রাষ্ট্রপতি ও গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (গাকৃবি) আচার্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান। বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১১টায় রাষ্ট্রপতির কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
সাক্ষাৎকালে উপাচার্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাম্প্রতিক অর্জন, গবেষণা ও উদ্ভাবনে অগ্রগতি, আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সাফল্য এবং দেশের কৃষি ও কৃষকের কল্যাণে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার চিত্র শুনে রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং দেশের কৃষিক্ষেত্রে আরও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে গাকৃবিকে পরামর্শ দেন।
সাক্ষাৎকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. জাহিদুর রহমান, ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মো. সফিউল ইসলাম আফ্রাদ এবং রেজিস্ট্রার মো. আব্দুল্লাহ মৃধা উপস্থিত ছিলেন। ২০২৬ সালে কৃষিক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মর্যাদাপূর্ণ ‘হুজ হু’ পুরস্কারপ্রাপ্ত মৃত্তিকা ও পরিবেশবিজ্ঞানী উপাচার্য অধ্যাপক ড. জিকেএম মোস্তাফিজুর রহমান রাষ্ট্রপতিকে জানান, গবেষণা, উদ্ভাবন, একাডেমিক উৎকর্ষ ও প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নে গাকৃবি ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের প্রথম ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার-২০২৬’-এ দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে গাকৃবি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করেছে। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন র‌্যাঙ্কিংয়ে জাতীয় পর্যায়ে শীর্ষস্থানীয় অবস্থান এবং বৈশ্বিক পরিসরে উল্লেখযোগ্য সাফল্যও বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রযাত্রার প্রতিফলন।
উপাচার্য আরও জানান, গবেষণায় অর্থায়ন বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের জন্য আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ, একাডেমিক মানোন্নয়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নেও বিশ্ববিদ্যালয় অগ্রগতি অর্জন করেছে। উচ্চশিক্ষা ও গবেষণাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক সম্মেলন আয়োজন এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যকর সহযোগিতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দেশের ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার খাদ্যচাহিদা পূরণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা এবং কৃষির টেকসই উন্নয়নে গবেষণা জোরদারের বিষয়টিও রাষ্ট্রপতিকে জানান উপাচার্য। তিনি বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের উপযোগী ও লবণাক্ততা-সহনশীল ফসলের জাত উদ্ভাবনের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে কৃষিপ্রযুক্তির কার্যকর সম্প্রসারণে কাজ করছে বিশ্ববিদ্যালয়। এ ছাড়া দুটি টেকনোলজি ভিলেজ অধিক জনবহুল এলাকায় স্থানান্তর ও বহুমুখীকরণ এবং গবেষণালব্ধ উদ্ভাবন কৃষকের বাস্তব উপকারে কাজে লাগানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সাক্ষাৎকালে শিক্ষার্থীদের কল্যাণ ও অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়। ২০২৪ সালের জুলাই-পরবর্তী পরিবর্তিত প্রেক্ষাপটে শিক্ষার্থীদের ন্যায্য প্রত্যাশার প্রতি সংবেদনশীল থাকা, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং পারস্পরিক আলোচনা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের পরিবেশ গড়ে তোলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন উপাচার্য।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অবহিত হওয়ার পর রাষ্ট্রপতি সন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি দেশের কৃষি, গবেষণা ও উদ্ভাবনের বিকাশে গাকৃবিকে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার পরামর্শ দেন। একই সঙ্গে গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় পরিদর্শনের আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। আগামী ১৮ মার্চ ২০২৭ গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠেয় পঞ্চম সমাবর্তনে সভাপতি হিসেবে উপস্থিত থাকার বিষয়েও সম্মতি জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।





















