আজ রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৮ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭১%

বঙ্গোপসাগরকে সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে চায় বাংলাদেশ: মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:52:05 pm, Saturday, 3 October 2026
  • 10

বঙ্গোপসাগরকে সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে চায় বাংলাদেশ: মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেছেন, বঙ্গোপসাগরকে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি অধিবেশনে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ।

ভারত ও চীন উভয়কে বাংলাদেশের কাছে অনেক কিছু দেওয়ার আছে। ’ সামুদ্রিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। বঙ্গোপসাগর কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং ভারত মহাসাগরের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত পরিকল্পনায় এই বিশাল উপসাগরটির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল।

বাংলাদেশ এখানে সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, যা ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই অপরিহার্য। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা বঙ্গোপসাগরকে যেকোনো বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চাই। ’ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ভূ-কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত একটি স্থলপথ বা করিডোর তৈরি করে, তবে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগের মাধ্যমে ভারত ও চীন উভয় ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। ’ এ সময় জলবায়ু পরিবর্তন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন মুনীরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভূমিকা ভারত ও চীন উভয়ের জন্য উপকারী।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

প্রতিবন্ধীদের সমাজের মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করার আহ্বান সমাজকল্যাণ সচিবের

বঙ্গোপসাগরকে সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখতে চায় বাংলাদেশ: মেজর জেনারেল মুনীরুজ্জামান

Update Time : 11:52:05 pm, Saturday, 3 October 2026

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের সভাপতি অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল আ ন ম মুনীরুজ্জামান বলেছেন, বঙ্গোপসাগরকে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত, নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চায় বাংলাদেশ।

একই সঙ্গে ভারত ও চীনের মধ্যে উত্তেজনা কমানো এবং আঞ্চলিক ভারসাম্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে বাংলাদেশের। শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীতে পঞ্চম বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের একটি অধিবেশনে প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি। চীন ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা কমাতে এবং দুই দেশের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে বাংলাদেশ কী ভূমিকা রাখতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া এবং আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে বাংলাদেশ এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ।

ভারত ও চীন উভয়কে বাংলাদেশের কাছে অনেক কিছু দেওয়ার আছে। ’ সামুদ্রিক স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরে মুনীরুজ্জামান বলেন, ‘বঙ্গোপসাগরের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশদ্বার। বঙ্গোপসাগর কেবল এই অঞ্চলের জন্যই নয়, বরং ভারত মহাসাগরের জন্যও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। ভারত মহাসাগর ও ইন্দো-প্যাসিফিক কৌশলগত পরিকল্পনায় এই বিশাল উপসাগরটির ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সংবেদনশীল।

বাংলাদেশ এখানে সামুদ্রিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে পারে, যা ভারত ও চীন উভয়ের জন্যই অপরিহার্য। ’ তিনি বলেন, ‘আমরা বঙ্গোপসাগরকে যেকোনো বাহ্যিক সামরিক হস্তক্ষেপমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে রাখতে চাই। ’ দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে আঞ্চলিক সংযোগের ক্ষেত্রেও বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই সেনা কর্মকর্তা।

তিনি বলেন, ‘দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে সংযোগকারী সেতু হিসেবে কাজ করে বাংলাদেশ। দক্ষিণ এশিয়ায় চীনের ভূ-কৌশলগত স্বার্থ রয়েছে। বাংলাদেশ যদি চীনের ইউনান প্রদেশ থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত একটি স্থলপথ বা করিডোর তৈরি করে, তবে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও সংযোগের মাধ্যমে ভারত ও চীন উভয় ব্যাপকভাবে উপকৃত হবে। ’ এ সময় জলবায়ু পরিবর্তন ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়টিও তুলে ধরেন মুনীরুজ্জামান।

তিনি বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। এই সংকট এবং এর ফলে সৃষ্ট নিরাপত্তা ঝুঁকি মোকাবিলায় আমরা বর্তমানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বাংলাদেশের ভূমিকা ভারত ও চীন উভয়ের জন্য উপকারী।