আজ শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬
১৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৯ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৯%

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম জব্দ

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:50:27 pm, Friday, 30 October 2026
  • 23

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম জব্দ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ২২ দিনের এ অভিযানে ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭০ মিটার অবৈধ জাল, ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের জাল, চারটি বোট ও ৫৭০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

এ সময় ৬ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়। জব্দ করা সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৬১ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৯০ টাকা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন, বংশবিস্তার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গত ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ২২ দিনের অভিযান বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শেষ হয়েছে। নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অপারেশনের মাধ্যমে অভিযানটি বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযান পরিচালনায় দেশের ৯টি জেলায় সাতটি জাহাজ ও বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করে নৌবাহিনী। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ ঠেকাতে জাহাজ ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়।

এ ছাড়া সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীসহ ইলিশের প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলোতে টহল ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।

জব্দ করা জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ব্যক্তি ও মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বোটগুলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়। নৌবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের অভিযান মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলেরা পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পথ সুগম হচ্ছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

যুবসমাজই যেকোনো জাতির অগ্রগতির প্রধান চালিকাশক্তি: প্রধানমন্ত্রী

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান: ৬১ কোটি টাকার অবৈধ জাল ও সরঞ্জাম জব্দ

Update Time : 07:50:27 pm, Friday, 30 October 2026

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন করেছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। ২২ দিনের এ অভিযানে ৮৪ লাখ ২১ হাজার ৬৭০ মিটার অবৈধ জাল, ১৬৬টি বিভিন্ন ধরনের জাল, চারটি বোট ও ৫৭০ কেজি মা ইলিশ জব্দ করা হয়েছে।

এ সময় ৬ হাজার টাকা জরিমানাও আদায় করা হয়। জব্দ করা সামগ্রীর আনুমানিক মূল্য ৬১ কোটি ১৮ লাখ ৩ হাজার ৮৯০ টাকা। শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) বাংলাদেশ নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের জাতীয় সম্পদ ইলিশের নিরাপদ প্রজনন, বংশবিস্তার ও সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

গত ৮ অক্টোবর শুরু হওয়া ২২ দিনের অভিযান বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) শেষ হয়েছে। নৌবাহিনীর নিয়মিত টহল ও অপারেশনের মাধ্যমে অভিযানটি বাস্তবায়ন করা হয়। অভিযান পরিচালনায় দেশের ৯টি জেলায় সাতটি জাহাজ ও বিভিন্ন কন্টিনজেন্ট মোতায়েন করে নৌবাহিনী। গভীর সমুদ্রে দেশি-বিদেশি মাছ ধরার নৌযানের অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং নিষিদ্ধ সময়ে ইলিশ আহরণ ঠেকাতে জাহাজ ও মেরিটাইম পেট্রোল এয়ারক্রাফটের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হয়।

এ ছাড়া সমুদ্র, উপকূলীয় অঞ্চল ও দেশের অভ্যন্তরীণ নদ-নদীসহ ইলিশের প্রধান প্রজননক্ষেত্রগুলোতে টহল ও সংরক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। স্থানীয় প্রশাসন, অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড, নৌ পুলিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের সঙ্গে সমন্বয় করে বিভিন্ন অভিযান চালানো হয়। অভিযানে জব্দ করা অবৈধ জাল স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে ধ্বংস করা হয়।

জব্দ করা জাটকা স্থানীয় এতিমখানায় বিতরণ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা অমান্যকারী ব্যক্তি ও মাছ ধরার কাজে ব্যবহৃত বোটগুলোকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পাশাপাশি ইলিশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়াতে প্রচার-প্রচারণাও চালানো হয়। নৌবাহিনীর বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, এ ধরনের অভিযান মা ইলিশের নির্বিঘ্ন প্রজনন ও বংশবিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি দেশে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ শেষ হওয়ায় জেলেরা পুনরায় স্বাভাবিকভাবে মাছ আহরণ ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পাচ্ছেন। একই সঙ্গে দেশের সামুদ্রিক ও অভ্যন্তরীণ জলাশয়ের মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ এবং টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার পথ সুগম হচ্ছে।