রিয়াদে হুতিদের ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করেছে সৌদি আরব। এদিকে, রিয়াদের কিং খালিদ বিমানবন্দর এড়িয়ে চলার সতর্কবার্তা দিয়েছে হুতি বিদ্রোহীরা। এর আগে, দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আজ আবারও চালু হয় কিং খালিদ বিমানবন্দর। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আজ থেকে নতুন টার্মিনাল ব্যবস্থায় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালিত হবে। খবর রয়টার্সের।
বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধে চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবে সৌদি আরবের বিমানবন্দর, সমুদ্রবন্দর ও তেল স্থাপনা লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে আসছে হুতিরা। সেই ধারাবাহিকতায় শনিবারও দেশটিতে ৭টি হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠী। হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল দাম্মামের কিং ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, নাজরান বিমানবন্দর ও খামিস মুশাইত বিমানঘাঁটি।
হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ‘আমাদের যোদ্ধারা বেশ কয়েকটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে সৌদিতে ৭টি সুপরিকল্পিত সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রথমে রিয়াদে কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। পরে লক্ষ্যবস্তু করা হয় ইয়ানবুতে অবস্থিত আরামকো তেল কোম্পানিকে। এছাড়া, রাবিগ তেল শোধনাগারেও হামলা হয়েছে। প্রতিটি আঘাতই ছিল নিখুঁত।’
এছাড়া, মক্কা ও মদিনায় ছোড়া হুতিদের দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের দাবি করেছে রিয়াদ। ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহতের পর এর ধ্বংসাবশেষের কিছু অংশ মক্কাসহ জেদ্দা, তাইফ ও রাবিগের বিভিন্ন এলাকায় পড়েছে বলে জানিয়েছে সৌদির বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ। যদিও মক্কা ও মদিনাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেছে হুতিরা।
এদিকে, হুতিদের হামলার জেরে দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকার পর আবারও খুলছে সৌদির রিয়াদ বিমানবন্দর। তবে, বিমানবন্দরটি এখনো তাদের ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তু’ বলে সতর্ক করেছে হুতিরা। বিমানবন্দর ব্যবহারে আবারও সতর্কবার্তা দিয়েছে তারা।
অন্যদিকে, এদিকে, ইয়েমেনের এডেন শহরে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা হয়েছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় এই বন্দরনগরীর আল-নাসর ক্যাম্প ও নৌ ঘাঁটি লক্ষ্য করেই হামলার দাবি করেছে হুতিরা। আর দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার কথা জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।
হুতি-নিয়ন্ত্রিত রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর তীরবর্তী বন্দরনগরী মোখাতেও পাল্টাপাল্টি হয়েছে।
ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর মুখপাত্র দাবি করেছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় তাইজ অঞ্চলে ৭ শতাধিক অভিযান চালানো হয়েছে। এতে তিনশতাধিক হুতি যোদ্ধা নিহত এবং ৬৮টি যানবাহন বা অস্ত্র ধ্বংস হয়েছে।





















