আজ রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭১%

রাতের আঁধারে ভিন্ন রূপ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:26:28 pm, Saturday, 3 October 2026
  • 13

রাতের আঁধারে ভিন্ন রূপ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দিনের আলোয় হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণা, জ্ঞানচর্চা ও প্রগতিশীল আড্ডায় মুখরিত থাকা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকা গভীর রাতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে।

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা পেরোতেই ক্যাম্পাসের চিরচেনা রূপ বদলে যায়। বহিরাগত অপরাধী, মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী ও সুসংগঠিত নানা বয়সি গ্যাংয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় ঢাবির বেশ কিছু নির্জন ও অন্ধকার এলাকা। সাধারণ শিক্ষার্থী ও গভীর রাতে যাতায়াতকারী নাগরিকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাম্পাস এখন গভীর আতঙ্কের নাম। ঢাবি এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ পথচারী এবং বিভিন্ন আবাসিক হলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাতে ও সন্ধ্যায় সংঘটিত বিভিন্ন ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিম কঠোর অবস্থান ও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে জানান, টিমের জনবল ও যানবাহনের স্বল্পতা রয়েছে। গাড়ি মাত্র একটি। জনবল ৫০ জন। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা, দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা এবং রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত তারা পালাক্রমে ডিউটি করেন।

রাতে জনবল কিছু বেশি রাখা হয়। এ ছাড়া পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে তারা বিশেষ অভিযানেও অংশ নেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ঢাবির শহিদ মিনার ও শিববাড়ী মোড় এলাকায় সবচেয়ে বেশি নির্জনতা থাকে এবং ছিনতাইকারীদের আড্ডা জমে। দোয়েল চত্বর ও কার্জন হল এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে অপরাধীরা প্রবেশ করে ছিনতাই শেষে আবার উদ্যানের ভেতরে চলে যায়।

অপরাধ শেষে বা বিরতি চলাকালে এরা আড্ডা দেয় চাঁনখাঁরপুল ও সংলগ্ন গলি এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যায় এরা। এসব এলাকায় বেশ কটি হোটেল সারা রাত খোলা থাকে। মল চত্বর ও উপাচার্য ভবন এলাকায় পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের অভাব ও ঝোপঝাড় থাকায় গভির রাতে এই পথগুলোও অনিরাপদ হয়ে ওঠে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের সুনির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে গভীর রাতে অপরাধের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

একসময় দোয়েল চত্বর বা মল চত্বরকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও শিববাড়ী মোড় এলাকা অপরাধীদের প্রধান আস্তানায় পরিণত হয়েছে। গভীর রাতে এই এলাকাগুলো সম্পূর্ণ জনমানবহীন হয়ে পড়ে। পলাশী মোড় থেকে শিববাড়ী হয়ে শহিদ মিনার পর্যন্ত রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলো থাকলেও, তার পেছনের অন্ধকারের সুযোগ নেয় ছিনতাইকারীরা।

বিশেষ করে বুয়েট ও ঢাবির সীমান্তসংলগ্ন গলিগুলোতে ওত পেতে থাকে সশস্ত্র অপরাধীরা। দোয়েল চত্বর এবং কার্জন হল-সংলগ্ন সড়কটি গভীর রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। এই এলাকার মূল সমস্যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সীমানা দেয়াল। উদ্যানের ভেতরের অপরাধীরা ও মাদকসেবীরা গভীর রাতে দেয়াল টপকে অনায়াসে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা মূলত রিকশাযাত্রী বা বাইকারদের টার্গেট করে।

চলন্ত রিকশা থামিয়ে বা গতি রোধ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। অপরাধ সংঘটন করেই তারা আবার দেয়াল টপকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর মিলিয়ে যায়, ফলে পুলিশ বা প্রক্টোরিয়াল টিম এসেও তাদের খুঁজে পায় না। ক্যাম্পাসের ঠিক পাশেই অবস্থিত চাঁনখাঁরপুল এলাকাটি অপরাধের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এখানকার বেশ কিছু হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকান গভীর রাত, এমনকি ভোর পর্যন্ত খোলা থাকে।

সারা রাত হোটেল খোলা থাকার সুবাদে এই এলাকায় ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বহিরাগত, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং অপরাধী চক্রের সদস্যরা এসে ভিড় জমায়। সাধারণ চোখে মনে হয় তারা খাবার খেতে এসেছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের অনেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসের ভেতরের নির্জন রাস্তাগুলোতে রেকি করতে আসে। চাঁনখাঁরপুলের এই ওপেন-নাইট লাইফকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের ভেতরে মাদকের সাপ্লাই চেইনও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ক্যাম্পাসে এখন আর প্রথাগত বা ভবঘুরে ছিনতাইকারী দেখা যায় না। অপরাধীরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালকের ছদ্মবেশ ধারণ করে। তারা দামি মোটরবাইক নিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘুরে বেড়ায়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। গভীর রাতে ক্যাম্পাস দিয়ে হেঁটে যাওয়া কোনো পথচারীকে টার্গেট করে চোখের পলকে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ টেনে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

বাধা দিলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত করার ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। গত সপ্তাহে শহিদ মিনারসংলগ্ন শিববাড়ী মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন। সেই রাতের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রাত ১টার দিকে কার্জন হলের ল্যাব থেকে হেঁটে আমার হলে ফিরছিলাম। শিববাড়ী মোড়ের কাছাকাছি আসতেই একটি মোটরসাইকেলে দুজন যুবক আমার সামনে এসে দাঁড়ায়।

দুজনের মাথায়ই হেলমেট ছিল এবং তাদের পোশাক দেখে বোঝার উপায় ছিল না তারা বহিরাগত। মনে হচ্ছিল তারা ঢাবিরই ছাত্র। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছনের জন নেমে আমার গলায় ছুরি ঠেকায়। আমার কাছে থাকা ল্যাপটপ, থিসিসের পেনড্রাইভ আর নগদ ৫ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। আমি একটু অনুনয় করতেই আমার হাতে ছুরির কোপ দেয়। ছিনতাই শেষে তারা চাঁনখাঁরপুলের দিকে চলে যায়।

আমার নিজের ক্যাম্পাসে আমি কতটা অসহায়, সেটা ওই রাতে বুঝতে পেরেছি। ’ ক্যাম্পাস এলাকার এই অপরাধপ্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাধবিজ্ঞানী ও সমাজ গবেষকেরা। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. কামরুল হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বা এলাকা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং এটি ঢাকার অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট।

কিন্তু গভীর রাতে অপরাধ বাড়ার মূল কারণ ‘অপরাধের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া’। চাঁনখাঁরপুলের হোটেলগুলো সারা রাত খোলা থাকায় অপরাধীরা সেখানে আইনি বৈধতার আড়ালে আশ্রয় পাচ্ছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বেশির ভাগই অচল থাকে এবং অনেক এলাকায় রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় অপরাধীদের মুখ চেনা যায় না। প্রক্টোরিয়াল টিমের রাতে নিষ্ক্রিয়তা এবং পুলিশের শুধু মূল সড়কে টহল দেওয়ার প্রবণতা অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে।

” ক্যাম্পাস নিরাপদ করতে হলে অবিলম্বে রাতে বহিরাগত ও বহিরাগত যানবাহনের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। পুলিশের একজন ঊধর্তন কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘অপ্রিয় হলেও সত্য যে এই এলাকার অপরাধের পেছনে কিছু অসৎ ছাত্র বা ছাত্রনেতাও জড়িত। এর ফলে তারা চাইলেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন না। তবে শহিদ মিনার, শিববাড়ী এবং দোয়েল চত্বর এলাকায় গভীর রাতে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

চাঁনখাঁরপুলের যেসব হোটেল সারা রাত খোলা থাকে, সেগুলো নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনার জন্য মালিক সমিতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গভীর রাতে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে সমস্যা হলো, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা। পুলিশকেও অবাধে হলের আশপাশে বা ভেতরের গলিতে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক নিয়ম মেনে চলতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে, তাহলে ক্যাম্পাস থেকে এই অপরাধীদের চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব। ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাইফুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। শহিদ মিনার, শিববাড়ী ও দোয়েল চত্বর এলাকায় অপরাধের ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে।

আমরা ইতিমধ্যে পুরো ক্যাম্পাসকে নতুন করে হাই-ভোল্টেজ এলইডি লাইটের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছি, যাতে কোনো অন্ধকূপ না থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল ও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্রক্টোরিয়াল মোবাইল টিমকে রাত ১২টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিশেষ ডিউটি দেওয়া হয়েছে। চাঁনখাঁরপুল দিয়ে যাতে রাতে কোনো অপরাধী ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারে, সে জন্য ওই প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে অপরাধমুক্ত করতে হলে ক্যাম্পাস এলাকার জন্য একটি সমন্বিত এবং ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা দরকার। রাতের বেলা দোয়েল চত্বর, শহিদ মিনার ও শিববাড়ী মোড়ে স্থায়ী পুলিশ বক্স বা প্রক্টোরিয়াল বুথ স্থাপন করা প্রয়োজন। চাঁনখাঁরপুলের হোটেলগুলোতে গভীর রাতে আসা গ্রাহকদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করার নিয়মও কঠোরভাবে চালু করা দরকার।

’ সার্বিক বিষয় নিয়ে শাহবাগ থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাতে ঢাবি এলাকায় যাতে করে অপরাধ সংঘটিত হতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাবি ও এর আশপাশ এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে কাজ করে।

ডিএমপি ও ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিম ক্যাম্পাসের মূল সড়কগুলোতে যৌথ টহল পরিচালনা করে থাকে। টিএসসি ও উপাচার্য ভবন চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ করে উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে। রাতের বেলায় বা বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন বিভিন্ন উৎসব বা গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, পলাশী, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে বিশেষ চেকপোস্ট ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের বৈধ পরিচয়পত্র ও স্টিকারযুক্ত যানবাহন ছাড়া চলাচল সীমিত রাখা হয়। ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শান্তি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রক্টরিয়াল টিমের চাহিদামাফিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান। প্রক্টরিয়াল টিমের আরেক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে ছিনতাই, মারধর বা মোরাল পুলিশিংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো শিক্ষার্থী বা বহিরাগতের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এসব ঘটনার সঙ্গে মাঝেমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার খবরও পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অপরাধে একাধিক শিক্ষার্থীকে সাময়িক ও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের ভেতরে রিকশা থেকে কান টেনে স্বর্ণের দুল ছিনতাইয়ের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

’ পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন হলের সামনে নির্দিষ্ট শিফটে প্রক্টরিয়াল টিমের বিশেষ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ছিনতাইচেষ্টা রোধে হলের ফটকগুলোতে প্রক্টর অফিসের বিশেষ মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক সাহায্য চাইতে পারেন। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন অন্ধকারাচ্ছন্ন স্পটগুলোতে ভাসমান, ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন বহিরাগতদের উচ্ছেদে চিরুনি তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করার আহ্বান সমাজকল্যাণ সচিবের

রাতের আঁধারে ভিন্ন রূপ নেয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

Update Time : 11:26:28 pm, Saturday, 3 October 2026

দিনের আলোয় হাজারো শিক্ষার্থীর পদচারণা, জ্ঞানচর্চা ও প্রগতিশীল আড্ডায় মুখরিত থাকা প্রাচ্যের অক্সফোর্ড খ্যাত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এলাকা গভীর রাতে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক রূপ ধারণ করে।

ঘড়ির কাঁটায় রাত ১২টা পেরোতেই ক্যাম্পাসের চিরচেনা রূপ বদলে যায়। বহিরাগত অপরাধী, মাদক কারবারি, ছিনতাইকারী ও সুসংগঠিত নানা বয়সি গ্যাংয়ের অভয়ারণ্যে পরিণত হয় ঢাবির বেশ কিছু নির্জন ও অন্ধকার এলাকা। সাধারণ শিক্ষার্থী ও গভীর রাতে যাতায়াতকারী নাগরিকদের জন্য ঐতিহ্যবাহী এই ক্যাম্পাস এখন গভীর আতঙ্কের নাম। ঢাবি এলাকায় চলাচলকারী সাধারণ পথচারী এবং বিভিন্ন আবাসিক হলে বসবাসকারী শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

রাতে ও সন্ধ্যায় সংঘটিত বিভিন্ন ছিনতাইয়ের ঘটনা এবং শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়ে ঢাবির প্রক্টরিয়াল টিম কঠোর অবস্থান ও একাধিক পদক্ষেপের কথা জানিয়েছে। প্রক্টরিয়াল টিম সদস্য সালাউদ্দিন আহমেদ রূপালী বাংলাদেশকে জানান, টিমের জনবল ও যানবাহনের স্বল্পতা রয়েছে। গাড়ি মাত্র একটি। জনবল ৫০ জন। প্রতিদিন সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা, দুপুর ২টা থেকে রাত ১০টা এবং রাত ১০টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত তারা পালাক্রমে ডিউটি করেন।

রাতে জনবল কিছু বেশি রাখা হয়। এ ছাড়া পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সঙ্গে তারা বিশেষ অভিযানেও অংশ নেন। বিভিন্ন সূত্রের তথ্যমতে, ঢাবির শহিদ মিনার ও শিববাড়ী মোড় এলাকায় সবচেয়ে বেশি নির্জনতা থাকে এবং ছিনতাইকারীদের আড্ডা জমে। দোয়েল চত্বর ও কার্জন হল এলাকায় সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে অপরাধীরা প্রবেশ করে ছিনতাই শেষে আবার উদ্যানের ভেতরে চলে যায়।

অপরাধ শেষে বা বিরতি চলাকালে এরা আড্ডা দেয় চাঁনখাঁরপুল ও সংলগ্ন গলি এলাকার হোটেল-রেস্টুরেন্টে। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মিশে যায় এরা। এসব এলাকায় বেশ কটি হোটেল সারা রাত খোলা থাকে। মল চত্বর ও উপাচার্য ভবন এলাকায় পর্যাপ্ত লাইটিংয়ের অভাব ও ঝোপঝাড় থাকায় গভির রাতে এই পথগুলোও অনিরাপদ হয়ে ওঠে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ক্যাম্পাসের সুনির্দিষ্ট কিছু পয়েন্টে গভীর রাতে অপরাধের মাত্রা সবচেয়ে বেশি।

একসময় দোয়েল চত্বর বা মল চত্বরকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার ও শিববাড়ী মোড় এলাকা অপরাধীদের প্রধান আস্তানায় পরিণত হয়েছে। গভীর রাতে এই এলাকাগুলো সম্পূর্ণ জনমানবহীন হয়ে পড়ে। পলাশী মোড় থেকে শিববাড়ী হয়ে শহিদ মিনার পর্যন্ত রাস্তায় ল্যাম্পপোস্টের আলো থাকলেও, তার পেছনের অন্ধকারের সুযোগ নেয় ছিনতাইকারীরা।

বিশেষ করে বুয়েট ও ঢাবির সীমান্তসংলগ্ন গলিগুলোতে ওত পেতে থাকে সশস্ত্র অপরাধীরা। দোয়েল চত্বর এবং কার্জন হল-সংলগ্ন সড়কটি গভীর রাতে সবচেয়ে বেশি প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। এই এলাকার মূল সমস্যা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের সীমানা দেয়াল। উদ্যানের ভেতরের অপরাধীরা ও মাদকসেবীরা গভীর রাতে দেয়াল টপকে অনায়াসে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে। তারা মূলত রিকশাযাত্রী বা বাইকারদের টার্গেট করে।

চলন্ত রিকশা থামিয়ে বা গতি রোধ করে ধারালো অস্ত্রের মুখে মুহূর্তের মধ্যে সবকিছু ছিনিয়ে নেয়। অপরাধ সংঘটন করেই তারা আবার দেয়াল টপকে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের ভেতর মিলিয়ে যায়, ফলে পুলিশ বা প্রক্টোরিয়াল টিম এসেও তাদের খুঁজে পায় না। ক্যাম্পাসের ঠিক পাশেই অবস্থিত চাঁনখাঁরপুল এলাকাটি অপরাধের অন্যতম প্রধান অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। এখানকার বেশ কিছু হোটেল, রেস্তোরাঁ ও চায়ের দোকান গভীর রাত, এমনকি ভোর পর্যন্ত খোলা থাকে।

সারা রাত হোটেল খোলা থাকার সুবাদে এই এলাকায় ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা বহিরাগত, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এবং অপরাধী চক্রের সদস্যরা এসে ভিড় জমায়। সাধারণ চোখে মনে হয় তারা খাবার খেতে এসেছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের অনেকেই ঢাবি ক্যাম্পাসের ভেতরের নির্জন রাস্তাগুলোতে রেকি করতে আসে। চাঁনখাঁরপুলের এই ওপেন-নাইট লাইফকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে ক্যাম্পাসের ভেতরে মাদকের সাপ্লাই চেইনও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

ক্যাম্পাসে এখন আর প্রথাগত বা ভবঘুরে ছিনতাইকারী দেখা যায় না। অপরাধীরা এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা অ্যাপসভিত্তিক রাইড শেয়ারিং চালকের ছদ্মবেশ ধারণ করে। তারা দামি মোটরবাইক নিয়ে ক্যাম্পাসের ভেতরে ঘুরে বেড়ায়, যাতে কেউ সন্দেহ না করে। গভীর রাতে ক্যাম্পাস দিয়ে হেঁটে যাওয়া কোনো পথচারীকে টার্গেট করে চোখের পলকে মোবাইল ফোন ও ব্যাগ টেনে নিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

বাধা দিলে ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রক্তাক্ত করার ঘটনাও ঘটছে প্রতিনিয়ত। গত সপ্তাহে শহিদ মিনারসংলগ্ন শিববাড়ী মোড়ে ছিনতাইয়ের শিকার হন ঢাবির রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হোসেন। সেই রাতের লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি রাত ১টার দিকে কার্জন হলের ল্যাব থেকে হেঁটে আমার হলে ফিরছিলাম। শিববাড়ী মোড়ের কাছাকাছি আসতেই একটি মোটরসাইকেলে দুজন যুবক আমার সামনে এসে দাঁড়ায়।

দুজনের মাথায়ই হেলমেট ছিল এবং তাদের পোশাক দেখে বোঝার উপায় ছিল না তারা বহিরাগত। মনে হচ্ছিল তারা ঢাবিরই ছাত্র। কিছু বুঝে ওঠার আগেই পেছনের জন নেমে আমার গলায় ছুরি ঠেকায়। আমার কাছে থাকা ল্যাপটপ, থিসিসের পেনড্রাইভ আর নগদ ৫ হাজার টাকা কেড়ে নেয়। আমি একটু অনুনয় করতেই আমার হাতে ছুরির কোপ দেয়। ছিনতাই শেষে তারা চাঁনখাঁরপুলের দিকে চলে যায়।

আমার নিজের ক্যাম্পাসে আমি কতটা অসহায়, সেটা ওই রাতে বুঝতে পেরেছি। ’ ক্যাম্পাস এলাকার এই অপরাধপ্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অপরাধবিজ্ঞানী ও সমাজ গবেষকেরা। অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. কামরুল হাসান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, “ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস বা এলাকা সম্পূর্ণ উন্মুক্ত এবং এটি ঢাকার অন্যতম প্রধান ট্রানজিট রুট।

কিন্তু গভীর রাতে অপরাধ বাড়ার মূল কারণ ‘অপরাধের সুযোগ সৃষ্টি হওয়া’। চাঁনখাঁরপুলের হোটেলগুলো সারা রাত খোলা থাকায় অপরাধীরা সেখানে আইনি বৈধতার আড়ালে আশ্রয় পাচ্ছে। এ ছাড়া সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও বেশির ভাগই অচল থাকে এবং অনেক এলাকায় রাতে পর্যাপ্ত আলো না থাকায় অপরাধীদের মুখ চেনা যায় না। প্রক্টোরিয়াল টিমের রাতে নিষ্ক্রিয়তা এবং পুলিশের শুধু মূল সড়কে টহল দেওয়ার প্রবণতা অপরাধীদের সাহস বাড়িয়ে দিচ্ছে।

” ক্যাম্পাস নিরাপদ করতে হলে অবিলম্বে রাতে বহিরাগত ও বহিরাগত যানবাহনের প্রবেশ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে বলে তিনি মনে করেন। পুলিশের একজন ঊধর্তন কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘অপ্রিয় হলেও সত্য যে এই এলাকার অপরাধের পেছনে কিছু অসৎ ছাত্র বা ছাত্রনেতাও জড়িত। এর ফলে তারা চাইলেও কঠোর ব্যবস্থা নিতে পারেন না। তবে শহিদ মিনার, শিববাড়ী এবং দোয়েল চত্বর এলাকায় গভীর রাতে টহল আরও জোরদার করা হয়েছে।

চাঁনখাঁরপুলের যেসব হোটেল সারা রাত খোলা থাকে, সেগুলো নির্দিষ্ট নিয়মের মধ্যে আনার জন্য মালিক সমিতিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। গভীর রাতে সন্দেহভাজন কাউকে দেখলেই পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে। তবে সমস্যা হলো, বিশ্ববিদ্যালয় একটি স্বায়ত্তশাসিত এলাকা। পুলিশকেও অবাধে হলের আশপাশে বা ভেতরের গলিতে অভিযান চালানোর ক্ষেত্রে কিছু প্রশাসনিক নিয়ম মেনে চলতে হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যদি পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করে এবং ছাত্রনেতাদের সঙ্গে নিয়ে একটি যৌথ টাস্কফোর্স গঠন করে, তাহলে ক্যাম্পাস থেকে এই অপরাধীদের চিরতরে নির্মূল করা সম্ভব। ’ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক সাইফুল আলম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা আমাদের কাছে সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার। শহিদ মিনার, শিববাড়ী ও দোয়েল চত্বর এলাকায় অপরাধের ঘটনাগুলো আমাদের নজরে এসেছে।

আমরা ইতিমধ্যে পুরো ক্যাম্পাসকে নতুন করে হাই-ভোল্টেজ এলইডি লাইটের আওতায় আনার কাজ শুরু করেছি, যাতে কোনো অন্ধকূপ না থাকে। সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো সচল ও আধুনিকায়ন করা হচ্ছে। প্রক্টোরিয়াল মোবাইল টিমকে রাত ১২টার পর থেকে ভোর ৫টা পর্যন্ত বিশেষ ডিউটি দেওয়া হয়েছে। চাঁনখাঁরপুল দিয়ে যাতে রাতে কোনো অপরাধী ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারে, সে জন্য ওই প্রবেশপথে নিরাপত্তা চৌকি বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

আমরা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘ক্যাম্পাসকে অপরাধমুক্ত করতে হলে ক্যাম্পাস এলাকার জন্য একটি সমন্বিত এবং ২৪ ঘণ্টা সক্রিয় কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা দরকার। রাতের বেলা দোয়েল চত্বর, শহিদ মিনার ও শিববাড়ী মোড়ে স্থায়ী পুলিশ বক্স বা প্রক্টোরিয়াল বুথ স্থাপন করা প্রয়োজন। চাঁনখাঁরপুলের হোটেলগুলোতে গভীর রাতে আসা গ্রাহকদের সঠিক পরিচয় নিশ্চিত করার নিয়মও কঠোরভাবে চালু করা দরকার।

’ সার্বিক বিষয় নিয়ে শাহবাগ থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘রাতে ঢাবি এলাকায় যাতে করে অপরাধ সংঘটিত হতে না পারে, সে ব্যাপারে পুলিশ তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া ঢাবি ও এর আশপাশ এলাকায় রাতের নিরাপত্তা জোরদার করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) যৌথভাবে কাজ করে।

ডিএমপি ও ঢাবি প্রক্টরিয়াল টিম ক্যাম্পাসের মূল সড়কগুলোতে যৌথ টহল পরিচালনা করে থাকে। টিএসসি ও উপাচার্য ভবন চত্বরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ২৪ ঘণ্টা পুলিশ কাজ করছে। বিশেষ করে উপস্থিতি নিশ্চিত করার কথা জানানো হয়েছে। রাতের বেলায় বা বিশেষ পরিস্থিতিতে (যেমন বিভিন্ন উৎসব বা গুরুত্বপূর্ণ ইভেন্ট) ক্যাম্পাসে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণে শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, পলাশী, নীলক্ষেতসহ বিভিন্ন প্রবেশপথে বিশেষ চেকপোস্ট ও কড়াকড়ি আরোপ করা হয়।

শিক্ষার্থীদের বৈধ পরিচয়পত্র ও স্টিকারযুক্ত যানবাহন ছাড়া চলাচল সীমিত রাখা হয়। ’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক শান্তি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা রক্ষায় প্রক্টরিয়াল টিমের চাহিদামাফিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সহযোগিতা দিয়ে থাকে বলে তিনি জানান। প্রক্টরিয়াল টিমের আরেক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘ক্যাম্পাসের ভেতরে ছিনতাই, মারধর বা মোরাল পুলিশিংয়ের মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে কোনো শিক্ষার্থী বা বহিরাগতের জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

এসব ঘটনার সঙ্গে মাঝেমধ্যে কিছু শিক্ষার্থীর সম্পৃক্ততার খবরও পাওয়া যায়। ইতিমধ্যে ছিনতাই ও চাঁদাবাজির অপরাধে একাধিক শিক্ষার্থীকে সাময়িক ও স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। সম্প্রতি ক্যাম্পাসের ভেতরে রিকশা থেকে কান টেনে স্বর্ণের দুল ছিনতাইয়ের মতো একাধিক ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।

’ পাশাপাশি ক্যাম্পাসের নিরাপত্তাব্যবস্থা আধুনিকায়ন করতে এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান। তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে বিভিন্ন হলের সামনে নির্দিষ্ট শিফটে প্রক্টরিয়াল টিমের বিশেষ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।

যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা ছিনতাইচেষ্টা রোধে হলের ফটকগুলোতে প্রক্টর অফিসের বিশেষ মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়েছে, যাতে শিক্ষার্থীরা তাৎক্ষণিক সাহায্য চাইতে পারেন। ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যানসংলগ্ন অন্ধকারাচ্ছন্ন স্পটগুলোতে ভাসমান, ভবঘুরে ও সন্দেহভাজন বহিরাগতদের উচ্ছেদে চিরুনি তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।