আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২০%

সাতক্ষীরায় আদালতে শুনানি চলাকালীন পুলিশ কর্মকর্তাকে জুতা নিক্ষেপ করলেন আসামি

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:59:01 am, Tuesday, 27 October 2026
  • 14

সাতক্ষীরায় আদালতে শুনানি চলাকালীন পুলিশ কর্মকর্তাকে জুতা নিক্ষেপ করলেন আসামি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সাতক্ষীরায় আদালতে শুনানি চলাকালে কাঠগড়ায় থাকা এক আসামি মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেছেন। তবে জুতাটি ওই পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে লাগেনি। মিথ্যা মামলার হয়রানি ও আর্থিক অস্বচ্ছলতার প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আসামির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮) তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত বরকতুল্লার ছেলে। আদালত পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি নাশকতামূলক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য রেজাউল ইসলামকে জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহেল আরিফ নিশাত তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতির জন্য আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে তিনি কাঠগড়া থেকে নিচে নামার সময় আসামি রেজাউল হঠাৎ তাঁকে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মারেন। অভিযুক্ত আসামি ঘটনার পর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে রেজাউল ইসলাম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ৮/৯ মাস ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা ও গায়েবি’ মামলা দেওয়া হচ্ছে।

এসব মামলার খরচ বহনের মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। তিনি আরও বলেন, “মিথ্যা মামলায় আমি চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদ জানাতেই আমি এই জুতা নিক্ষেপ করেছি; আদালতের প্রতি কোনো অসম্মান দেখানোর উদ্দেশ্য আমার ছিল না। সাতক্ষীরা আদালত পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন জানান, আদালতের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে কি না, তা বিচারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে জানা যাবে।

তবে নির্দিষ্ট ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল্লাহেল আরিফ নিশাতের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মামলার পটভূমি আদালত সূত্র জানায়, অভিযুক্ত রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ প্রায় ৩০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুচপুকুরে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কার্যালয় এবং স্থানীয় নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৩৫ থেকে ১৪০ জনকে আসামি করা হয়। মূলত ওই মামলায় হাজিরা ও শুনানির জন্যই তাঁকে আদালতে আনা হয়েছিল।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে ২১ হাজার ৫০০ টাকা জরিমানা

সাতক্ষীরায় আদালতে শুনানি চলাকালীন পুলিশ কর্মকর্তাকে জুতা নিক্ষেপ করলেন আসামি

Update Time : 12:59:01 am, Tuesday, 27 October 2026

সাতক্ষীরায় আদালতে শুনানি চলাকালে কাঠগড়ায় থাকা এক আসামি মামলার তদন্তকারী পুলিশ কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে জুতা নিক্ষেপ করেছেন। তবে জুতাটি ওই পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে লাগেনি। মিথ্যা মামলার হয়রানি ও আর্থিক অস্বচ্ছলতার প্রতিবাদ জানাতেই তিনি এ পথ বেছে নিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম বিলাস মণ্ডলের আদালতে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত আসামির নাম রেজাউল ইসলাম (৪৮) তিনি সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত বরকতুল্লার ছেলে। আদালত পুলিশ সূত্রে জানা যায়, একটি নাশকতামূলক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য রেজাউল ইসলামকে জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহেল আরিফ নিশাত তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অনুমতির জন্য আদালতের অনুমতি প্রার্থনা করেন। শুনানি শেষে তিনি কাঠগড়া থেকে নিচে নামার সময় আসামি রেজাউল হঠাৎ তাঁকে লক্ষ্য করে জুতা ছুড়ে মারেন। অভিযুক্ত আসামি ঘটনার পর আদালত চত্বরে সাংবাদিকদের কাছে রেজাউল ইসলাম দাবি করেন, তিনি দীর্ঘ ৮/৯ মাস ধরে কারাগারে বন্দি রয়েছেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক ‘মিথ্যা ও গায়েবি’ মামলা দেওয়া হচ্ছে।

এসব মামলার খরচ বহনের মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁর নেই। তিনি আরও বলেন, “মিথ্যা মামলায় আমি চরম হয়রানির শিকার হচ্ছি। পুলিশি হয়রানির প্রতিবাদ জানাতেই আমি এই জুতা নিক্ষেপ করেছি; আদালতের প্রতি কোনো অসম্মান দেখানোর উদ্দেশ্য আমার ছিল না। সাতক্ষীরা আদালত পুলিশের পরিদর্শক নাজমুল হোসেন জানান, আদালতের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির অভিযোগে রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে কি না, তা বিচারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরে জানা যাবে।

তবে নির্দিষ্ট ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সোমবার দুপুর আড়াইটার দিকে তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আবদুল্লাহেল আরিফ নিশাতের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। মামলার পটভূমি আদালত সূত্র জানায়, অভিযুক্ত রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যা, চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ প্রায় ৩০টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।

এর মধ্যে ২০২৫ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার কুচপুকুরে জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের কার্যালয় এবং স্থানীয় নেতা সাইফুল ইসলামের বাড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে একটি মামলা হয়। ওই মামলায় আওয়ামী লীগের নেতাসহ ৭৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৩৫ থেকে ১৪০ জনকে আসামি করা হয়। মূলত ওই মামলায় হাজিরা ও শুনানির জন্যই তাঁকে আদালতে আনা হয়েছিল।