আজ মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬
১১ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৫ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৭°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২০%

জৈন্তাপুরে বড়গাং নদীতে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি, হুমকিতে দুই গ্রামের জমি ও বসতবাড়ি

  • MIT ERP
  • Update Time : 01:46:51 am, Tuesday, 27 October 2026
  • 11

জৈন্তাপুরে বড়গাং নদীতে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি, হুমকিতে দুই গ্রামের জমি ও বসতবাড়ি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ও বালুবাহী নৌকা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের অভিযোগ, রুপা মিয়া নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে প্রতিটি বালুবাহী নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে। এ ঘটনায় রূপচেং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জৈন্তাপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত মাসুদ ভূইয়া।

তবে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও বালু উত্তোলনের বৈধতা নিয়ে বিরোধ থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বড়গাং নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর তীর ঘেঁষে ও পাড় কেটে বালু তোলার কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, ফসল ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কার্যক্রম চলায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। অভিযোগকারীদের দাবি, নদীর পাড়সংলগ্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন এ খাত থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে।

তবে অর্থ আদায়ের প্রকৃত পরিমাণ ও এর বৈধতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জমির মালিকানা ও প্রাপ্য হিস্যা নিয়ে বিরোধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা ও প্রাপ্য হিস্যা নিয়েও বিরোধ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলমের দাবি, নদীর পাড় কেটে যেসব জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেসব জমির মূল মালিক ছিলেন তাঁদের দাদা কালা রাজা মজুমদার।

তাঁদের অভিযোগ, উত্তরাধিকার সূত্রে সংশ্লিষ্ট জমির একটি অংশ রুপা মিয়া বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ৫৩ লাখ টাকায় সাবলিজ দিয়েছেন। বাকি অংশ থেকে তিনি ও তাঁর লোকজন নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। আব্দুল জলিল ও আলম প্রশ্ন তুলে বলেন, সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি বৈধ হলে কালা রাজা মজুমদারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁরা কেন তাঁদের প্রাপ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হবেন?

আর বালু উত্তোলন অবৈধ হলে প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? তবে জমির মালিকানা, সাবলিজের বৈধতা এবং বালু উত্তোলনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ঘটনাস্থলে নদীর পাড় কাটার সত্যতা পেয়েছে পুলিশ এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার এসআই শওকত মাসুদ ভূইয়া বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়।

” তিনি আরও বলেন, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক। তবে সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোর মালিকানা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। কেউ জায়গাগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ বলছেন, সেগুলো সরকারি। এ কারণে বিষয়টি সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, কারা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছেন, তাঁদের তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভাঙনের আশঙ্কায় দুই গ্রামের বাসিন্দারা রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নদীর পাড় ঘেঁষে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এতে তাঁদের আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর পাড় রক্ষা, নৌকাপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বৈধতা ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চট্টগ্রাম পেরিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করল মহানগর এক্সপ্রেস

জৈন্তাপুরে বড়গাং নদীতে বালু উত্তোলন ও চাঁদাবাজি, হুমকিতে দুই গ্রামের জমি ও বসতবাড়ি

Update Time : 01:46:51 am, Tuesday, 27 October 2026

সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার বড়গাং নদীতে নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলন ও বালুবাহী নৌকা থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের ফসলি জমি ও বসতবাড়ি নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

তাঁদের অভিযোগ, রুপা মিয়া নামের এক ব্যক্তির নেতৃত্বে প্রতিটি বালুবাহী নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হচ্ছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এভাবে প্রতিদিন ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে। এ ঘটনায় রূপচেং গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল জলিল জৈন্তাপুর মডেল থানায় অভিযোগ করেছেন। সোমবার (২৬ অক্টোবর) পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। এ সময় নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের সত্যতা পাওয়া গেছে বলে জানান জৈন্তাপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শওকত মাসুদ ভূইয়া।

তবে সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা ও বালু উত্তোলনের বৈধতা নিয়ে বিরোধ থাকায় বিষয়টি নিষ্পত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে জানান তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বড়গাং নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। নদীর তীর ঘেঁষে ও পাড় কেটে বালু তোলার কারণে নদীভাঙনের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে নদীতীরবর্তী কৃষিজমি, ফসল ও বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

প্রভাবশালী একটি মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব কার্যক্রম চলায় সাধারণ মানুষ প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতেও ভয় পাচ্ছেন বলে অভিযোগ তাঁদের। অভিযোগকারীদের দাবি, নদীর পাড়সংলগ্ন স্থান থেকে বালু উত্তোলন ও পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত প্রতিটি নৌকা থেকে ২ হাজার টাকা করে আদায় করা হয়। তাঁদের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন এ খাত থেকে ২ থেকে ৩ লাখ টাকা আদায় হচ্ছে।

তবে অর্থ আদায়ের প্রকৃত পরিমাণ ও এর বৈধতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জমির মালিকানা ও প্রাপ্য হিস্যা নিয়ে বিরোধ বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে জমির মালিকানা ও প্রাপ্য হিস্যা নিয়েও বিরোধ দেখা দিয়েছে। অভিযোগকারী আব্দুল জলিল ও আলমের দাবি, নদীর পাড় কেটে যেসব জায়গা থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে, সেসব জমির মূল মালিক ছিলেন তাঁদের দাদা কালা রাজা মজুমদার।

তাঁদের অভিযোগ, উত্তরাধিকার সূত্রে সংশ্লিষ্ট জমির একটি অংশ রুপা মিয়া বালু ব্যবসায়ীদের কাছে ৫৩ লাখ টাকায় সাবলিজ দিয়েছেন। বাকি অংশ থেকে তিনি ও তাঁর লোকজন নৌকাপ্রতি ২ হাজার টাকা করে আদায় করছেন বলেও দাবি করেন তাঁরা। আব্দুল জলিল ও আলম প্রশ্ন তুলে বলেন, সংশ্লিষ্ট স্থান থেকে বালু উত্তোলন ও বিক্রি বৈধ হলে কালা রাজা মজুমদারের উত্তরাধিকারী হিসেবে তাঁরা কেন তাঁদের প্রাপ্য হিস্যা থেকে বঞ্চিত হবেন?

আর বালু উত্তোলন অবৈধ হলে প্রশাসন কেন ব্যবস্থা নিচ্ছে না? তবে জমির মালিকানা, সাবলিজের বৈধতা এবং বালু উত্তোলনের অনুমোদনসংক্রান্ত বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট নথিপত্র যাচাই করে নিষ্পত্তি করা প্রয়োজন। ঘটনাস্থলে নদীর পাড় কাটার সত্যতা পেয়েছে পুলিশ এ বিষয়ে জৈন্তাপুর মডেল থানার এসআই শওকত মাসুদ ভূইয়া বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর চাঁদাবাজরা পালিয়ে যায়।

” তিনি আরও বলেন, নদীর পাড় কেটে বালু উত্তোলনের বিষয়টি সঠিক। তবে সংশ্লিষ্ট জায়গাগুলোর মালিকানা নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন দাবি রয়েছে। কেউ জায়গাগুলো ব্যক্তিমালিকানাধীন বলে দাবি করছেন, আবার কেউ বলছেন, সেগুলো সরকারি। এ কারণে বিষয়টি সমাধানে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ জরুরি। স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করে কার্যক্রম চালাচ্ছেন।

তবে এ অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায় বলেন, কারা প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করছেন, তাঁদের তথ্য পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ দিলে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। ভাঙনের আশঙ্কায় দুই গ্রামের বাসিন্দারা রূপচেং ও গুয়াবাড়ি গ্রামের বাসিন্দারা জানান, নদীর পাড় ঘেঁষে এভাবে বালু উত্তোলন অব্যাহত থাকলে বর্ষা মৌসুমে ভাঙন আরও ভয়াবহ হতে পারে।

এতে তাঁদের আবাদি জমি ও বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় বড়গাং নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, নদীর পাড় রক্ষা, নৌকাপ্রতি অর্থ আদায়ের অভিযোগ তদন্ত এবং জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে উপজেলা ও জেলা প্রশাসনের সমন্বয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বালু উত্তোলনের বৈধতা ও এর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।