2:53 am, Sunday, 2 August 2026

রতন সেন হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষের দাবি

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:08:19 pm, Friday, 31 July 2026
  • 10
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের উদ্যোগে রতন সেনের ৩৪তম হত্যা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তাঁর হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত, বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের আহ্বায়ক কার্তিক চক্রবর্তী এবং সঞ্চালনা করেন সুমনা সোমায়া। বক্তারা বলেন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই কমরেড রতন সেনের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। তারা অভিযোগ করেন, রতন সেন হত্যাকাণ্ডের তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড রতন সেনকে। দীর্ঘ সময় পার হলেও এ হত্যার পূর্ণ বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার বিরুদ্ধে রতন সেনের রাজনৈতিক আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক। সভায় আরও বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষ, কৃষক নেতা হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, কৃষক নেতা শওকত আলী, সিপিবি খুলনা মহানগরের সভাপতি বিকাশ সাহা, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখেন্দার হায়াত, শ্রমিকনেতা শামসুল ইসলাম শিমুল, খেলোয়াড় নেতা হাসান মোরশেদ, কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের সংগঠক চঞ্চল দাস, ঝর্ণা খাতুন, নাসরিন আক্তার, মাহমুদ হোসেন রনি, তারিকুল ইসলাম, তুষার রায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হলো— রতন সেন হত্যা মামলার ফাইল পুনরুদ্ধার করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া, প্রয়োজন হলে মামলার পুনঃতদন্ত বা বিচারিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রতন সেনের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে স্মারক বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও জীবনী পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে সিপিবির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

রতন সেন হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত ও বিচার দ্রুত শেষের দাবি

Update Time : 10:08:19 pm, Friday, 31 July 2026

কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের উদ্যোগে রতন সেনের ৩৪তম হত্যা বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক স্মরণসভায় তাঁর হত্যা মামলার পুনঃতদন্ত, বিচার দ্রুত নিষ্পত্তি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে তাঁর স্মৃতি সংরক্ষণের দাবি জানানো হয়েছে। শুক্রবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এ স্মরণসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) কেন্দ্রীয় সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য রুহিন হোসেন প্রিন্স। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের আহ্বায়ক কার্তিক চক্রবর্তী এবং সঞ্চালনা করেন সুমনা সোমায়া। বক্তারা বলেন, অসাম্প্রদায়িক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামকে এগিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই কমরেড রতন সেনের প্রতি প্রকৃত শ্রদ্ধা জানানো সম্ভব। তারা অভিযোগ করেন, রতন সেন হত্যাকাণ্ডের তিন দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখনো ন্যায়বিচার নিশ্চিত হয়নি, যা বিচারহীনতার সংস্কৃতিরই বহিঃপ্রকাশ। সমাবেশে রুহিন হোসেন প্রিন্স বলেন, ১৯৯১ সালের ৩১ জুলাই খুলনা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা কমরেড রতন সেনকে। দীর্ঘ সময় পার হলেও এ হত্যার পূর্ণ বিচার না হওয়া রাষ্ট্রের জন্য লজ্জাজনক বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িকতা, বৈষম্য ও স্বৈরতান্ত্রিক প্রবণতার বিরুদ্ধে রতন সেনের রাজনৈতিক আদর্শ আজও প্রাসঙ্গিক। সভায় আরও বক্তব্য দেন সিপিবির কেন্দ্রীয় নেতা মিহির ঘোষ, কৃষক নেতা হাসান হাফিজুর রহমান সোহেল, কৃষক নেতা শওকত আলী, সিপিবি খুলনা মহানগরের সভাপতি বিকাশ সাহা, হকার্স ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক শেখেন্দার হায়াত, শ্রমিকনেতা শামসুল ইসলাম শিমুল, খেলোয়াড় নেতা হাসান মোরশেদ, কমরেড রতন সেন ব্রিগেডের সংগঠক চঞ্চল দাস, ঝর্ণা খাতুন, নাসরিন আক্তার, মাহমুদ হোসেন রনি, তারিকুল ইসলাম, তুষার রায়সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক, শ্রমিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা। সমাবেশ থেকে তিন দফা দাবি ঘোষণা করা হয়। দাবিগুলো হলো— রতন সেন হত্যা মামলার ফাইল পুনরুদ্ধার করে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া, প্রয়োজন হলে মামলার পুনঃতদন্ত বা বিচারিক তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হত্যাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে রতন সেনের স্মৃতি সংরক্ষণে তাঁর নামে স্মারক বা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা ও জীবনী পাঠ্যসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা। সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল জাতীয় প্রেসক্লাব এলাকা থেকে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুরানা পল্টনে সিপিবির কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়।