথম ১৬টি ক্যাটাগরিতে ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও উদ্যোগকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। বাংলাদেশের পর্যটন শিল্পে টেকসই উন্নয়ন, সেবার মানোন্নয়ন, উদ্ভাবন, ডিজিটাল রূপান্তর, স্থানীয় জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ এবং নারী ও তরুণ উদ্যোক্তাদের কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তাদের ‘বাংলাদেশ পর্যটন পুরস্কার ২০২৬’ দেওয়া হয়। এবার বর্ষসেরা টেকসই পর্যটন উদ্যোগ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে ‘শাখাওয়াত’স সিক্স কন্ট্রোল পয়েন্টস ফর ফুড কস্ট অপ্টিমাইজেশন’।

বর্ষসেরা পাঁচ তারকা হোটেল নির্বাচিত হয়েছে ‘ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’। চার তারকা হোটেল হিসেবে ‘হোটেল আগ্রাবাদ’ এবং তিন তারকা হোটেল হিসেবে ‘হানসা-এ প্রিমিয়াম রেসিডেন্স বাই ইউএইচপিএলসি’ নির্বাচিত হয়েছে। বর্ষসেরা ইনবাউন্ড ট্যুর অপারেটর হিসেবে ‘দি বেঙ্গল ট্যুরস লিমিটেড’ এবং ডোমেস্টিক ট্যুর অপারেটর হিসেবে ‘শেয়ারট্রিপ লি’ পুরস্কার পাচ্ছে।

বর্ষসেরা বিনোদন পার্ক নির্বাচিত হয়েছে ‘ফ্যান্টাসি কিংডম কমপ্লেক্স’। বর্ষসেরা তরুণ পর্যটন উদ্যোক্তা হিসেবে ‘বাংলাদেশ ইকো অ্যাডভেঞ্চার’, বর্ষসেরা হোমস্টে হিসেবে ‘চারুবালা হোমস্টে অ্যান্ড ট্যুরস’ এবং বর্ষসেরা ট্যুরিজম কনটেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে ‘আবু মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন (সুমন)’ নির্বাচিত হয়েছেন।

এ ছাড়া বর্ষসেরা পর্যটন প্রযুক্তিবিষয়ক উদ্যোগ হিসেবে ‘বিডি টিকেটস’, বর্ষসেরা পর্যটন নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ‘নুরানী শারমিন আফরোজ’, বর্ষসেরা ট্যুরিস্ট ভেসেল হিসেবে ‘এমভি মালঙ্গি’ এবং বর্ষসেরা ট্যুর গাইড হিসেবে ‘মো. সারোয়ার জাহান (মিন্টু)’ নির্বাচিত হয়েছেন। বর্ষসেরা মাইস উদ্যোগের পুরস্কার পাচ্ছে ‘সেভর ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড’।

আর বর্ষসেরা পর্যটন সাংবাদিকতা ক্যাটাগরিতে নির্বাচিত হয়েছেন ‘মো. নাঈম উল ইসলাম’।