ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইনের হাতে উঠেছে ২০২৬ সালের ব্যালন ডি’অর। বায়ার্ন মিউনিখ ও ইংল্যান্ডের হয়ে টানা গোল করে ক্যারিয়ারের সেরা মৌসুম কাটিয়েছেন এই স্ট্রাইকার। ক্লাব ও জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ৭৩ গোলের পাশাপাশি দলীয় সাফল্যও তাকে এনে দিয়েছে ফুটবলের মর্যাদাপূর্ণ ব্যক্তিগত পুরস্কারটি।
লামিন ইয়ামাল ও কিলিয়ান এমবাপ্পের হৃদয় ভেঙে ফুটবলের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত পুরস্কার পেলেন ইংল্যান্ড ও বায়ার্ন মিউনিখের স্ট্রাইকার। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক এবং বায়ার্ন মিউনিখের গোলমেশিন স্ট্রাইকার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। তাতে ২৫ বছরের মধ্যে প্রথম কোনো ইংরেজ পুরুষ হিসেবে তিনি এই সম্মান অর্জন করলেন। এদিকে মূল আলোটাও ইংল্যান্ডের হ্যারি কেইন কেড়ে নিলেও অনুষ্ঠানজুড়ে আধিপত্য ছিল স্পেনের।
মোট ১৩টি পুরস্কারের আটটিই গেছে দেশটিতে। মঞ্চে উঠেই তার বিস্ময়, ‘বাহ, বাহ, বাহ। ’ নিজের এই প্রাপ্তিতে ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না, ‘আমি প্রায় বাক্যহারা। লন্ডনে এই আয়োজনটি হওয়ায় এটি আমার জন্য আরও বেশি বিশেষ হয়ে উঠেছে। আজকের রাতটি যেন আমার জন্য একটি শুভ সংকেত নিয়ে এলো। যারা আমাকে ভোট দিয়েছেন, তাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
আমি বুঝতে পারছি, এ বছর নির্বাচন করা নিশ্চয়ই বেশ কঠিন ছিল। ’ তিনি আরও বলেন, আজকের রাতে এই হলে অনেক বিশ্বমানের খেলোয়াড় উপস্থিত আছেন। আজকের সমস্ত বিজয়ী ও মনোনীতদের অভিনন্দন। জেদ এবং কঠোর পরিশ্রম যে সত্যি সাফল্য এনে দিতে পারে, আজ সেটিই ফুটে উঠেছে। ইংল্যান্ডের অধিনায়ক কেইন ২০২৫-২৬ মৌসুমে ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবল মিলিয়ে মোট ৭৩টি গোল করেছেন।
খেলোয়াড়দের র‍্যাঙ্কিং নির্ধারণে বিচারকদের শুধু সাম্প্রতিক মৌসুমটিই বিবেচনায় নিতে বলা হলেও ২০২৩ সাল থেকে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে ১৫৮ খেলায় কেইনের চোখধাঁধানো ১৫৬টি গোল তাকে এই জার্মান ক্লাবের সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সপ্তম স্থানে তুলে এনেছে। তিনি টানা তিন মৌসুম ধরে বুন্দেসলিগার সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন।
সেই সঙ্গে ২০২৫-২৬ মৌসুমে ইউরোপের সার্বিক শীর্ষ ক্লাব গোলদাতাও ছিলেন তিনি। এ ছাড়া কেইন তার দেশকে ১৯৬৬ সালে বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে তাদের সেরা সাফল্য এনে দেওয়ার ক্ষেত্রেও মূল ভূমিকা পালন করেছেন। ইংল্যান্ড তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ জিতে ব্রোঞ্জ মেডেল অর্জন করে এবং তিনি টুর্নামেন্টের পঞ্চম সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে আসর শেষ করেন।
ব্যালনের মঞ্চে স্পেনের আধিপত্য : প্রথমবার লন্ডনের প্যালাডিয়াম থিয়েটারে ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় ও মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার ব্যালন ডি’অরের আয়োজন। মূল আলোটাও কেড়ে নিলেন স্বাগতিক ইংল্যান্ড পুরুষ জাতীয় দলের অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে অনুষ্ঠানজুড়ে আধিপত্য ছিল স্পেনের। মোট ১৩টি পুরস্কারের আটটিই গেছে দেশটিতে। তবে স্প্যানিশরা নিজেদের দুর্ভাগাও ভাবতে পারে!
পুরুষ ‍ও নারী ফুটবলের দুই ব্যালন ডি’অরের একটি গেছে স্পেনে। বার্সেলোনার সাবেক তারকা ও বর্তমানে লন্ডন সিটি লায়নেস ক্লাবের স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড অ্যালেক্সিয়া পুতেয়াস নারী ফুটবলে যৌথভাবে সর্বোচ্চ তৃতীয়বার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন। নারী-পুরুষ উভয় বিভাগে সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কারজয়ী দুজনেই স্প্যানিশ উনাই সিমোন (অ্যাথলেটিক ক্লাব ও স্পেন) ও কাটা কোল (বার্সেলোনা ও স্পেন)।
সেরা দুই কোচও স্পেনের। ২০২৬ বিশ্বকাপ জয়ের বড় পুরস্কার পেলেন ইয়ামাল-রদ্রিদের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। ছেলেদের ফুটবলে সেরা কোচ তিনি। উয়েফা উইমেন্স চ্যাম্পিয়নস লিগের পর লা লিগাসহ স্পেনের ঘরোয়া ট্রেবল জেতা দলটির কোচ পেরে রোমেউ মেয়েদের ফুটবলে সেরা কোচের পুরস্কার জিতেছেন। ছেলে ও মেয়েদের ফুটবলে সেরা উদীয়মান তরুণ খেলোয়াড় দুজনও স্প্যানিশ।
স্পেনের হয়ে বিশ্বকাপ ও বার্সেলোনার লা লিগাজয়ী তরুণ তারকা লামিনে ইয়ামাল টানা তৃতীয়বার জিতলেন সেরা উদীয়মান খেলোয়াড়ের পুরস্কার। আর বার্সেলোনা নারী দলের শিরোপাময় বছর নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার সেরা উদীয়মান খেলোয়াড় হলেন ভিকি লোপেজ। এ ছাড়া নারী ফুটবলে সেরা দল হিসেবেও বার্সেলোনা পুরস্কৃত হয়েছে।





















