সন্ত্রাসীদের মদদে সাজেক সড়কে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের আজ নবম দিন চলছে। এই অহেতুক অবরোধের ফলে পর্যটন ব্যবসায় ধস নেমেছে এবং চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ৩০ হাজার মানুষ।
খাগড়াছড়ি জেলা শহর থেকে শুরু করে দীঘিনালা বাজার, বাঘাইহাট বাজার, উজো বাজার, মাসালং বাজার ও সাজেক ভ্যালিতে চরম সংকট ও অভাব দেখা দিয়েছে। আধিপত্য বিস্তারকে কেন্ত্র করে এক সন্ত্রাসী গ্রুপ অন্য এক সন্ত্রাসী গ্রুপের বিরুদ্ধে গিয়ে সাজেকের মত গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকায় অবরোধ ডেকে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে রাখা হয়েছে। খোজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সাজেকে সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র বাহিনীর অবস্থানকে কেন্দ্র করে সেনাবাহিনীর সাথে সংঘর্ষ ও দাতা সংস্থার ইন্ধনে ইউপি ডিএফ সাধারণ মানুষকে ব্যবহার করে সাজেক ভ্যালি দখলের পায়তারা করছে।
মূলতঃ ঝামেলা হলো আধিপত্য বিস্তার ও চাঁদাবাজি নিয়ে ভাগাভাগি অন্য আর তো কিছুই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। বার বার যে ২টি সংগঠনের নাম প্রিন্টও ইলেকট্টনিক্স মিডিয়ায় ভেসে আসছে এসব তোইউপিডিএফের বাস্তবায়িত এজেন্দা। সরকার কেন এই সুযোগে ওই এলাকায় স্থায়ী সেনা ক্যাম্প ও সাঁড়াশি অভিযান দিচ্ছে না! এখনই তো সময় দু’গ্রুপের ইস্যু নিয়ে যৌথবাহিনীর অভিযান পরিচালনা করা হলে সব সন্ত্রাসী গিয়ে পালাবে কালো পাহাড়ে।
পর্যটক ব্যবসায়িও সাজেকের স্থায়ী বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত ১১অক্টোবর হতে সাজেকে সৃষ্ঠ ঘটনা প্রশাসন এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু সমাধান দিতে পারছে না! গত ২৬ অক্টোবর পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয় সম্পকিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও খাগড়াছড়ি জেলার সাংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভুইয়ার নেতৃত্বে রাঙামাটির সাংসদ সদস্য, রাঙামাটির ডিসি-এসপি ও খাগড়াছড়ির ডিসি-এসপি ও বাঘাইছড়ির স্থানীয় প্রশাসন বাঘাইহাটের উজো- বাজার এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে আড়াই ঘন্টা কথা বলেও কোন সুরাহ বা সমাধানে আসেনি।
অবরোধকারীরা তাদের অবরোধ চালিয়ে যাচ্ছে। এভাবে একটি দেশ চলতে পারে না। মনে হয় ওখানকার আইনশৃঙ্খলাবাহিনী ও প্রশাসন ওদের কাছে জিম্মি। বর্তমানে সাজেকের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চায় সাজেকের সাধারণ জনগণ। এদিকে, পার্বত্য অঞ্চলে শান্তিও সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠায় ‘সচেতন নাগরিক সমাজ বাংলাদেশ’ ব্যানারে শুক্রবার বিকালে রাঙামাটি শহরের বনরুপাস্থ পুলিশ বক্সের সামনে এক বিশাল মানবন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।
উক্ত মানবন্ধনে উক্ত মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন, অবসরপ্রাপ্ত মেজর আহমেদ ফেরদৌস, বিশিষ্ট সামরিক বিশ্লেষক, কলামিস্ট ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও স্থানীয় নাগরিক পরিষদ ও ছাত্র পরিষদের জেলা উপজেলা পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। এসময় বক্তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সুদৃঢ় করণ, পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি এবং সকল সম্প্রদায়ের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
সাজেকে সমস্যা চলছে সেটা শুধুমাত্র তাদের আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করেই। অন্য আর কোন কিছুই না।






















