ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বিদ্যালয়ের জন্য জমি দান করে নানা ভোগান্তি ও বিপাকের শিকার হওয়ার অভিযোগ তুলেছেন জমিদাতার পরিবার। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুরে পৌর এলাকার নওয়াপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে জমিদাতা প্রয়াত মকবুল হোসেনের পরিবারের সদস্যরা এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। এতে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি উদ্ধার ও সুষ্ঠু শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে মরহুম মকবুল হোসেনের মেয়ে মনিরা খানম ও ছেলে (ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী) হারুন খান লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।
এ সময় জমিদাতার স্ত্রী হাজেরা বেগমসহ এলাকার বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন। লিখিত বক্তব্যে মনিরা খানম অভিযোগ করেন, এলাকায় শিক্ষার আলো ছড়াতে তার বাবা মকবুল হোসেন বিদ্যালয়ের নামে ৮৪ শতাংশ জমি দান করেছিলেন। কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বর্তমানে ১ একর ১১ শতাংশ জমি ভোগদখল করছে এবং তা নিজেদের নামে নামজারিও করে নিয়েছে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বিদ্যালয়ে এত জমি দান করা সত্ত্বেও কোথাও তার বাবাকে ‘দাতা সদস্য’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
সম্মেলনে বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দবিরউদ্দিন ও অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিস্তর অভিযোগ তোলা হয়। জমিদাতার পরিবারের দাবি, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দবিরউদ্দিন আইনবহির্ভূতভাবে পদে বহাল আছেন। এর আগে দুর্নীতির দায়ে তিনি প্রায় ১০-১২ বছর সাময়িক বরখাস্ত ছিলেন। পুনরায় দায়িত্বে ফিরে তিনি আবারও অনিয়মে জড়িয়ে পড়েছেন।
অন্যদিকে সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদারের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও আর্থিক খাতে অনিয়মের অভিযোগ এনে বলা হয়, বিদ্যালয়ের নামে বরাদ্দকৃত দুটি জমি (যার দাতা মো. মাহাবুবুর রহমান বুদ্দু মিয়া ও মোমেনা বেগম) অসৎ উপায়ে বিক্রি করা হয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে এসব অপকর্মের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তপূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়।
বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ও জমিদাতার ছেলে হারুন খান বলেন, “বর্তমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করায় দীর্ঘ দুই বছর ধরে আমার বেতন বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছি। ” এ সময় তারা বলেন, মরহুম মকবুল হোসেন যে মহান উদ্দেশ্য নিয়ে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার জন্য জমি দিয়েছিলেন তা আজ কতিপয় ব্যক্তির স্বার্থের কারণে হুমকিতে পড়েছে।
তারা অতিদ্রুত বিদ্যালয়ের সুনাম ও সুশাসন ফিরিয়ে আনতে এবং অভিযুক্ত দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যালয়ের বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. দবিরউদ্দিন ও সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুর রউফ তালুকদার বলেন, তাদের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
এ বিষয়ে আলফাডাঙ্গা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক জানান, চতুর্থ শ্রেণির ওই কর্মচারীর বেতন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সরাসরি বন্ধ করেনি। বর্তমানে ইএফটি প্রক্রিয়ায় বেতন প্রদান করা হয়। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে না পারায় তার বেতন বন্ধ রয়েছে। তবে জমিদাতার অবমূল্যায়নের বিষয়ে শিক্ষা কর্মকর্তা বলেন, যেহেতু উনার বাবা বিদ্যালয়ে জমি দান করেছেন, তাই তাঁকে দাতা সদস্য হিসেবে মূল্যায়ন করা উচিত।
বিষয়টি নিয়ে আমি বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলব।





















