রেলওয়ের ই-টিকেটিং প্রতিষ্ঠান ‘সহজ-সিনসিস-ভিনসেন জেভির’ বিরুদ্ধে টিকিট কালোবাজারিসহ ২২টি অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে। এর মধ্যে ১৯টি অভিযোগ খুঁজে পেয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। এসব অভিযোগের বিষয়ে ‘সহজ-সিনসিস-ভিনসেন জেভির’ বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা একান্ত সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন বাংলাদেশ সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয়, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ।
রাজধানীর রেলভবনে গত রোববার সাক্ষাৎকারটি নিয়েছেন জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক শাহীনুর ইসলাম শানু। রূপালী বাংলাদেশ : সহজ ডটকমের বিরুদ্ধে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে? হাবিবুর রশিদ : বাংলাদেশ রেলওয়ে ইন্টিগ্রেটেড টিকেটিং সিস্টেমের ওপর পারফরম্যান্স অডিট করে পরিবহন অডিট অধিদপ্তর। অডিটে ১৯টি আপত্তির ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। প্রতিবেদনের আলোকে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেটিং ভেন্ডর ‘সহজ-সিনসিস-ভিনসেন জেভি’কে বর্ণিত আপত্তিগুলোর বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদানে ১১ অক্টোবর চিঠি দেওয়া হয়।
এখন পর্যন্ত জবাব পাওয়া যায়নি। জবাব পাওয়ার পরে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অডিট আপত্তিতে টিকিট কালোবাজারির বিষয়ে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। বরং কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, যার ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রূপালী বাংলাদেশ : জরিমানার প্রায় ৫ কোটি টাকা আদায়ের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?
হাবিবুর রশিদ : প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে টিকেটিং কার্যক্রম বিঘ্নিত হলে টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী জরিমানা আরোপের বিধান আছে। ২০২৫ সালের ৩ ও ৪ এপ্রিল (কয়েক ঘণ্টা) টিকেটিং সিস্টেম অকার্যকর ছিল। ফলে টিকিট বিক্রি কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৮৮ হাজার টাকা প্রাথমিক জরিমানা আরোপ করে ভেন্ডর সহজ-সিনসিস-ভিনসেন জেভিকে চিঠি দেওয়া হয়।
পরে ভেন্ডর সহজ-সিনসিস-ভিনসেন জেভি প্রযুক্তিগত ত্রুটির কথা উল্লেখ করে জরিমানা মওকুফের আবেদন করলে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন। প্রতিবেদন পাওয়া গেলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপালী বাংলাদেশ : টিকিট কালোবাজারি বিষয়ে… হাবিবুর রশিদ : অডিট আপত্তিতে টিকিট কালোবাজারি বিষয়ে সরাসরি কোনো কিছু উল্লেখ করা হয়নি।
সেখানে মূলত কিছু প্রযুক্তিগত ত্রুটি ও অনিয়মের কথা বলা হয়েছে এবং সহজ ডটকমের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে। যেসব ত্রুটির কারণে মাঝখানে টিকিট বিক্রি নিয়ে ঝামেলা সৃষ্টি হয়েছিল, তাদের দেওয়া লিখিত উত্তর পাওয়ার পরই পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। রূপালী বাংলাদেশ : কী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে? হাবিবুর রশিদ : তারা (সহজ) যে অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড পরিচালনা করেছিল, প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে সেখানে টিকিট বিক্রির কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়।
যাত্রীদের সতর্ক করতে রেলের ওয়েবসাইট এবং ‘রেল সেবা’ অ্যাপে বিশেষ সতর্কতা জারি করা হয়েছে, যাতে যাত্রীরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যম থেকে টিকিট কেনা বন্ধ করেন। রেলওয়েতে টিকিট নিয়ে কোনো অনিয়ম বা অভিযোগ পাওয়া মাত্রই অথবা মনিটরিং দলের নজরে এলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে প্রায় ১০ হাজার ৫৬৩টি সিম ব্লক করা হয়েছে।
যখনই দেখা যায় একটি আইডি বা সিম দিয়ে একের অধিক টিকিট কাটা হচ্ছে বা ব্যাপক ব্যবহার করা হচ্ছে, তখনই সেই সিমগুলো ব্লক করা হয়। তবে উৎসব বা বিশেষ দিনগুলোতে ট্রেনের টিকিটের চাহিদা ব্যাপক বেড়ে যায়; যেমন ৫০০টি টিকিটের জায়গায় চাহিদা অনুযায়ী ৫ হাজার লোককে টিকিট দেওয়া সম্ভব হয় না। পর্যাপ্ত সংখ্যক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) ও ক্যারেজ (বগি) স্বল্পতার কারণে এই উচ্চ চাহিদার তুলনায় সবাইকে টিকিট দেওয়া সম্ভব হয় না।
রূপালী বাংলাদেশ : অভিযুক্ত সহজডটকম কি দরপত্রে অংশ নিতে পারবে? হাবিবুর রশিদ : তদন্ত রিপোর্টের পর এ সম্পর্কে বলা যাবে। আমরা চাই, অধিক সংখ্যক প্রতিষ্ঠান টেন্ডারে অংশ নিক। রূপালী বাংলাদেশ : সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি’র সঙ্গে বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকেটিং ব্যবস্থা পরিচালনার চুক্তি হয়েছিল ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি। যদি টেন্ডারে উল্লিখিত বিষয়ে কার্যের কোনো অংশ সম্পাদন করতে ব্যর্থ হয়, তাহলে প্রতিদিন ২৫ হাজার টাকা করে জরিমানা আরোপ করা হবে এবং পরবর্তীতে চুক্তি টার্মিনেট করা হবে।
সে হিসাবে প্রায় ৫ কোটি টাকা জরিমানা হয়েছে। সেই জরিমানা তুলে নেওয়ার কোনো প্রক্রিয়া আছে? হাবিবুর রশিদ : এটা রেলওয়ের প্রশাসন ভালো বলতে পারবে। তবে জরিমানার বিষয়ে তারা আদেন করেছে এবং তদন্ত চলছে। রূপালী বাংলাদেশ : জরিমানা মেনে সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি কি পরবর্তী টিকেটিং টেন্ডারে অংশ নিতে পারবে? হাবিবুর রশিদ : তাদের কাছে জবাব চাওয়া হয়েছে, আমাদের তদন্ত চলছে।
তদন্ত রিপোর্ট ছাড়া আগাম কিছু বলা যায় না। নতুন করে ই-টিকেটিং সিস্টেমের জন্য আগামী ডিসেম্বর মাসে টেন্ডার হতে পারে। আমরা সেই প্রস্তুতি নিচ্ছি। রূপালী বাংলাদেশ : সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। হাবিবুর রশিদ : আপনাকেও ধন্যবাদ।





















