একসময় যিনি তার দুর্দান্ত অভিনয় দিয়ে দর্শকদের হাসিয়েছেন, কাঁদিয়েছেন আর স্ক্রিনের সামনে বুঁদ করে রেখেছেন, আজ জীবনের এক কঠিনতম অধ্যায়ে এসে তিনি নিজেই বড় অসহায়। তিনি আর কেউ নন, সবার পরিচিত ও গুণী অভিনেতা সমু চৌধুরী।
বেশ কয়েক বছর ধরে তীব্র মানসিক অসুস্থতায় ভুগছেন তিনি। চিকিৎসার জন্য প্রয়োজন ছিল বিপুল অর্থের, কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে চরম আর্থিক অনটনের কারণে তার পরিবার উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছিল না। অবশেষে এই গুণী শিল্পীর দুর্দিনে ত্রাতা হয়ে এগিয়ে এলো অভিনয়শিল্পী সংঘ। সংগঠনটি ঘোষণা দিয়েছে, সমু চৌধুরীর চিকিৎসার সমস্ত খরচ এখন থেকে তারাই বহন করবে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমু চৌধুরীর কয়েকটি অসংলগ্ন ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে নেটিজেনদের একাংশ সস্তা বিনোদন বানানোর চেষ্টা করলেও সচেতন মহল ও তার সহকর্মীদের মনে তা গভীর উদ্বেগের জন্ম দেয়। এরপরই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন অভিনেতার বৃদ্ধা মা। তিনি অশ্রুসজল চোখে ছেলের মানসিক অসুস্থতা ও অর্থাভাবের কারণে চিকিৎসা করাতে না পারার করুণ বাস্তবতার কথা তুলে ধরেন।
মায়ের সেই আকুতি স্পর্শ করে দেশের বিনোদন অঙ্গনকে। সমু চৌধুরীর এই পরিস্থিতির খবর পাওয়ার পরপরই সক্রিয় হয়ে ওঠে অভিনয়শিল্পী সংঘ। সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু জানান, তারা প্রথম থেকেই বিষয়টিকে নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছিলেন। মূলত পরিবারের সম্মতির অপেক্ষায় ছিলেন তারা। পরিবারের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর গত ২৮ অক্টোবর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
রাশেদ মামুন অপু স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘সমু চৌধুরীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে আমরা প্রস্তুত ছিলাম। তার পরিবারের সম্মতি পেয়েছি এবং ইতোমধ্যে প্রসেসিং শুরু হয়ে গেছে। তার পুরো চিকিৎসা আমাদের নিজস্ব তত্ত্বাবধানে হবে এবং সমস্ত খরচ অভিনয়শিল্পী সংঘ বহন করবে। ’ সংগঠন সূত্রে জানা গেছে, প্রায় তিন বছর আগেও গফরগাঁওয়ে সমু চৌধুরীর একটি অসংলগ্ন ভিডিও ভাইরাল হয়েছিল।
সে সময়ও অভিনয়শিল্পী সংঘের পক্ষ থেকে তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে তৎকালীন সময়ে পরিবারের অনিচ্ছার কারণে তা আর এগোয়নি। এবার পরিবারের পূর্ণ সমর্থন থাকায় আর কোনো বিলম্ব না করে দ্রুত তাকে উন্নত চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে।





















