আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৪ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৯%

কয়েকদিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:26:01 am, Thursday, 20 August 2026
  • 67

কয়েকদিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম ৬ মাস অতিক্রম করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এখন মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কার্যক্রম আরও বাড়াতে দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং নতুন মুখ যুক্ত করার কথা ভাবছেন সরকারপ্রধান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার ও বিএনপিদলীয় সূত্রগুলো যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলোচনায় আছেন বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে।

তবে তারা দুজনই যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি তারা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত তাদের নিশ্চিত করা হয়নি। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দু-একদিন পর মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। প্রায় দুই মাসের মাথায় নতুন মন্ত্রী পেতে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যদিও মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বে আছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন মীর হেলাল।

এদিকে আজ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন। সব ঠিক থাকলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনে যাবেন। ফলে তার মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে এ মুহূর্তে কেউ নেই। গুঞ্জন রয়েছে, একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাকে আনা হবে তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। অনেকের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে এই তিন মন্ত্রণালয়ে রদবদল হবে। তবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, মন্ত্রিসভার রদবদল এবং তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে সংসদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন। আলোচনা আছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ-সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন।

এছাড়া সংসদের হুইপদের মধ্যে দু-একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে। বিএনপির ‘বঞ্চিত’ বলে আলোচনায় থাকা নেতারাও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দিকে তাকিয়ে আছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেও মূল্যায়ন না হওয়া নেতাদের গুরুত্ব বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নীলফামারীতে তিন দিনব্যাপী জেলা ইজতেমা শুরু, অংশ নিয়েছেন ৬ দেশের নাগরিক

কয়েকদিনের মধ্যেই মন্ত্রিসভায় আসছে নতুন মুখ

Update Time : 10:26:01 am, Thursday, 20 August 2026

রাষ্ট্র পরিচালনার প্রথম ৬ মাস অতিক্রম করেছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার। এখন মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের কাজের অগ্রগতি পর্যালোচনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী।

কার্যক্রম আরও বাড়াতে দু-তিনটি মন্ত্রণালয়ে রদবদল এবং নতুন মুখ যুক্ত করার কথা ভাবছেন সরকারপ্রধান। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী কয়েকদিনের মধ্যে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ার কথা রয়েছে। সরকার ও বিএনপিদলীয় সূত্রগুলো যুগান্তরকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আলোচনায় আছেন বান্দরবান থেকে নির্বাচিত সংসদ-সদস্য সাচিং প্রু জেরীকে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী এবং গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনের সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ শামীম কায়সার লিংকনকে ধর্ম প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে।

তবে তারা দুজনই যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি তারা বিভিন্ন মাধ্যমে শুনেছেন। সরকারের শীর্ষ মহল থেকে বুধবার বিকাল পর্যন্ত তাদের নিশ্চিত করা হয়নি। সূত্র জানায়, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দু-একদিন পর মন্ত্রিসভায় নতুন মুখের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসাবে শপথ নেন বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহধর্মবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট দীপেন দেওয়ান।

তিনি পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ১ জুন তিনি পদত্যাগ করেন। প্রায় দুই মাসের মাথায় নতুন মন্ত্রী পেতে যাচ্ছে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যদিও মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বে আছেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন মীর হেলাল।

এদিকে আজ রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচন। সব ঠিক থাকলে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও বিএনপির সদ্য সাবেক মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বঙ্গভবনে যাবেন। ফলে তার মন্ত্রণালয়ে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্বে এ মুহূর্তে কেউ নেই। গুঞ্জন রয়েছে, একজন সিনিয়র মন্ত্রীকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে, বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে এই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে।

তিনি স্থানীয় সরকারমন্ত্রী হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে কাকে আনা হবে তা নিয়ে রয়েছে ব্যাপক কৌতূহল। অনেকের মতে, সালাহউদ্দিন আহমদকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে নেওয়া হলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেতে পারেন পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি। সূত্র জানিয়েছে, আগামী ২২ আগস্টের মধ্যে এই তিন মন্ত্রণালয়ে রদবদল হবে। তবে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী সম্প্রতি গণমাধ্যমকে জানান, মন্ত্রিসভার রদবদল এবং তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ কিছু গণমাধ্যমে যে খবর ছড়ানো হয়েছে, তাতে তিনি বিব্রত।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন হলে সংসদের পাশাপাশি বিএনপি ও সমমনা দলের দু-একজন নেতা টেকনোক্রেট কোটায় মন্ত্রিসভায় নতুন করে জায়গা পেতে পারেন। আলোচনা আছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী, সংসদ-সদস্য আন্দালিব রহমান পার্থ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ড. আসাদুজ্জামান রিপন মন্ত্রিসভায় জায়গা পেতে পারেন।

এছাড়া সংসদের হুইপদের মধ্যে দু-একজনকে মন্ত্রী করা হতে পারে। বিএনপির ‘বঞ্চিত’ বলে আলোচনায় থাকা নেতারাও মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দিকে তাকিয়ে আছেন। ফ্যাসিবাদী সরকারের সময়ে হামলা-মামলা ও নির্যাতন সহ্য করেও মূল্যায়ন না হওয়া নেতাদের গুরুত্ব বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাদের মধ্যে শামসুজ্জামান দুদু, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল ও হাবিব উন নবী খান সোহেলের নাম সবচেয়ে বেশি আলোচনায়।