অভিষিক্ত নামান ধীরের দারুণ স্পিন বোলিংয়ের পর অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ঝোড়ো সেঞ্চুরিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। ক্যারিবীয়দের দেওয়া ১৭২ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৩২ বল হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিকেরা।
এই দাপুটে জয়ে ৫ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল ভারত। মঙ্গলবার লক্ষেèৗয়ের একানা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরুতে টস জিতে আগে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ভারতীয় অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ার। ব্যাট করতে নেমে ওয়েস্ট ইন্ডিজ অধিনায়ক শাই হোপের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে শুরুটা ভালোই হয়েছিল ক্যারিবীয়দের। দ্বিতীয় ওভারেই মায়াঙ্ক যাদবকে চার-ছক্কায় আক্রমণ করে ১৬ রান তুলে নেন হোপ।
তবে পাওয়ারপ্লেতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় সফরকারী দলটি। আর্শদীপ সিংয়ের ফুল-লেংথ বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন ওপেনার কামিল পুরান (১২)। এরপর ষষ্ঠ ওভারে অপ্রয়োজনীয় রান নিতে গিয়ে রানআউট হন শিমরন হেটমায়ার (৫)। একই ওভারে অক্ষর প্যাটেলের বলে বোল্ড হয়ে খালি হাতেই সাজঘরে ফেরেন রোভম্যান পাওয়েল। ফলে ৪৪ রানে ৩ উইকেট হারায় ক্যারিবীয়রা। চতুর্থ উইকেটে শাই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ড ৬৩ রান যোগ করে দলকে বিপর্যয় থেকে টেনে তোলেন।
তবে ১২তম ওভারে নামান ধীরের বলে আউট হয়ে যান হোপ। সাজঘরে ফেরার আগে এই উইকেটকিপার ব্যাটার ৩৭ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৫২ রানের ইনিংস খেলেন। অধিনায়কের ফেরার পর আবারও দ্রুত উইকেট হারাতে থাকে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। মিডল অর্ডারে রোস্টন চেজ, রোমারিও শেফার্ডরা দায়িত্ব নিতে না পারলেও একপ্রান্তে অবশ্য ঝড় তোলেন রাদারফোর্ড। ৩৪ বলে ছয় চার ও তিন ছক্কায় ৫৬ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলেন তিনি।
রাদারফোর্ডও মায়াঙ্ক যাদবের বলে ফিরলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস দ্রুত শেষ হয়ে যায়। শেষ দিকে আকিল হোসেনের ৯ বলে ১৫ রানের ছোট ক্যামিওতে ১৭১ রানে পৌঁছায় তারা। ভারতের হয়ে বোলিংয়ে নামান ধীর ৩১ রান খরচায় নেন ৩টি উইকেট। কুলদীপ যাদব ৩৩ রানে ২টি এবং অক্ষর প্যাটেল ২৬ রানে ২টি উইকেট শিকার করেন। ১৭২ রান তাড়া করতে নেমে শুরুতে ভারতের শুরুটাও খুব একটা স্বস্তিদায়ক ছিল না।
দলীয় ৩৫ রানের মধ্যেই দুই ওপেনার অভিষেক শর্মা (১০ বলে ২১) ও সঞ্জু স্যামসন (৯ বলে ১১) বিদায় নেন। তৃতীয় ওভারে রোস্টন চেসের বলে শিমরন হেটমায়ারের দুর্দান্ত ক্যাচে পরিণত হন অভিষেক। পরের ওভারে আকিল হোসেনের বলে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন সঞ্জু স্যামসন। সেখান থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নিয়ে নেন শ্রেয়াস আইয়ার ও ঈশান কিশান।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বোলারদের ওপর রীতিমতো তা-ব চালিয়ে চতুর্থ উইকেটে দুজন মিলে মাত্র ৬৭ বলে ১৩৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন। মাত্র ৪২ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করে শেষ পর্যন্ত ৪৩ বলে ১০টি চার ও ৬টি ছক্কায় ১০২ রানে অপরাজিত থাকেন আইয়ার। অন্য প্রান্তে ঈশান কিশান ২৭ বলে ৩৭ রান করে অপরাজিত থেকে জয় নিশ্চিত করেন।






















