মরুর দেশ সিরিয়া থেকে শুরু করে উন্নত দেশ যুক্তরাজ্য প্রকৃতির রুদ্ররূপে বিপর্যস্ত বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চল। কোথাও নদীর পানি উপচে সড়ক ডুবে গেছে, কোথাও ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবের পর দেখা দিয়েছে ভয়াবহ বন্যা।
অতিবৃষ্টি, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসে বিপর্যস্ত ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা এবং দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশ। সিরিয়ায় ফোরাত নদীর পানি উপচে সৃষ্ট বন্যায় শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, ভুটানে হিমবাহ ধস এবং ভারতে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দেশে দেশে এমন দুর্যোগের ঘনঘটার কারণ কী?
এ পরিস্থিতির জন্য কাকে দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞরা? সম্প্রতি সিরিয়ায় ঐতিহাসিক ফোরাত নদীর পানি উপচে পড়ে ঘানেম আলি এলাকার সড়কটি পুরোপুরি পানির নিচে তলিয়ে যায়। সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা হলেও পানি না কমায় প্লাবিত সড়ক দিয়েই গাড়ি চলাচলের দৃশ্য দেখা যায়। এমনকি অতিবৃষ্টি ও আকস্মিক পাহাড়ি ঢলে ফোরাত নদী এবং এর অন্যতম প্রধান শাখা খাবুর নদীর পানি বেড়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
মরুপ্রধান এ দেশে এমন অস্বাভাবিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে শিশুসহ অন্তত পাঁচজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সিরিয়ার পাশাপাশি বন্যায় বিপর্যস্ত বিশ্বের অন্যতম ধনী ও শিল্পোন্নত দেশ যুক্তরাজ্যের বেশ কয়েকটি এলাকাও। গত সপ্তাহে উত্তর ইংল্যান্ডের বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘স্টর্ম বোয়েলো’। ঝড়ের তাণ্ডব থেমে গেলেও বন্যার পানি নামেনি।
বিভিন্ন এলাকায় এখনো স্পষ্ট ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন। একটানা প্রবল বৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ইউরোপের দেশ গ্রিসের মূল ভূখণ্ড ও দ্বীপাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। মুষলধারে বৃষ্টিতে রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে নদীর মতো হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নৌকায় চলাচল করতে হচ্ছে। পানিতে ভেসে গেছে বহু ঘরবাড়ি ও গাড়ি। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ ও পানির সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়েছে।
ভারী বৃষ্টি ও ঘূর্ণিঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মুখে পড়েছে উত্তর আমেরিকার দেশ মেক্সিকো। বন্যার পানিতে ভেসে আসা বেশ কয়েকটি গাড়ি ও বাস সমুদ্রতীরে আটকে পড়েছে। এসব দুর্যোগে বেশ কয়েকজনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। অন্যদিকে, রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিতে নজিরবিহীন বন্যা ও ভূমিধসের কবলে পড়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ চিলির রাজধানী সান্তিয়াগো ও আশপাশের বেশ কয়েকটি এলাকা।
পানির তোড়ে সড়কে থাকা অসংখ্য গাড়ি ভেসে গেছে। পানির নিচে তলিয়ে গেছে বহু ঘরবাড়ি। বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার। ঘূর্ণিঝড় ও বন্যায় বিপর্যস্ত দক্ষিণ এশিয়ার ভারত এবং প্রতিবেশী ভুটানও। সম্প্রতি ভুটানের গাসা জেলায় হিমবাহ ধসে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এতে মো ছু নদীর তীরবর্তী জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্রের প্রায় সব স্থাপনা ভেসে যায়।
তবে আগেই এলাকাটি খালি করে ফেলায় প্রাণহানির কোনো খবর পাওয়া যায়নি। ভুটানে হিমবাহ ধসের কিছু সময় আগে ভারতের পূর্ব উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। ঝড়ের প্রভাবে অন্ধ্রপ্রদেশ ও ওড়িশার বিস্তীর্ণ এলাকায় ৩০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হয়। প্রবল বাতাসে বহু গাছপালা ও বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে গিয়ে যোগাযোগ ও বিদ্যুৎব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
জারি করা হয় বন্যার সতর্কতা। অর্ণবের প্রভাবে বেশ কয়েকজন নিহতের ঘটনাও ঘটে। বাংলাদেশে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব তেমনভাবে না পড়লেও বেশ কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হয়েছে। দেশে দেশে বিধ্বংসী ঘূর্ণিঝড়, আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের কারণ হিসেবে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ও জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সামনে আনছেন জলবায়ু বিজ্ঞানীরা। তাদের মতে, পরিবেশের তাপমাত্রা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ ও বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তন ঘটছে।
এল নিনোর মতো প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্রের প্রভাবও কোনো কোনো অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে। এসব কারণে ক্রমেই বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে অতিবৃষ্টি ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।






















