গাজীপুরের শ্রীপুরে ৩০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী বিজয়া দশমীর প্রতিমা উৎসবে সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও ঐক্য বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এস এম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু।
তিনি বলেছেন, ‘ধর্ম নিয়ে কোনো বিভাজন নেই। এই বাংলাদেশ মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানসহ সব ধর্মের মানুষের দেশ। সবাই মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে হবে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে শ্রীপুর উপজেলার রাজাবাড়ি ইউনিয়নের ঐতিহাসিক কাচারি মাঠে আয়োজিত বিজয়া দশমীর প্রতিমা উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান সংসদ সদস্য।
গাজীপুর ৩ আসনে এমপি, অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি সহযোগিতার দায়িত্ব সবার। দেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি তাঁদের প্রতি আন্তরিকতার প্রকাশ।
সংসদ সদস্য বলেন, প্রায় ৩০০ বছর ধরে একই মাঠে প্রতিমা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। এটি হিন্দু সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। তাঁরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে এ ঐতিহ্য ধারণ করে আসছেন। দেশের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম ও ঐক্যের বন্ধন যেন কোনোভাবেই নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি। অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম বাচ্চু আরও বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে, সব ধর্মের মানুষ যেন তাঁদের নিজ নিজ ধর্মীয় অনুষ্ঠান সুন্দর ও শান্তিপূর্ণভাবে পালন করতে পারেন।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব দেশের কোথাও বড় ধরনের সমস্যা ছাড়াই শতভাগ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বাবু অরুণ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিভিন্ন মন্দির থেকে আসা অর্ধশতাধিক প্রতিমা একত্রিত করা হয়। প্রতিমাগুলো প্রদর্শনের পর প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান নির্ধারণ করা হয়।
পরে পর্যায়ক্রমে প্রতিমাগুলো পাশের পারুলী নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়। সভাপতির বক্তব্যে অরুণ চন্দ্র দাস বলেন, তাঁদের পূর্বপুরুষেরা এ মাঠে বিজয়া দশমীর উৎসব পালন করে আসছেন। প্রায় ৩০০ বছর ধরে চলে আসা এ আয়োজনের ধারাবাহিকতায় প্রতিবছর বিভিন্ন মন্দিরের প্রতিমা এখানে একত্রিত করা হয়। পরে প্রতিমাগুলোর শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণ করে নদীতে বিসর্জন দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব খাইরুল কবির মণ্ডল আজাদ, শ্রীপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মাহফুল হাসান হান্নান, রাজাবাড়ি ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক নাজমুল হুদা শাহীন, উপজেলা পূজা উদ্‌যাপন কমিটির আহ্বায়ক অর্জুন কুমার মণ্ডলসহ বিভিন্ন পূজামণ্ডপের সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, পূজারি ও ভক্তরা। রাজাবাড়ির ঐতিহাসিক কাচারি মাঠে তিন শতাব্দী ধরে চলে আসা এ আয়োজন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
প্রতিমা প্রদর্শন ও বিসর্জনের মধ্য দিয়ে উৎসবটি ধর্মীয় সম্প্রীতি এবং পারস্পরিক সৌহার্দ্যের বার্তাও তুলে ধরে।





















