বিরোধীদল কোনো বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টে পরিবর্তন চাইলে বৈঠকে এসে প্রস্তাব দিতে হবে বলে জানিয়েছেন সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। শনিবার সংসদ ভবনে সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, উচ্চকক্ষের সদস্যদের মধ্য থেকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা করার নতুন প্রস্তাব এসেছে।
রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, সুশীল সমাজসহ জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্তদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনায় বসছে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটি।
সেই ধারাবাহিকতায় শনিবার জাতীয় সংসদ ভাবনে আমন্ত্রণ জানানো হয়, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের। বৈঠকে ছিলেন সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং অ্যার্টনি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজলসহ ৪৪ জন।
৬ ঘণ্টার বৈঠক শেষে বিশেষজ্ঞরা জানান, সংবিধান সংশোধন কমিটি ও সংস্কার পরিষদ নিয়ে যে রাজনৈতিক বিরোধ তা কাঙ্ক্ষিত নয়।
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, ‘এখন এটা রাজনৈতিক বিতর্ক আর বিরোধের বিষয়বস্তুতে পরিণত হয়েছে। সংবিধান সংস্কার পরিষদ হবে নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটি হবে; এটা একটি রাজনৈতিক বিরোধ। এটাতে আমি যেতে চাচ্ছি না। তবে আমি এখন ব্যক্তিগতভাবে মনে করি সংবিধানের যেকোনো পরিবর্তনই একটা সংস্কার, যদি সেটা ইতিবাচক হয়।’
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, ‘আমরা সবার কাছে একটি গ্রহণযোগ্য পরিবর্তন চাচ্ছি। কমিটির যারা দায়িত্বে আছেন তারা এরকম একটি পন্থা খুঁজছেন।’
সংবিধান সংশোধন কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিরোধীদল যদি কোনো বিষয়ে নোট অব ডিসেন্টের পরিবর্তন চায় তাহলে কমিটির বৈঠকে এসে প্রস্তাব দিতে হবে।
সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, ‘বিরোধীদল যদি চায় কোনো কোনো ক্ষেত্রে নোট অব ডিসেন্ট শিথিল করার জন্য, সেটা কমিটিতে এসে তাদেরকে বলতে হবে। তখন কমিটি বিবেচনা করতে পারে, এই মুহূর্তে এর চেয়ে আমি বেশি মন্তব্য করতে চাই না।’
ডিসেম্বরের মধ্যে খসড়ার কাজ শেষ করতে চায় সংবিধান সংশোধন কমিটি। ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে সংসদ অধিবেশনে বিল উত্থাপনের লক্ষ্য তাদের। বৈঠকে অংশ নেয়নি বিরোধী দলগুলো।





















