আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১২ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩৫%

অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে ১৫০ কিমি বেগে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:36:05 am, Wednesday, 28 October 2026
  • 32

অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে ১৫০ কিমি বেগে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে মধ্যরাতে প্রবল গতিতে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এই ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার নিকটবর্তী পুদুচেরীর ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ হয়। ঝড় বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে। যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন। মৌসম ভবন বুলেটিনে বলা হয়েছে, রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল ও ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি। এ সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতি ১৫০ কিলোমিটার। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে চার ঘণ্টা মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। ‌ ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ঝড়ের দাপট আরও বেড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে।

জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগেও বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়কে বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছগুলোর ক্ষতি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলো দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে।

ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিবেশা স্থগিত রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বিমান বাতিলও করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনো ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

উপকূল এলাকা থেকে ‌ইতোমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এই কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। রাতে কলকাতায-সহ অন্য জেলাতেও ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে। রাত থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা।

৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। চার জেলায় রয়েছে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই চার জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

ওই দিন ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া। শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির জন্য সতর্কতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায়। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বাকি জেলাগুলিতেও রয়েছে ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা।

বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। আগামী শনিবার পাহাড় এবং সংলগ্ন পাঁচ জেলায় রয়েছে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক

অন্ধ্র প্রদেশ উপকূলে ১৫০ কিমি বেগে আঘাত হেনেছে প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’

Update Time : 08:36:05 am, Wednesday, 28 October 2026

ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের উপকূলে মধ্যরাতে প্রবল গতিতে আছড়ে পড়েছে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’। মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১টা ২০ মিনিটে শুরু হওয়া এই ল্যান্ডফলের সময় ঝড়ের গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে।

অন্ধ্রপ্রদেশের কাকিনাড়ার নিকটবর্তী পুদুচেরীর ইয়ানামের কাছে ‘ল্যান্ডফল’ হয়। ঝড় বইছে ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার বেগে। যা বৃদ্ধি পেয়ে ১৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠছে বলে জানিয়েছে ভারতের মৌসম ভবন। মৌসম ভবন বুলেটিনে বলা হয়েছে, রাত ১টা ২০ মিনিটে ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর স্থলভাগে প্রবেশের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

ঘূর্ণিঝড়টির কেন্দ্রস্থল অন্ধ্রপ্রদেশের বাপটলা ও বিশাখাপত্তনমের মধ্যবর্তী উপকূল ও ইয়ানামের দক্ষিণের কাছাকাছি। এ সময় ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১২৫ থেকে ১৩৫ কিলোমিটার। সর্বোচ্চ গতি ১৫০ কিলোমিটার। প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হতে চার ঘণ্টা মতো সময় লাগবে বলে জানিয়েছে হাওয়া অফিস। ‌ ‘ল্যান্ডফল’ প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর ঝড়ের দাপট আরও বেড়েছে অন্ধ্রপ্রদেশে।

জারি করা হয়েছে উচ্চ সতর্কতা। অন্ধ্রপ্রদেশ, ইয়ানাম এবং দক্ষিণ ওড়িশার কিছু অংশে ভারি বৃষ্টি হচ্ছে। ঝোড়ো হাওয়ার গতিবেগেও বেড়েছে। বেশ কিছু জায়গায় বিচ্ছিন্ন হয়েছে বিদ্যুৎ পরিষেবা। ঘূর্ণিঝড় ‘অর্ণব’-এর প্রভাবে ইয়ানামের কাছে জাতীয় সড়কে বেশ কয়েকটি গাছ উপড়ে পড়েছে। ঝোড়ো হাওয়ার কারণে গাছগুলোর ক্ষতি হয়েছে। বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মাঝরাস্তা থেকে গাছগুলো দ্রুত সরানোর ব্যবস্থা করছে।

ঝড়ের কারণে অন্ধ্রপ্রদেশের তিনটি বিমানবন্দরে বিমান পরিবেশা স্থগিত রাখা হয়েছে। বেশ কিছু বিমান বাতিলও করা হয়েছে। পাশাপাশি বাতিল করা হয়েছে ট্রেন পরিষেবাও। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী চন্দ্রবাবু নায়ডু জানান, ঘূর্ণিঝড়ের কারণে যাতে কারও কোনো ক্ষতি না হয়, সেই চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রায় দুই হাজারেরও বেশি আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করা হয়েছে।

উপকূল এলাকা থেকে ‌ইতোমধ্যেই বহু মানুষকে সরিয়ে এই কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। গর্ভবতী নারীদের চিকিৎসা কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের উপকূলেও ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। রাতে কলকাতায-সহ অন্য জেলাতেও ঝড়ের প্রভাব দেখা গেছে। রাত থেকেই শুরু হয়েছে বৃষ্টি। সঙ্গে ঝোড়ো হাওয়া। বুধবার কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় রয়েছে হলুদ সতর্কতা।

৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। চার জেলায় রয়েছে ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রামে ভারি (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ওই চার জেলায় ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার গতিবেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। বৃহস্পতিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের সব জেলায় ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা রয়েছে।

ওই দিন ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পুরুলিয়া, বাঁকুড়া। শুক্রবার ঝড়বৃষ্টির জন্য সতর্কতা রয়েছে পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ, নদিয়ায়। বৃহস্পতি এবং শুক্রবার ভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার এবং জলপাইগুড়ি জেলায়। বাকি জেলাগুলিতেও রয়েছে ঝড়বৃষ্টির জন্য হলুদ সতর্কতা।

বর্ষণের জেরে পাহাড়ি এলাকায় ধস নামতে পারে বলে সতর্ক করেছে হাওয়া অফিস। আগামী শনিবার পাহাড় এবং সংলগ্ন পাঁচ জেলায় রয়েছে ঝড়বৃষ্টির সতর্কতা। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত পশ্চিমবঙ্গ এবং ওড়িশা উপকূল সংলগ্ন সমুদ্রে যেতে বারণ করা হয়েছে মৎস্যজীবীদের।