3:57 am, Friday, 31 July 2026

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাঙলা কলেজ শিক্ষার্থী আজিজুরের সাক্ষাৎ

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:51:32 am, Friday, 31 July 2026
  • 1
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মাথায় গুলির ক্ষত, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্পিন্টারের চিহ্ন। জুলাই গণআন্দোলনের সময় আহত হয়ে মাথার রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে যে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধেছিলেন, সেই রক্তমাখা পতাকা হাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শেখ আজিজুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। আজিজুর রহমানের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল, আন্দোলনের সময় রক্তে ভেজা জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া। সাক্ষাতে তিনি সেই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। সম্প্রতি আজিজুরকে নিয়ে গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আজিজুরকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাতের জন্য নিয়ে আসা হয়। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তার আহত হওয়ার ঘটনা, চিকিৎসা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে শিক্ষার খরচ চালানোর বিষয়সহ সার্বিক খোঁজখবর নেন। আজিজুরের জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী সহানুভূতি প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শেখ আজিজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন— এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘এই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। আহত অবস্থায় মাথার ক্ষত ঢাকতে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন। রক্তে ভিজে যায় পতাকাটি, তবু তিনি রাজপথ ছাড়েননি। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান তিনি। তবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দীর্ঘদিনেও তিনি জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ করেন আজিজুর। সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে বর্তমানে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বাঙলা কলেজ শিক্ষার্থী আজিজুরের সাক্ষাৎ

Update Time : 02:51:32 am, Friday, 31 July 2026

মাথায় গুলির ক্ষত, শরীরের বিভিন্ন স্থানে ৩৬টি বুলেটের স্পিন্টারের চিহ্ন। জুলাই গণআন্দোলনের সময় আহত হয়ে মাথার রক্তক্ষরণ বন্ধ করতে যে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধেছিলেন, সেই রক্তমাখা পতাকা হাতে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন শেখ আজিজুর রহমান। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে তার এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। আজিজুর রহমানের দীর্ঘদিনের ইচ্ছা ছিল, আন্দোলনের সময় রক্তে ভেজা জাতীয় পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া। সাক্ষাতে তিনি সেই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর হাতে তুলে দেন। সম্প্রতি আজিজুরকে নিয়ে গণমাধ্যমে ‘গুলিবিদ্ধ হওয়ার পরও শুধু ছাত্রদল করার কারণে মেলেনি জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনটি প্রধানমন্ত্রীর নজরে এলে তিনি তার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে বিষয়টি খোঁজ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে আজিজুরকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সাক্ষাতের জন্য নিয়ে আসা হয়। সাক্ষাতে প্রধানমন্ত্রী তার আহত হওয়ার ঘটনা, চিকিৎসা, লেখাপড়া, বর্তমান জীবনযাপন এবং সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালিয়ে শিক্ষার খরচ চালানোর বিষয়সহ সার্বিক খোঁজখবর নেন। আজিজুরের জীবনসংগ্রামের কথা শুনে প্রধানমন্ত্রী সহানুভূতি প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে শেখ আজিজুর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি দেখা করতে পেরে তিনি আবেগাপ্লুত। নিজের কষ্টের কথা প্রধানমন্ত্রী শুনেছেন এবং তার খোঁজখবর নিয়েছেন— এটি জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। তিনি বলেন, ‘এই পতাকাটি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে দেওয়ার ইচ্ছা ছিল। আজ সেই ইচ্ছা পূরণ হয়েছে। এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়।’ শেখ আজিজুর রহমান সরকারি বাঙলা কলেজের সমাজকর্ম বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য। তার বাড়ি নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণআন্দোলনের সময় মিরপুর-১০ ফ্লাইওভারে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে আলোচনায় আসেন আজিজুর। একপর্যায়ে পুলিশের গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। আহত অবস্থায় মাথার ক্ষত ঢাকতে জাতীয় পতাকা মাথায় বেঁধে নেন। রক্তে ভিজে যায় পতাকাটি, তবু তিনি রাজপথ ছাড়েননি। পরে ১৯ জুলাই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। দুই দিনের রিমান্ড শেষে ২১ জুলাই মুক্তি পান তিনি। তবে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় দীর্ঘদিনেও তিনি জুলাইযোদ্ধার স্বীকৃতি পাননি বলে অভিযোগ করেন আজিজুর। সংসার ও পড়াশোনার খরচ চালাতে বর্তমানে তাকে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালাতে হচ্ছে।