2:47 am, Thursday, 30 July 2026

শিক্ষামন্ত্রীর আগমন ঘিরে ইবির ভাসমান টং দোকান অপসারণের সিদ্ধান্ত

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:36:41 am, Thursday, 30 July 2026
  • 0
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ঝাল চত্বরের ভাসমান টং দোকানগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইবি প্রশাসন। গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট প্রধান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঝাল চত্বরের দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দোকানিরা। অন্যদিকে, হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন ভবনের পাশে অবস্থিত ঝাল চত্বরটি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মুখরোচক খাবারের অন্যতম প্রধান স্থান হিসেবে পরিচিত। এই চত্বরে ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, বিভিন্ন মৌসুমি ফল, লেবুর শরবত থেকে শুরু করে চা, বিস্কুট, বিভিন্ন কনফেকশনারি আইটেম, ভাত, খিচুড়ি ও রুটিসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী খাবার বিক্রি করা হয়। হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখান থেকে খাবার গ্রহণ করেন। এতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হলেও খাবারের উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য আবর্জনার কারণে সেখানে নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এছাড়া কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সেখানকার পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আউয়ালসহ সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এস্টেট অফিসের নোটিশে বলা হয়, ২৮ জুলাই, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের পশ্চিম পাশে আমবাগানের সব ভ্রাম্যমাণ ও টং দোকান আগামী ২৯/০৭/২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না করেই চলে যেতে বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে শরবত বিক্রেতা ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমাদের কয়েক বছরের দোকান এখানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় দোকান করি, এখন তারা আমাদের উঠিয়ে দিচ্ছে। আমাদের তো আর তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা নেই। তাই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঝালমুড়ি বিক্রেতা মোল্লা বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই এই কাজ শিখেছি। এখন হুট করে আজ সকালে এসে বলছে চলে যেতে। আমরা কোথায় যাব বলেন! আর কীভাবে খাবো? এটা ছাড়া আর কোনো কাজও জানি না। এর ওপরেই আমার সংসার চলে, ছেলেপেলেদের লেখাপড়া করাই। মৌসুমি ফল বিক্রেতা মজিদ বলেন, ভাতের দোকানগুলোর কারণে আমবাগানটা নষ্ট হয়। আমরা আগেও ছিলাম। আমি প্রায় ২২ বছর ধরে এই ক্যাম্পাসে দোকান চালাই। বিশ্ববিদ্যালয় ছয় মাস খোলা থাকে, ছয় মাস বন্ধ থাকে। এই ছয় মাসের মধ্যে যদি গরিবের পেটে এভাবে লাথি মারা হয়, তাহলে তো বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। আমি মাস গেলে ভাড়া দিচ্ছি, সব দিচ্ছি। তারপরও যদি এত অত্যাচার হয়! আমাদের মালপত্রের দাম নিয়ে কিনে নেন, টাকা দেন, আমাদের বাড়িতে চলে যাই। সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। নিজের খরচ চালিয়ে নিতে কিছুদিন ধরে ঝাল চত্বরে ছোট একটি ব্যবসা চালাচ্ছি। যদি ব্যবসাটা গুটিয়ে নিতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব এবং জীবিকা নির্বাহ কীভাবে হবে? যদি আমাদের তুলে দিতেই হয়, তাহলে আমরা ব্যবসা করতে পারব কিনা, কোথায় বসব, কীভাবে ব্যবস্থা হবে—তা আগেই নিশ্চিত করা দরকার ছিল। নাহলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। নিয়মিত ছাত্ররা যদি এখানে কোনো সুযোগ-সুবিধা না পায়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? এ বিষয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, কমিটির সভায় ঝাল চত্বরের দোকানগুলো তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টিকে উচ্ছেদ না বলে অপসারণ বলা যায়। তবে তাদের ব্যবসার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। সামনে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম এবং এরপর অভ্যুত্থান দিবসের প্রোগ্রাম নিয়ে আমরা কাজ করছি। এগুলো শেষ হলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

শিক্ষামন্ত্রীর আগমন ঘিরে ইবির ভাসমান টং দোকান অপসারণের সিদ্ধান্ত

Update Time : 01:36:41 am, Thursday, 30 July 2026

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক প্রথম বর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের আগমনকে কেন্দ্র করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ঝাল চত্বরের ভাসমান টং দোকানগুলো অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইবি প্রশাসন। গতকাল বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের এস্টেট প্রধান ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণে গঠিত কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে ঝাল চত্বরের দোকানগুলো সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায় প্রশাসন। তবে এ সিদ্ধান্তে ক্ষুব্ধ হয়েছেন দোকানিরা। অন্যদিকে, হঠাৎ করে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ায় খাবার নিয়ে সমস্যায় পড়ার আশঙ্কা করছেন শিক্ষার্থীরা। প্রশাসন ভবনের পাশে অবস্থিত ঝাল চত্বরটি ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের মুখরোচক খাবারের অন্যতম প্রধান স্থান হিসেবে পরিচিত। এই চত্বরে ঝালমুড়ি, ফুচকা, চটপটি, বিভিন্ন মৌসুমি ফল, লেবুর শরবত থেকে শুরু করে চা, বিস্কুট, বিভিন্ন কনফেকশনারি আইটেম, ভাত, খিচুড়ি ও রুটিসহ বিভিন্ন ধরনের ভারী খাবার বিক্রি করা হয়। হলের ডাইনিংয়ের খাবারের মান সন্তোষজনক না হওয়ায় প্রতিদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী এখান থেকে খাবার গ্রহণ করেন। এতে শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীরা উপকৃত হলেও খাবারের উচ্ছিষ্ট ও অন্যান্য আবর্জনার কারণে সেখানে নোংরা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এছাড়া কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় সেখানকার পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে হয়ে রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, আগামী ১ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের সেন্ট্রাল ওরিয়েন্টেশন আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলনের। এছাড়াও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. মাহদী আমিন, ইউজিসির চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিব আবদুল খালেক, ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ আল মামুন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুল আউয়ালসহ সরকারের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিদের উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। এস্টেট অফিসের নোটিশে বলা হয়, ২৮ জুলাই, সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ভাইস-চ্যান্সেলর কর্তৃক গঠিত কমিটির প্রথম সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের পশ্চিম পাশে আমবাগানের সব ভ্রাম্যমাণ ও টং দোকান আগামী ২৯/০৭/২০২৬ ইং তারিখের মধ্যে পরবর্তী সিদ্ধান্ত না দেওয়া পর্যন্ত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলো। তবে বিকল্প ব্যবস্থা না করেই চলে যেতে বলায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভাসমান ব্যবসায়ীরা। এ বিষয়ে শরবত বিক্রেতা ওবায়দুল্লাহ বলেন, আমাদের কয়েক বছরের দোকান এখানে। বিশ্ববিদ্যালয়ের জায়গায় দোকান করি, এখন তারা আমাদের উঠিয়ে দিচ্ছে। আমাদের তো আর তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার ক্ষমতা নেই। তাই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি। ঝালমুড়ি বিক্রেতা মোল্লা বলেন, আমরা ছোটবেলা থেকেই এই কাজ শিখেছি। এখন হুট করে আজ সকালে এসে বলছে চলে যেতে। আমরা কোথায় যাব বলেন! আর কীভাবে খাবো? এটা ছাড়া আর কোনো কাজও জানি না। এর ওপরেই আমার সংসার চলে, ছেলেপেলেদের লেখাপড়া করাই। মৌসুমি ফল বিক্রেতা মজিদ বলেন, ভাতের দোকানগুলোর কারণে আমবাগানটা নষ্ট হয়। আমরা আগেও ছিলাম। আমি প্রায় ২২ বছর ধরে এই ক্যাম্পাসে দোকান চালাই। বিশ্ববিদ্যালয় ছয় মাস খোলা থাকে, ছয় মাস বন্ধ থাকে। এই ছয় মাসের মধ্যে যদি গরিবের পেটে এভাবে লাথি মারা হয়, তাহলে তো বেঁচে থাকার চেয়ে মরে যাওয়াই ভালো। আমি মাস গেলে ভাড়া দিচ্ছি, সব দিচ্ছি। তারপরও যদি এত অত্যাচার হয়! আমাদের মালপত্রের দাম নিয়ে কিনে নেন, টাকা দেন, আমাদের বাড়িতে চলে যাই। সিএসই বিভাগের শিক্ষার্থী আরাফাত বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত ছাত্র। নিজের খরচ চালিয়ে নিতে কিছুদিন ধরে ঝাল চত্বরে ছোট একটি ব্যবসা চালাচ্ছি। যদি ব্যবসাটা গুটিয়ে নিতে হয়, তাহলে আমরা কোথায় যাব এবং জীবিকা নির্বাহ কীভাবে হবে? যদি আমাদের তুলে দিতেই হয়, তাহলে আমরা ব্যবসা করতে পারব কিনা, কোথায় বসব, কীভাবে ব্যবস্থা হবে—তা আগেই নিশ্চিত করা দরকার ছিল। নাহলে আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হবে। নিয়মিত ছাত্ররা যদি এখানে কোনো সুযোগ-সুবিধা না পায়, তাহলে আমরা কোথায় যাব? এ বিষয়ে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক ও বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. শাহীনুজ্জামান বলেন, কমিটির সভায় ঝাল চত্বরের দোকানগুলো তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। বিষয়টিকে উচ্ছেদ না বলে অপসারণ বলা যায়। তবে তাদের ব্যবসার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা করা হবে। সামনে ওরিয়েন্টেশন প্রোগ্রাম এবং এরপর অভ্যুত্থান দিবসের প্রোগ্রাম নিয়ে আমরা কাজ করছি। এগুলো শেষ হলে তাদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে।