বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আয়োজিত ‘ব্রাউন ওয়াটার অপারেশন অ্যান্ড অ্যান্টি হিউম্যান ট্রাফিকিং কোর্স-২০২৬’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। পাঁচ দিনব্যাপী এ প্রশিক্ষণে সাতটি দেশের আটজন বিদেশি প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গত ২৫ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রশিক্ষণ ঘাঁটি বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রায় এ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে শ্রীলঙ্কা, মালদ্বীপ, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, ভারত, কেনিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার আটজন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নেন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ নৌবাহিনীর দুজন ও বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দুজনসহ মোট ১২ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে কোর্সটি সম্পন্ন করেন। প্রশিক্ষণ শেষে সমাপনী ও সনদ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মনজুর মোর্শেদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক রিয়ার অ্যাডমিরাল মো. মঈনুল হাসানসহ ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কোর্সটির মাধ্যমে অংশগ্রহণকারী কর্মকর্তাদের পেশাগত জ্ঞান, নদী ও উপকূলীয় জলসীমায় অভিযান পরিচালনার দক্ষতা এবং মানব পাচার প্রতিরোধে সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়, তথ্য আদান-প্রদান ও পারস্পরিক সমন্বয় জোরদারের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে আঞ্চলিক সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আন্তদেশীয় অপরাধ দমন এবং বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ও বহুপক্ষীয় সহযোগিতা সম্প্রসারণে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রশিক্ষণ সক্ষমতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, দেশের সমুদ্রসীমা ও অভ্যন্তরীণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে মানব পাচার, অবৈধ অভিবাসন, সামুদ্রিক অপরাধ ও আন্তদেশীয় নিরাপত্তা হুমকি মোকাবিলায় এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অপরিসীম। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এ প্রশিক্ষণ আয়োজন বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় বহন করে। পাশাপাশি বন্ধুপ্রতিম দেশগুলোর সঙ্গে অভিজ্ঞতা বিনিময় ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড এবং দেশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল হবে।
প্রশিক্ষণটি সফলভাবে আয়োজনের জন্য তিনি বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালক, বিসিজি বেইস অগ্রযাত্রার কমান্ড্যান্টসহ সংশ্লিষ্ট সবার নেতৃত্ব, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন। বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের প্রশিক্ষণ কার্যক্রমকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা, দেশি-বিদেশি প্রশিক্ষণার্থীদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে ভবিষ্যতেও এ ধরনের আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ আয়োজন অব্যাহত থাকবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।





















