দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, করোনাকালে দেশীয় পরীক্ষা কিটের উদ্যোগে সহায়তা এবং শিক্ষার্থীদের মেন্টরিংসহ বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ফিউচার বাংলাদেশ এবার আয়োজন করছে মডেল জাতিসংঘ সম্মেলন।
সংগঠনটির ভাষ্য, মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতাকে নীতিনির্ধারণের আলোচনায় নিয়ে আসা এবং তরুণ নেতৃত্বকে প্রস্তুত করতেই এই উদ্যোগ। আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে অনুষ্ঠিত হবে বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬ (বিওয়াইএমইউএন ২০২৬)। আয়োজকদের দাবি, জাতীয় সংসদের এলডি হলে এটিই প্রথম মডেল ইউএন সম্মেলন। মডেল ইউএন মূলত জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠক ও কার্যক্রমের আদলে তরুণদের জন্য আয়োজিত একটি শিক্ষামূলক আয়োজন।
এতে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট কোনো দেশ বা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিত্ব করেন, বিভিন্ন বিষয়ে যুক্তি তুলে ধরেন, অন্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করেন এবং সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে প্রস্তাব গ্রহণ করেন। ফিউচার বাংলাদেশের মতে, তাদের কার্যক্রম মূলত তিনটি স্তরে পরিচালিত হচ্ছে—সংকটের সময়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া এবং সেই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তরুণদের নীতি ও নেতৃত্বের আলোচনার জন্য প্রস্তুত করা।
সংগঠনটির ভাষ্য, মাঠপর্যায়ে কাজ করা একজন তরুণ কোনো সমস্যার বাস্তব চিত্র সম্পর্কে ধারণা রাখেন। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে নীতি প্রণয়ন ও আলোচনার প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান যুক্ত হলে তিনি আরও বাস্তবসম্মত সমাধান প্রস্তাব করতে পারেন। বিওয়াইএমইউএন ২০২৬-এর মাধ্যমে সেই প্রস্তুতির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। ফিউচার বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “সংকটের সময় আমরা দুটো কাজ করেছি: মাঠে মানুষের পাশে থেকেছি, আর সমাধানের উদ্যোগে বিনিয়োগ করেছি।
করোনার শুরুতে দেশীয় পরীক্ষা কিটের উদ্যোগে সহায়তা ছিল সেই বিশ্বাস থেকে। এখন আমরা বিনিয়োগ করছি দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদে, তরুণ নেতৃত্বে। বিওয়াইএমইউএন ২০২৬ সেই বিনিয়োগ। ” তবে বিওয়াইএমইউএন ২০২৬ এককভাবে ফিউচার বাংলাদেশের আয়োজন নয়। ফিউচার বাংলাদেশ, বেঙ্গলবাইট এবং বাংলাদেশ ইয়ুথ ডিপ্লোম্যাটস ফেডারেশন (বিওয়াইডিএফ) যৌথভাবে সম্মেলনটি আয়োজন করছে।
সম্মেলনে ছয়টি বিশেষায়িত কমিটি থাকবে। এর মধ্যে ফ্ল্যাগশিপ কমিটি হিসেবে থাকছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। পাশাপাশি থাকছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক), জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) এবং ইন্টারন্যাশনাল প্রেস। ইন্টারন্যাশনাল প্রেস কমিটির অংশগ্রহণকারীরা সাংবাদিকের ভূমিকায় পুরো সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও প্রতিবেদন তৈরি করবেন।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্মেলনে অংশগ্রহণ ও বিস্তারিত তথ্যের জন্য join.bymun.org এবং www.bymun.org ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করা যাবে।


























