ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিরুদ্ধে কটূক্তির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষার্থীদের ক্ষমা করার আহ্বান জানিয়ে দেওয়া ভিডিও বার্তা দেশটির রাজনীতিতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। মোদি যখন তরুণদের প্রতি সহানুভূতি দেখিয়ে তাদের ক্ষমা করে দেওয়ার আহ্বান জানান, তখনই পাল্টা প্রশ্ন তুলেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। দলটির দাবি, শুধু ভিডিও বার্তায় ক্ষমার কথা বললেই হবে না, শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলাও প্রত্যাহার করতে হবে। শনিবার (১ আগস্ট) প্রকাশিত সেলফি-স্টাইলের ভিডিওতে নরেন্দ্র মোদি বলেন, দিল্লির যন্তর মন্তরে চলমান আন্দোলনের সময় কিছু কিশোর অত্যন্ত অশালীন ভাষা ব্যবহার করেছে, যা কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি বলেন, শুধু তাকেই নয়, তার প্রয়াত মাকেও গালিগালাজ করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় জনরোষের বিষয়টি স্বীকার করেও মোদি বলেন, ভুল পথে পরিচালিত তরুণদের সারাজীবনের জন্য অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা উচিত নয়। তাদের আদালতে টেনে নেওয়া বা সামাজিকভাবে হেয় করার পরিবর্তে শিক্ষা ও দিকনির্দেশনার মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, “আমি তাদের ক্ষমা করে দিতে চাই। সমাজেরও উচিত এই বিষয়টি মেনে নেওয়া।” ঘটনার সূত্রপাত দিল্লির যন্তর মন্তরে পরীক্ষা-সংক্রান্ত সংস্কারের দাবিতে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলন থেকে। সেখানে প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগে নয়ডার এক ১৫ বছর বয়সী কিশোরের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে মামলা দায়ের করা হয়। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিলে মোদি ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেন। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যকে ‘সস্তা প্রচার’ বলে সমালোচনা করেছেন ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লেখেন, “বন্ধু, শুধু রিলেই ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাও প্রত্যাহার করে নেবেন?” পরে এক ভিডিও বার্তায় দীপকে অভিযোগ করেন, প্রশাসন এ ক্ষেত্রে দ্বিমুখী নীতি অনুসরণ করছে। তার প্রশ্ন, যদি কটূক্তির জন্য শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়, তাহলে বিজেপির আইটি সেলের যেসব সদস্য দীর্ঘদিন ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিশেষ করে নারীদের উদ্দেশে আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কেন একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না? দীপকের দাবি, বিজেপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনেক সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারী নিজেদের পরিচয়ে ‘Followed by PM Modi’ উল্লেখ করে নিয়মিত নারীদের অবমাননাকর ভাষায় আক্রমণ করেন। তাদের বিরুদ্ধেও সমানভাবে এফআইআর বা মামলা হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। এ ধরনের মন্তব্যকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে তাৎক্ষণিক মামলা দেওয়ার প্রবণতারও সমালোচনা করেন সিজেপি প্রধান। তার ভাষ্য, একই মানদণ্ড প্রয়োগ করতে হলে সবচেয়ে বেশি মামলা হওয়া উচিত বিজেপি নেতাদের ও তাদের আইটি সেলের সদস্যদের বিরুদ্ধে। উল্লেখ্য, মোদির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট নিয়ে অভিজিৎ দীপকের কটাক্ষ নতুন নয়। এর আগে পরীক্ষা-সংক্রান্ত প্রশ্নফাঁসবিরোধী আইন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর একটি ভিডিও পোস্টের মন্তব্যে তিনি লিখেছিলেন, “দেশের ভবিষ্যতের চেয়েও আপনার গায়ের চামড়া বেশি উজ্জ্বল।” শিক্ষার্থী আন্দোলন, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমার বার্তা এবং এর পরবর্তী রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়াকে ঘিরে বর্তমানে ভারতের রাজনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। সূত্র: নিউজ১৮
6:30 am, Monday, 3 August 2026
শিরোনাম :
‘শুধু রিলসেই ক্ষমা করবেন, নাকি মামলাও তুলবেন’
-
MIT ERP
- Update Time : 02:36:22 am, Sunday, 2 August 2026
- 11
Tag :
Popular Post

















