আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪%

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:10:28 am, Sunday, 25 October 2026
  • 27

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

উদ্বোধনের জন্য একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এরই মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্টসহ বি-২ পর্যায়ের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি-স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ; যা আজ রোববার থেকে শুরু হতে পারে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিডিউল পেলে আগামী মাসের যেকোনো দিন এর প্রথম ইউনিটের উদ্বোধন হবে।

শুরুতে এখান থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও আগামী বছর থেকে উৎপাদন সক্ষমতার ১২০০ মেগাওয়াটের পুরোটাই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে-নিচে রয়েছে। এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ১২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৮ সালে দ্বিতীয় মেগাওয়াটের ১২০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে মোট বিদ্যুতের চাহিদায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আজ রোববার থেকে প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে উৎপাদন বাড়ানো হবে। উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে এ সময়সূচি নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরবর্তী কারিগরি ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপর। তিনি বলেন, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফর করেছেন রাশিয়ার পারমাণবিক জ্বালানি করপোরেশন রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

দলটির নেতৃত্বে ছিলেন রোসাটমের প্রথম উপ-মহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভ। ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সফরকালে প্রতিনিধিদল প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গেও বৈঠকে প্রথম ইউনিটের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

আমরা আশা করছি নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ আরও সুগম হবে। তবে কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা পাওয়া না গেলে উদ্বোধনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।

ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন, পরবর্তী ধাপ পাওয়ার স্টার্টআপ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বি-২ পর্যায়ের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এখন বায়রার অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টিই পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ পর্যায়ের সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এই পর্যায়ের ফিজিক্স টেস্টও সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি-স্টেজে প্রবেশ করবে এবং এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাওয়ার স্টার্টআপ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ধাপ। এই পর্যায়ে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হয় এবং বিভিন্ন পরিচালনগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় পরীক্ষা করা হয়।

প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মান পূরণ করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত অনুসরণ করা জরুরি। এ কারণে ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন হওয়াকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও এর অর্থ এই নয় যে কেন্দ্রটি ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে চলে গেছে। পাওয়ার স্টার্টআপ, পরবর্তী পরীক্ষা, গ্রিডে সংযোগ এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের দিকে এগোনো সম্ভব হবে।

গ্রিডে প্রথমে সীমিত বিদ্যুৎ : রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে। তবে শুরুতেই ইউনিটটির পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম ইউনিটের স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট।

সেই হিসাবে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন প্রায় ৩৬০ থেকে ৪২০ মেগাওয়াটের সমান। তবে প্রকৃত গ্রিড সরবরাহ নির্ভর করবে পরীক্ষার পর্যায়, কেন্দ্রের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবহার, পরিচালনাগত শর্ত এবং গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির ওপর। তিনি জানান, রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট স্থাপিত ক্ষমতা হবে ২৪০০ মেগাওয়াট।

তবে এ ক্ষমতা থেকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার কত অংশ পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ে জাতীয় চাহিদা, প্রকৃত উৎপাদন এবং কেন্দ্রটির পরিচালনাগত অবস্থার ওপর।

রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর : রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে জানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের প্রথম উপ-মহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে।

সফরকালে প্রতিনিধিদল প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন করে। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পর্যায়, সামগ্রিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয় বলে রাশিয়ার দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন, পরীক্ষা, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রমে দুই পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন। প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তাই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্বোধনের অপেক্ষা, তবে চূড়ান্ত সময়সূচি অনিশ্চিত : রূপপুরের প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো শেষ হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে।

কিন্তু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় নির্ধারণের আগে পাওয়ার স্টার্টআপ, পরবর্তী পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনের আয়োজন করা হবে— এমন প্রত্যাশা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মহলে থাকলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

একইভাবে, চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য থাকলেও তা নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেস উইংয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের জানানো হয়েছে রূপপুর উৎপাদনে যেতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর শিডিউল পেলেই উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ হবে।

আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের পর আরও কয়েকটি দেশে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে একটি সুবিধামতো সময় বেছে নেওয়া হবে সবচেয়ে বড় এই প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চট্টগ্রাম থেকে বিমানে এলো চিত্রনায়িকা পরীর জন্য শিউলি ফুল

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র চালুর চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন

Update Time : 12:10:28 am, Sunday, 25 October 2026

উদ্বোধনের জন্য একেবারে দ্বারপ্রান্তে এসে দাঁড়িয়েছে দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। এরই মধ্যে পাবনার ঈশ্বরদীতে নির্মিত এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটে ফিজিক্স টেস্টসহ বি-২ পর্যায়ের প্রয়োজনীয় কারিগরি পরীক্ষা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।

পরীক্ষার প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (বায়েরা) কাছে। এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার চূড়ান্ত অনুমোদন পেলেই শুরু হবে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রস্তুতিমূলক ধাপ ‘সি-স্টেজ’ বা পাওয়ার স্টার্টআপ; যা আজ রোববার থেকে শুরু হতে পারে। এরপর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শিডিউল পেলে আগামী মাসের যেকোনো দিন এর প্রথম ইউনিটের উদ্বোধন হবে।

শুরুতে এখান থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও আগামী বছর থেকে উৎপাদন সক্ষমতার ১২০০ মেগাওয়াটের পুরোটাই জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছে কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ। এখন পর্যন্ত দেশের মোট বিদ্যুতের চাহিদা ১৮ হাজার মেগাওয়াটের ওপরে-নিচে রয়েছে। এই কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ১২০০ মেগাওয়াট এবং ২০২৮ সালে দ্বিতীয় মেগাওয়াটের ১২০০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে মোট বিদ্যুতের চাহিদায় বড় ধরনের ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।

প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আজ রোববার থেকে প্রথম ইউনিটে পাওয়ার স্টার্টআপ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে সীমিত পরিসরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হবে। এরপর পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পরীক্ষা ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে উৎপাদন বাড়ানো হবে। উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্প পরিচালক ড. মো. কবির হোসেন রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, চলতি বছরের শেষ দিকে প্রথম ইউনিট থেকে অন্তত ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের প্রত্যাশা রয়েছে। তবে এ সময়সূচি নির্ভর করছে প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও পরবর্তী কারিগরি ধাপগুলো সফলভাবে সম্পন্ন হওয়ার ওপর। তিনি বলেন, প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি পর্যালোচনায় বাংলাদেশ সফর করেছেন রাশিয়ার পারমাণবিক জ্বালানি করপোরেশন রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল।

দলটির নেতৃত্বে ছিলেন রোসাটমের প্রথম উপ-মহাপরিচালক এবং অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের (এএসই) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভ। ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর পর্যন্ত সফরকালে প্রতিনিধিদল প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিদর্শন করে এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গেও বৈঠকে প্রথম ইউনিটের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

আমরা আশা করছি নির্ধারিত পরীক্ষাগুলো সফলভাবে শেষ করে প্রয়োজনীয় অনুমোদন পাওয়া গেলে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পথ আরও সুগম হবে। তবে কেন্দ্রটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের তারিখ এবং প্রধানমন্ত্রীর সম্ভাব্য সময়সূচি সম্পর্কে নিশ্চিত সরকারি ঘোষণা পাওয়া না গেলে উদ্বোধনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত বলা যাচ্ছে না।

ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন, পরবর্তী ধাপ পাওয়ার স্টার্টআপ : রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে জানিয়ে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বি-২ পর্যায়ের সব পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এখন বায়রার অনুমোদন পাওয়ার বিষয়টিই পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়ার গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্ট কোম্পানি বাংলাদেশ লিমিটেডের (এনপিসিবিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো. জাহেদুল হাসান জানিয়েছেন, প্রথম ইউনিটের বি-২ পর্যায়ের সব পরীক্ষা ও কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এই পর্যায়ের ফিজিক্স টেস্টও সম্পন্ন হয়েছে। পরীক্ষার প্রতিবেদন নিয়ন্ত্রক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।

অনুমোদন পাওয়া গেলে ইউনিটটি সি-স্টেজে প্রবেশ করবে এবং এরপর পাওয়ার স্টার্টআপের কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে পাওয়ার স্টার্টআপ একটি গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি ধাপ। এই পর্যায়ে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসরণ করে রিঅ্যাক্টরের ক্ষমতা ধীরে ধীরে বাড়ানো হয় এবং বিভিন্ন পরিচালনগত ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয় পরীক্ষা করা হয়।

প্রতিটি ধাপে নির্ধারিত মান পূরণ করা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার শর্ত অনুসরণ করা জরুরি। এ কারণে ফিজিক্স টেস্ট সম্পন্ন হওয়াকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হলেও এর অর্থ এই নয় যে কেন্দ্রটি ইতোমধ্যে বাণিজ্যিক উৎপাদনে চলে গেছে। পাওয়ার স্টার্টআপ, পরবর্তী পরীক্ষা, গ্রিডে সংযোগ এবং ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়ানোর প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পরই পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদনের দিকে এগোনো সম্ভব হবে।

গ্রিডে প্রথমে সীমিত বিদ্যুৎ : রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনব্যবস্থায় নতুন একটি উৎস যুক্ত হবে। তবে শুরুতেই ইউনিটটির পূর্ণ সক্ষমতার বিদ্যুৎ পাওয়া যাবে না। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, উৎপাদনক্ষমতা ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশে পৌঁছালে গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য রয়েছে। প্রথম ইউনিটের স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট।

সেই হিসাবে ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ সক্ষমতায় উৎপাদন প্রায় ৩৬০ থেকে ৪২০ মেগাওয়াটের সমান। তবে প্রকৃত গ্রিড সরবরাহ নির্ভর করবে পরীক্ষার পর্যায়, কেন্দ্রের নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবহার, পরিচালনাগত শর্ত এবং গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের প্রস্তুতির ওপর। তিনি জানান, রূপপুরের দুটি ইউনিটের প্রতিটির স্থাপিত উৎপাদনক্ষমতা ১২০০ মেগাওয়াট। দুটি ইউনিট চালু হলে মোট স্থাপিত ক্ষমতা হবে ২৪০০ মেগাওয়াট।

তবে এ ক্ষমতা থেকে দেশের বিদ্যুৎ চাহিদার কত অংশ পূরণ হবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট সময়ে জাতীয় চাহিদা, প্রকৃত উৎপাদন এবং কেন্দ্রটির পরিচালনাগত অবস্থার ওপর।

রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফর : রূপপুর প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনায় রোসাটমের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের সফরকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে জানিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটমের প্রথম উপ-মহাপরিচালক ও অ্যাটমস্ট্রয়এক্সপোর্টের প্রেসিডেন্ট আন্দ্রেই পেত্রোভের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি ২০ থেকে ২৩ অক্টোবর বাংলাদেশ সফর করে।

সফরকালে প্রতিনিধিদল প্রকল্পের নির্মাণ ও বাস্তবায়ন কার্যক্রমের অগ্রগতি পরিদর্শন করে। সংশ্লিষ্ট বৈঠকে প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ কারিগরি পর্যায়, সামগ্রিক অগ্রগতি এবং ভবিষ্যৎ করণীয় নিয়ে আলোচনা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকেও প্রকল্পের অগ্রগতি তুলে ধরা হয় বলে রাশিয়ার দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে। রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

বিদ্যুৎকেন্দ্রের নির্মাণ, যন্ত্রপাতি স্থাপন, পরীক্ষা, পরিচালনাগত প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট কারিগরি কার্যক্রমে দুই পক্ষের সমন্বয় প্রয়োজন। প্রথম ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রমের অগ্রগতি তাই প্রকল্পের পরবর্তী ধাপগুলোর জন্য তাৎপর্যপূর্ণ। উদ্বোধনের অপেক্ষা, তবে চূড়ান্ত সময়সূচি অনিশ্চিত : রূপপুরের প্রথম ইউনিটের গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষাগুলো শেষ হওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি আরও এক ধাপ এগিয়েছে।

কিন্তু আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের সময় নির্ধারণের আগে পাওয়ার স্টার্টআপ, পরবর্তী পরীক্ষা এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার অনুমোদনসহ প্রয়োজনীয় কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। প্রধানমন্ত্রীর সময়সূচি অনুযায়ী উদ্বোধনের আয়োজন করা হবে— এমন প্রত্যাশা প্রকল্পসংশ্লিষ্ট মহলে থাকলেও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা ছাড়া নির্দিষ্ট তারিখ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

একইভাবে, চলতি বছরের শেষ দিকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের লক্ষ্য থাকলেও তা নির্ধারিত সময়েই শুরু হবে এমন নিশ্চয়তা দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রেস উইংয়ের এক কর্মকর্তা জানান, আমাদের জানানো হয়েছে রূপপুর উৎপাদনে যেতে প্রস্তুত। প্রধানমন্ত্রীর শিডিউল পেলেই উদ্বোধনের তারিখ নির্ধারণ হবে।

আপনারা জানেন প্রধানমন্ত্রী জাপান সফরের পর আরও কয়েকটি দেশে যাওয়ার কথা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে একটি সুবিধামতো সময় বেছে নেওয়া হবে সবচেয়ে বড় এই প্রকল্প উদ্বোধনের জন্য।