আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১২%

আবাসন সংকট নিরসনসহ একনেক বৈঠকে উঠছে ১৫ প্রকল্প

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:10:24 pm, Wednesday, 21 October 2026
  • 13

আবাসন সংকট নিরসনসহ একনেক বৈঠকে উঠছে ১৫ প্রকল্প

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকা মহানগরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ২ লাখ ৫৩ হাজার ২০৫ জন। এর বিপরীতে ফ্ল্যাটের প্রকৃত চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৫০টি, যা মোট কর্মচারীর প্রায় ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে বরাদ্দযোগ্য মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা মাত্র ১৭ হাজার ৫০৩টি, যা মোট চাহিদার মাত্র ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর ফলে প্রায় ৮৬ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবীকে আবাসন সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই নতুন করে সরকারি কর্মজীবীদের জন্য আরও আবাসন বা ১৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এবার সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসন সংকট দূর করতে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলায় নির্মাণ করা হবে এসব ফ্ল্যাট। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সরকারি সেবা সম্পর্কিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী রোববার সকাল ১০টায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর। এটিসহ সভায় ১৫টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে উন্নততর সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

এ জন্যই গৃহায়ন মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ কোটি টাকার আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। তা দুই বছরে, অর্থাৎ ২০২৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়। আবাসন নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে আরও উন্নত সেবাপ্রাপ্তি সম্ভব হবে।

এ জন্য একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ’ প্রকল্পটির আওতায় ১৩ তলা ভিতের ওপর তিনটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ভবনে প্রতি ফ্লোরে ছয়টি করে ইউনিট থাকবে, যার মধ্যে মোট ৬৮টিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। অপর ভবনটিতে প্রতি ফ্লোরে চারটি করে ইউনিট থাকবে, যার মধ্যে আরও ৪৮টিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

তিনটি ১৩ তলা ভবনে মোট ১৮৪টি ইউনিটে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ হবে— ৩১ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৭৩ বর্গমিটারের মূল ভবন নির্মাণ (বেসমেন্ট ফাউন্ডেশন, স্ট্যান্ডার্ড স্ট্রাকচার, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ এবং পয়োনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগসহ) ভবন ১, ২, ৩ এবং স্টাফ ডরমিটরিসহ সার্ভিস ভবন।

এতে খরচ ধরা হয়েছে ১৪৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণে খরচ করা হবে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চারটি স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণে খরচ হবে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চার সেট বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ও তার যন্ত্রপাতি-ট্রান্সফরমার কেনা হবে ৪ কোটি ৬ লাখ টাকায়। এ ছাড়া চার সেট এইচটি, এলটি, পিএফআই প্যানেল ও অন্যান্য কাজ করা হবে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায়।

৯ সেট ১০০ কেভিএ জেনারেটর (এটিএস ও ক্যানোপিসহ) কেনা হবে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। তিনটি ১ হাজার ২৫০ কেজি পেসেঞ্জার লিফট, ১ হাজার ২৫০ কেজি ফায়ার লিফট পাঁচটি এবং ১ হাজার কেজি ফায়ার লিফট একটি (মোট ৯টি) কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ৫৭৫ মিটার সীমানাপ্রাচীর, গেট এবং গার্ড রুমও নির্মাণ করা হবে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

এভাবে মোট প্রকল্পের হিসাব বেড়ে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। তা যাচাই-বাছাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট শিডিউল-২০২২ অনুযায়ী পুনরায় যাচাই করাসহ বিভিন্ন ব্যাপারে আপত্তি করে সংশোধন করতে বলা হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

পিইসি সভার সুপারিশের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের চতুর্থ অধ্যায়ের ‘নগরায়ণ ও আবাসন’ খাত সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোপূর্বে অনুমোদন দিয়েছেন। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের মতে, ২০১৫ সালে ঢাকা মহানগরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫, যার বিপরীতে নির্মিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৫২টি।

অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে মাত্র ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন সুবিধা পেতেন। বিগত বছরগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ব্যাপক বাড়লেও সেই অনুপাতে আবাসনসুবিধা এখনো বাড়েনি। ফলে এই সংকট বর্তমানে আরও তীব্র ও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে বিভিন্ন গ্রেডে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ২০৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে ফ্ল্যাটের প্রকৃত চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৫০টি, যা মোট কর্মচারীর প্রায় ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে বরাদ্দযোগ্য মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা মাত্র ১৭ হাজার ৫০৩টি, যা মোট চাহিদার মাত্র ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ফলে মোট চাহিদার প্রায় ৮৬ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবী সরকারি আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এ জন্য প্রায় ২ দশমিক ৪৪ একর জায়গায় একটি আধুনিক বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার স্থানটি বর্তমানে ফাঁকা পড়ে রয়েছে, যা যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় বেদখলের আশঙ্কা রয়েছে।

তাই সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রকল্পটি গ্রহণ সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আবাসন সংকট নিরসনসহ একনেক বৈঠকে উঠছে ১৫ প্রকল্প

Update Time : 11:10:24 pm, Wednesday, 21 October 2026

ঢাকা মহানগরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী ২ লাখ ৫৩ হাজার ২০৫ জন। এর বিপরীতে ফ্ল্যাটের প্রকৃত চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৫০টি, যা মোট কর্মচারীর প্রায় ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে বরাদ্দযোগ্য মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা মাত্র ১৭ হাজার ৫০৩টি, যা মোট চাহিদার মাত্র ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। এর ফলে প্রায় ৮৬ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবীকে আবাসন সুবিধা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তাই নতুন করে সরকারি কর্মজীবীদের জন্য আরও আবাসন বা ১৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এবার সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসন সংকট দূর করতে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা ব্যয়ে ১৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার।

রাজধানীর ধানমন্ডির জিগাতলায় নির্মাণ করা হবে এসব ফ্ল্যাট। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সরকারি সেবা সম্পর্কিত গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় থেকে ‘জিগাতলার গাবতলা কলোনিতে সরকারি কর্মচারীদের জন্য বহুতল আবাসিক ভবন নির্মাণ’ প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়। সব প্রক্রিয়া শেষে আগামী রোববার সকাল ১০টায় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হবে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর। এটিসহ সভায় ১৫টি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। সভায় সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক সভাপতি তারেক রহমান। বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিসভা কক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হবে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় এবং গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত আবাসন নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের কাছ থেকে উন্নততর সেবাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চায় সরকার।

এ জন্যই গৃহায়ন মন্ত্রণালয় থেকে ২০০ কোটি টাকার আবাসন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের জন্য পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়েছে ২০২৫ সালের ১০ ডিসেম্বর। তা দুই বছরে, অর্থাৎ ২০২৮ সালের অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়। আবাসন নির্মাণের বিষয়ে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগের সদস্য (সিনিয়র সচিব) ড. নেয়ামত উল্যা ভূঁইয়া বলেন, ‘প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি কর্মচারীদের জন্য উন্নত ও মানসম্মত বাসস্থান নিশ্চিত করার মাধ্যমে আরও উন্নত সেবাপ্রাপ্তি সম্ভব হবে।

এ জন্য একনেক সভায় অনুমোদনের জন্য প্রকল্পটি তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। ’ প্রকল্পটির আওতায় ১৩ তলা ভিতের ওপর তিনটি ১৩ তলা ভবন নির্মাণ করা হবে। এর মধ্যে দুটি ভবনে প্রতি ফ্লোরে ছয়টি করে ইউনিট থাকবে, যার মধ্যে মোট ৬৮টিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। অপর ভবনটিতে প্রতি ফ্লোরে চারটি করে ইউনিট থাকবে, যার মধ্যে আরও ৪৮টিতে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে।

তিনটি ১৩ তলা ভবনে মোট ১৮৪টি ইউনিটে ৮৫০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পের প্রধান প্রধান কাজ হবে— ৩১ হাজার ৬৫৬ দশমিক ৭৩ বর্গমিটারের মূল ভবন নির্মাণ (বেসমেন্ট ফাউন্ডেশন, স্ট্যান্ডার্ড স্ট্রাকচার, অভ্যন্তরীণ পানি সরবরাহ এবং পয়োনিষ্কাশন, অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন ও গ্যাস সংযোগসহ) ভবন ১, ২, ৩ এবং স্টাফ ডরমিটরিসহ সার্ভিস ভবন।

এতে খরচ ধরা হয়েছে ১৪৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা। ভূগর্ভস্থ জলাধার নির্মাণে খরচ করা হবে ২ কোটি ২৩ লাখ টাকা। চারটি স্যুয়ারেজ ব্যবস্থা ও স্যুয়ারেজ ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট নির্মাণে খরচ হবে ৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। চার সেট বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন ও তার যন্ত্রপাতি-ট্রান্সফরমার কেনা হবে ৪ কোটি ৬ লাখ টাকায়। এ ছাড়া চার সেট এইচটি, এলটি, পিএফআই প্যানেল ও অন্যান্য কাজ করা হবে ১ কোটি ২৭ লাখ টাকায়।

৯ সেট ১০০ কেভিএ জেনারেটর (এটিএস ও ক্যানোপিসহ) কেনা হবে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকায়। তিনটি ১ হাজার ২৫০ কেজি পেসেঞ্জার লিফট, ১ হাজার ২৫০ কেজি ফায়ার লিফট পাঁচটি এবং ১ হাজার কেজি ফায়ার লিফট একটি (মোট ৯টি) কিনতে খরচ ধরা হয়েছে ৭ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। ৫৭৫ মিটার সীমানাপ্রাচীর, গেট এবং গার্ড রুমও নির্মাণ করা হবে। এতে খরচ ধরা হয়েছে ১ কোটি ৭৩ লাখ টাকা।

এভাবে মোট প্রকল্পের হিসাব বেড়ে ২০০ কোটি ১১ লাখ টাকা দাঁড়িয়েছে। তা যাচাই-বাছাই করতে পরিকল্পনা কমিশনে ২০২৬ সালের ৫ জানুয়ারি প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় গণপূর্ত অধিদপ্তরের রেট শিডিউল-২০২২ অনুযায়ী পুনরায় যাচাই করাসহ বিভিন্ন ব্যাপারে আপত্তি করে সংশোধন করতে বলা হয়। পিইসি সভার সিদ্ধান্ত প্রতিপালন সাপেক্ষে প্রকল্পটি অনুমোদনের সুপারিশ করা হয়।

পিইসি সভার সুপারিশের আলোকে ডিপিপি পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রকল্পটি সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের চতুর্থ অধ্যায়ের ‘নগরায়ণ ও আবাসন’ খাত সম্পর্কিত প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তাই প্রকল্পটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ইতোপূর্বে অনুমোদন দিয়েছেন। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের মতে, ২০১৫ সালে ঢাকা মহানগরে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯১৫, যার বিপরীতে নির্মিত ফ্ল্যাটের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৩ হাজার ৫২টি।

অর্থাৎ, সামগ্রিকভাবে মাত্র ৮ দশমিক ৭৬ শতাংশ কর্মকর্তা-কর্মচারী আবাসন সুবিধা পেতেন। বিগত বছরগুলোতে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ব্যাপক বাড়লেও সেই অনুপাতে আবাসনসুবিধা এখনো বাড়েনি। ফলে এই সংকট বর্তমানে আরও তীব্র ও প্রকট আকার ধারণ করেছে। ২০২৫ সালের হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা শহরে বিভিন্ন গ্রেডে কর্মরত মোট ২ লাখ ৫৩ হাজার ২০৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিপরীতে ফ্ল্যাটের প্রকৃত চাহিদা ১ লাখ ২৮ হাজার ৫৫০টি, যা মোট কর্মচারীর প্রায় ৫০ দশমিক ৭৭ শতাংশ।

অথচ এর বিপরীতে বর্তমানে বরাদ্দযোগ্য মোট ফ্ল্যাটের সংখ্যা মাত্র ১৭ হাজার ৫০৩টি, যা মোট চাহিদার মাত্র ১৩ দশমিক ৬২ শতাংশ। ফলে মোট চাহিদার প্রায় ৮৬ শতাংশ সরকারি চাকরিজীবী সরকারি আবাসন সুবিধার বাইরে রয়েছেন। এ জন্য প্রায় ২ দশমিক ৪৪ একর জায়গায় একটি আধুনিক বহুতল আবাসিক কমপ্লেক্স নির্মাণের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রকল্প এলাকার স্থানটি বর্তমানে ফাঁকা পড়ে রয়েছে, যা যথাযথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় বেদখলের আশঙ্কা রয়েছে।

তাই সরকারি সম্পত্তি রক্ষায় প্রকল্পটি গ্রহণ সময়োপযোগী ও যৌক্তিক।