4:00 pm, Saturday, 1 August 2026

প্রবাসীর ব্যতিক্রমী ৫ ফুট চওড়া ঘর এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণ

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:36:10 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার স্বল্প পেন্নাই গ্রামে মাত্র এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি ব্যতিক্রমী বসতঘর ঘিরে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৮৫ ফুট হলেও ঘরটির প্রস্থ মাত্র ৫ ফুট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘরটি দেখতে আসছেন। ঘরটির মালিক সৌদি আরব প্রবাসী মো. শাহজালাল। স্থানীয়দের ভাষ্য, জমিটি আগে ডোবা ছিল। সেটি ভরাট করে চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে ঘরটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটিই শাহজালালের পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল। শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। সে সময় শাহজালাল দেশে মাইক্রোবাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা-মোকদ্দমার কারণে পরিবারটি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়ে। একপর্যায়ে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে কখনও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কখনও খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হয়েছে। ২০২০ সালে সৌদি আরবে যাওয়ার পর শাহজালালের পাঠানো অর্থে চলতি বছরের জুনে ছোট্ট এই বসতঘর নির্মাণ করা হয়। খাদিজা আক্তার বলেন, ঘরটি আকারে ছোট হলেও প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের প্রবেশমুখে রয়েছে ছোট একটি রান্নাঘর। এরপর খাবার ঘর, যেখানে রান্নার সামগ্রী রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পরবর্তী অংশে শোয়ার কক্ষ, যেখানে একটি ছোট চৌকিতে পরিবারের সদস্যরা রাত কাটান। এছাড়া রয়েছে কাপড়চোপড় রাখার স্থান, পানির মোটর এবং একটি শৌচাগার। ঘরের সামনে ও পেছনে সামান্য খোলা জায়গাও রাখা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ ঘর দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা বলছেন, বাস্তবে ঘরটি না দেখলে পরিবারের সংগ্রাম ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা উপলব্ধি করা কঠিন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির নিজস্ব কোনো বসতঘর ছিল না। নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন কাটানোর পর অবশেষে তারা নিজেদের একটি ঠিকানা পেয়েছে। গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা আক্তার বলেন, সীমিত আয়ের কারণে শাহজালালের পক্ষে বড় কোনো জমি কেনা সম্ভব হয়নি। এলাকায় জমির দামও অনেক বেশি। তাই অল্প জায়গার মধ্যেই পরিবারটি নিজেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে। স্থানীয়দের মতে, ছোট হলেও এই ঘরটি শুধু একটি বসতঘর নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রামের পর একটি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার প্রতীক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

উল্লাপাড়ার প্রবাসী জুলফিকার ও বোন গুলশান আরার বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ

প্রবাসীর ব্যতিক্রমী ৫ ফুট চওড়া ঘর এখন দর্শনার্থীদের আকর্ষণ

Update Time : 01:36:10 pm, Saturday, 1 August 2026

কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার স্বল্প পেন্নাই গ্রামে মাত্র এক শতাংশ জমির ওপর নির্মিত একটি ব্যতিক্রমী বসতঘর ঘিরে মানুষের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। দৈর্ঘ্যে প্রায় ৮৫ ফুট হলেও ঘরটির প্রস্থ মাত্র ৫ ফুট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর প্রতিদিনই দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ঘরটি দেখতে আসছেন। ঘরটির মালিক সৌদি আরব প্রবাসী মো. শাহজালাল। স্থানীয়দের ভাষ্য, জমিটি আগে ডোবা ছিল। সেটি ভরাট করে চলতি বছরের জুন মাসে প্রায় আড়াই লাখ টাকা ব্যয়ে টিনের ছাউনি ও বেড়া দিয়ে ঘরটি নির্মাণ করা হয়। বর্তমানে এটিই শাহজালালের পরিবারের একমাত্র আশ্রয়স্থল। শাহজালালের স্ত্রী খাদিজা আক্তার জানান, ২০১৩ সালে তাদের বিয়ে হয়। সে সময় শাহজালাল দেশে মাইক্রোবাস চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। পরে কর্মসংস্থানের জন্য বিদেশে যান। পারিবারিক জমি নিয়ে দীর্ঘদিন মামলা-মোকদ্দমার কারণে পরিবারটি আর্থিকভাবে চরম সংকটে পড়ে। একপর্যায়ে স্ত্রী ও তিন সন্তানকে নিয়ে কখনও আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে, আবার কখনও খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাতে হয়েছে। ২০২০ সালে সৌদি আরবে যাওয়ার পর শাহজালালের পাঠানো অর্থে চলতি বছরের জুনে ছোট্ট এই বসতঘর নির্মাণ করা হয়। খাদিজা আক্তার বলেন, ঘরটি আকারে ছোট হলেও প্রয়োজনীয় সব সুবিধা রাখার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন। সরেজমিনে দেখা যায়, ঘরের প্রবেশমুখে রয়েছে ছোট একটি রান্নাঘর। এরপর খাবার ঘর, যেখানে রান্নার সামগ্রী রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। পরবর্তী অংশে শোয়ার কক্ষ, যেখানে একটি ছোট চৌকিতে পরিবারের সদস্যরা রাত কাটান। এছাড়া রয়েছে কাপড়চোপড় রাখার স্থান, পানির মোটর এবং একটি শৌচাগার। ঘরের সামনে ও পেছনে সামান্য খোলা জায়গাও রাখা হয়েছে। ব্যতিক্রমী এ ঘর দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে মানুষ ভিড় করছেন। দর্শনার্থীরা বলছেন, বাস্তবে ঘরটি না দেখলে পরিবারের সংগ্রাম ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বেঁচে থাকার প্রচেষ্টা উপলব্ধি করা কঠিন। স্থানীয় বাসিন্দা মো. রিয়াজ উদ্দিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির নিজস্ব কোনো বসতঘর ছিল না। নানা কষ্টের মধ্য দিয়ে জীবন কাটানোর পর অবশেষে তারা নিজেদের একটি ঠিকানা পেয়েছে। গৌরীপুর ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্য জাহানারা আক্তার বলেন, সীমিত আয়ের কারণে শাহজালালের পক্ষে বড় কোনো জমি কেনা সম্ভব হয়নি। এলাকায় জমির দামও অনেক বেশি। তাই অল্প জায়গার মধ্যেই পরিবারটি নিজেদের জন্য একটি নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে। স্থানীয়দের মতে, ছোট হলেও এই ঘরটি শুধু একটি বসতঘর নয়, বরং দীর্ঘ সংগ্রামের পর একটি পরিবারের মাথা গোঁজার ঠাঁই পাওয়ার প্রতীক।