4:50 am, Friday, 31 July 2026

অসহায় মানুষের মুখে অন্ন জোগাচ্ছে ‘মুনলাইট’

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:46:57 am, Friday, 31 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় প্রতিদিন দুপুর হলেই জড়ো হন এতিম, প্রতিবন্ধী, ছিন্নমূল, রিকশাশ্রমিক ও অসহায় পথচারীরা। সবার চোখ থাকে একবেলা গরম খাবারের দিকে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে কর্মহীন ও অনাহারী মানুষের মুখে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার তুলে দিয়ে মানবিকতার অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বনামধন্য মানবিক সংস্থা ‘মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ জুন করোনা মহামারির কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেছিলেন। পরবর্তীতে মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে কর্মসূচিটি নিয়মিত রাখা হয়। সংস্থাটির নিজস্ব বাগানে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজির পাশাপাশি খাবারের তালিকায় থাকে বড় মাছ, ছোট মাছ, ডিম, মুরগি, গরুর মাংস, শুঁটকি ও ডাল। নিয়মিত খাবার নিতে আসা রিকশাশ্রমিক ওয়াহাব জানান, আগে প্রতিদিন দুপুরে খাবারের পেছনে ৯০ থেকে ১০০ টাকা খরচ হতো। এখন মুনলাইটের সুস্বাদু খাবার খেয়ে প্রতি মাসে তার প্রায় তিন হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, যা তিনি পরিবারের অন্য কাজে ব্যয় করেন। একইভাবে প্রবীণ নারী জাহানারা বেগম জানান, সারাদিন ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে। আগে অনেক দিন দুপুরবেলা না খেয়ে থাকতে হতো। এখন নিয়মিত এখানে পেট ভরে মাছ-মাংস ও সবজিসহ ভাত খেতে পেরে তিনি দারুণ স্বস্তি পান। সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মনজুরুল হক টুটু জানান, মুনলাইটের প্রতিটি পদক্ষেপই জনকল্যাণমুখী। খাবার বিতরণের পাশাপাশি এতিম শিশু প্রতিপালন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালের সংকট থেকে শুরু হওয়া মানবিক উদ্যোগটি বর্তমানে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের বিভিন্ন দানশীল মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম এবং পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আবু হাসনাত শহীদ মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, অসহায় মানুষ নিয়মিত পেট ভরে পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় দারুণ উপকৃত হচ্ছেন। বিনা মূল্যে দৈনিক খাবার বিতরণের পাশাপাশি মুনলাইট প্রতি বছর ফল উৎসব, দুই ঈদে পোলাও-মাংস বিতরণ, রমজানে মাসব্যাপী ইফতার এবং শীতে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা, বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান, প্রবীণ ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি এবং নাটাইপাড়ায় ‘মুনলাইট চিলড্রেনস হোম’ পরিচালনার মাধ্যমে এতিম শিশুদের পুনর্বাসন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি। প্রসঙ্গত, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০২২ সালে সারাদেশের সেরা সংগঠনের পুরস্কার অর্জন করা মুনলাইটের এসব বহুমুখী মানবিক উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছেন হাজারো অসহায় মানুষ। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই নিঃস্বার্থ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকুক— এটাই সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

অসহায় মানুষের মুখে অন্ন জোগাচ্ছে ‘মুনলাইট’

Update Time : 03:46:57 am, Friday, 31 July 2026

বগুড়া শহরের প্রাণকেন্দ্র সাতমাথায় প্রতিদিন দুপুর হলেই জড়ো হন এতিম, প্রতিবন্ধী, ছিন্নমূল, রিকশাশ্রমিক ও অসহায় পথচারীরা। সবার চোখ থাকে একবেলা গরম খাবারের দিকে। প্রায় পাঁচ বছর ধরে কর্মহীন ও অনাহারী মানুষের মুখে নিয়মিত পুষ্টিকর খাবার তুলে দিয়ে মানবিকতার অনন্য এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বনামধন্য মানবিক সংস্থা ‘মুনলাইট ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি’। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২১ সালের ১৬ জুন করোনা মহামারির কঠিন সময়ে অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় নিয়ে এই জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম শুরু হয়েছিল। তৎকালীন জেলা প্রশাসক আনুষ্ঠানিকভাবে এর উদ্বোধন করেছিলেন। পরবর্তীতে মানুষের চাহিদার কথা বিবেচনা করে কর্মসূচিটি নিয়মিত রাখা হয়। সংস্থাটির নিজস্ব বাগানে উৎপাদিত বিষমুক্ত সবজির পাশাপাশি খাবারের তালিকায় থাকে বড় মাছ, ছোট মাছ, ডিম, মুরগি, গরুর মাংস, শুঁটকি ও ডাল। নিয়মিত খাবার নিতে আসা রিকশাশ্রমিক ওয়াহাব জানান, আগে প্রতিদিন দুপুরে খাবারের পেছনে ৯০ থেকে ১০০ টাকা খরচ হতো। এখন মুনলাইটের সুস্বাদু খাবার খেয়ে প্রতি মাসে তার প্রায় তিন হাজার টাকা সাশ্রয় হচ্ছে, যা তিনি পরিবারের অন্য কাজে ব্যয় করেন। একইভাবে প্রবীণ নারী জাহানারা বেগম জানান, সারাদিন ভিক্ষা করে যা পান তা দিয়ে কোনোরকমে সংসার চলে। আগে অনেক দিন দুপুরবেলা না খেয়ে থাকতে হতো। এখন নিয়মিত এখানে পেট ভরে মাছ-মাংস ও সবজিসহ ভাত খেতে পেরে তিনি দারুণ স্বস্তি পান। সংস্থাটির নির্বাহী কমিটির সদস্য মনজুরুল হক টুটু জানান, মুনলাইটের প্রতিটি পদক্ষেপই জনকল্যাণমুখী। খাবার বিতরণের পাশাপাশি এতিম শিশু প্রতিপালন, প্রতিবন্ধী শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতেও তারা কাজ করে যাচ্ছেন। করোনাকালের সংকট থেকে শুরু হওয়া মানবিক উদ্যোগটি বর্তমানে বন্ধু-বান্ধব, আত্মীয়-স্বজন ও সমাজের বিভিন্ন দানশীল মানুষের সার্বিক সহযোগিতায় পরিচালিত হচ্ছে। শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. নুরুল ইসলাম এবং পল্লী উন্নয়ন প্রকল্পের পরিচালক আবু হাসনাত শহীদ মহৎ উদ্যোগের প্রশংসা করে জানান, অসহায় মানুষ নিয়মিত পেট ভরে পুষ্টিকর খাবার পাওয়ায় দারুণ উপকৃত হচ্ছেন। বিনা মূল্যে দৈনিক খাবার বিতরণের পাশাপাশি মুনলাইট প্রতি বছর ফল উৎসব, দুই ঈদে পোলাও-মাংস বিতরণ, রমজানে মাসব্যাপী ইফতার এবং শীতে শীতবস্ত্র বিতরণ করে থাকে। এ ছাড়া প্রতিবন্ধী বিদ্যালয় পরিচালনা, বিনা মূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ প্রদান, প্রবীণ ভাতা, শিক্ষাবৃত্তি এবং নাটাইপাড়ায় ‘মুনলাইট চিলড্রেনস হোম’ পরিচালনার মাধ্যমে এতিম শিশুদের পুনর্বাসন ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে সংগঠনটি। প্রসঙ্গত, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে ২০২২ সালে সারাদেশের সেরা সংগঠনের পুরস্কার অর্জন করা মুনলাইটের এসব বহুমুখী মানবিক উদ্যোগে উপকৃত হচ্ছেন হাজারো অসহায় মানুষ। ক্ষুধার্ত মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর এই নিঃস্বার্থ কার্যক্রম ভবিষ্যতেও নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত থাকুক— এটাই সর্বস্তরের মানুষের প্রত্যাশা।