3:49 am, Thursday, 30 July 2026

কাশ্মীরে গুলির ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত চায় অ্যামনেস্টি

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:31:24 am, Thursday, 30 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত, অবিলম্বে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় আন্দোলনকারী এবং জম্মু ও কাশ্মীর যৌথ কর্মপরিষদের নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করলে রাওয়ালকোট এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ৫ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে পৌঁছেছে। অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ইসাবেল লাসি বলেন, রাওয়ালকোটের ঘটনা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা বেআইনি সহিংসতারই ধারাবাহিকতা। সংস্থাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমন বন্ধ, যৌথ কর্মপরিষদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তিনি কাশ্মীরের আন্দোলনকারীদের ভারতের মতোই শত্রু বলে মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, জুন মাস থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরজুড়ে ৯০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। নিহতদের মধ্যে মানবাধিকারবিষয়ক আন্দোলনে সক্রিয় যৌথ আওয়ামী কর্মপরিষদের সদস্যরাও রয়েছেন। যৌথ আওয়ামী কর্মপরিষদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা কোনো বেআইনি কর্মকা-ে জড়িত নয়; বরং নিজেদের এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর পর ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অভিযোগও করেছে সংগঠনটি। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করাই বর্তমান সংকট উত্তরণের প্রধান শর্ত।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কাশ্মীরে গুলির ঘটনায় স্বাধীন তদন্ত চায় অ্যামনেস্টি

Update Time : 02:31:24 am, Thursday, 30 July 2026

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত জম্মু ও কাশ্মীরে আঞ্চলিক নির্বাচনকে ঘিরে বিক্ষোভকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর গুলি চালানোর ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। সংস্থাটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্ত, অবিলম্বে ইন্টারনেট ও মোবাইল যোগাযোগ পুনরায় চালু এবং মানবাধিকার রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। স্থানীয় আন্দোলনকারী এবং জম্মু ও কাশ্মীর যৌথ কর্মপরিষদের নেতাদের অভিযোগ, নির্বাচনে অনিয়মের আশঙ্কা এবং রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী অতিরিক্ত শক্তি প্রয়োগ করছে। তাদের দাবি, কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা মুজাফফরাবাদের উদ্দেশে পদযাত্রা শুরু করলে রাওয়ালকোট এলাকায় নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। এতে অন্তত ১৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হন। আন্দোলনকারীদের দাবি, গত ৫ জুন থেকে ২৮ জুলাই পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭ জনে পৌঁছেছে। অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ইসাবেল লাসি বলেন, রাওয়ালকোটের ঘটনা বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চলা বেআইনি সহিংসতারই ধারাবাহিকতা। সংস্থাটি সন্ত্রাসবিরোধী আইন ব্যবহার করে বিক্ষোভ দমন বন্ধ, যৌথ কর্মপরিষদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং সংবাদমাধ্যম ও স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের ঘটনাস্থল পরিদর্শনের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এদিকে পরিস্থিতি নিয়ে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে তিনি কাশ্মীরের আন্দোলনকারীদের ভারতের মতোই শত্রু বলে মন্তব্য করেন। তার এই বক্তব্য দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও মানবাধিকার মহলে সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, জুন মাস থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরজুড়ে ৯০ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে সাধারণ মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগও উঠেছে। নিহতদের মধ্যে মানবাধিকারবিষয়ক আন্দোলনে সক্রিয় যৌথ আওয়ামী কর্মপরিষদের সদস্যরাও রয়েছেন। যৌথ আওয়ামী কর্মপরিষদের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, তারা কোনো বেআইনি কর্মকা-ে জড়িত নয়; বরং নিজেদের এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। নিরস্ত্র মানুষের ওপর গুলি চালানোর পর ঘটনাকে ভিন্নভাবে উপস্থাপনের অভিযোগও করেছে সংগঠনটি। ক্রমবর্ধমান এই সহিংসতায় আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, নিরপেক্ষ তদন্ত, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং শান্তিপূর্ণ মতপ্রকাশের অধিকার রক্ষা করাই বর্তমান সংকট উত্তরণের প্রধান শর্ত।