আজ সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮২%

শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতা পেতে অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:31:11 pm, Monday, 5 October 2026
  • 14

শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতা পেতে অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন এবং অবসর ভাতার জন্য আর কষ্ট ভোগ করে বিভিন্ন অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না।

যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। ’ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বিধান এবং শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ ও সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

শিক্ষকতা পেশা কখনোই উপায়হীন বিকল্প বা সাধারণ চাকরি হতে পারে না। বরং শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে শিক্ষকতাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেয়, সরকার সেভাবেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। ’ শিক্ষকদের মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গেই রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত।

একজন শিক্ষক কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত—যেভাবেই থাকুন না কেন, রাষ্ট্রের কাছে তিনি সম্মানীয়। একজন শিক্ষক কর্মরত বা অবসর যেভাবেই থাকুন না কেন, তিনি রাষ্ট্রের কাছে আমৃত্যু সম্মানীয়। ’ শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না, যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।

’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিক্ষকগণই হচ্ছেন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষার্থীরা যাতে বই-বিমুখ হয়ে না ওঠে, সেজন্য শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মনে ‘কেন এবং কীভাবে’—এ ধরনের প্রশ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিলেবাস আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। ’ তিনি বলেন, একজন শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, কোশ্চেন ব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমরা দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে চাই যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকবে না এবং শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায় থেকে কেউ যেন ড্রপআউট না হয়। কাউকে বেকার থাকতে না হয় সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষাখাতে বাজেটের পরিমাণ আরও ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অবশ্যই এতে সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষকদের একান্ত সহযোগিতা সরকারের প্রয়োজন। তাহলেই আমরা লক্ষ্য অর্জন এবং বাজেট বৃদ্ধি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নীতি-নৈতিকতা এবং চরিত্র গঠনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কারণ জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা সমাজের অকল্যাণের কারণ হতে পারে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপ্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান এবং তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন।

শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগের পার্থক্য দূর করে সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা দিতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

চুয়াডাঙ্গায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে পেঁয়াজ সংরক্ষণের এয়ার ফ্লো মেশিন বিতরণ

শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতা পেতে অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না: প্রধানমন্ত্রী

Update Time : 07:31:11 pm, Monday, 5 October 2026

শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিক্ষকদের বেতন এবং অবসর ভাতার জন্য আর কষ্ট ভোগ করে বিভিন্ন অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না।

যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে তাদের অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে। ’ সোমবার (৫ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের আর্থিক নিরাপত্তা বিধান এবং শিক্ষকতা পেশাকে সুযোগ ও সম্মানের দিক থেকে প্রতিযোগিতামূলক করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে।

শিক্ষকতা পেশা কখনোই উপায়হীন বিকল্প বা সাধারণ চাকরি হতে পারে না। বরং শিক্ষা-দীক্ষায় সবচেয়ে মেধাবী মানুষটি যাতে শিক্ষকতাকে প্রথম অগ্রাধিকার হিসেবে বেছে নেয়, সরকার সেভাবেই ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায়। ’ শিক্ষকদের মর্যাদার সঙ্গে রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কারণ শিক্ষকদের সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গেই রাষ্ট্রের মর্যাদা ও ভাবমূর্তি জড়িত।

একজন শিক্ষক কর্মরত কিংবা অবসরপ্রাপ্ত—যেভাবেই থাকুন না কেন, রাষ্ট্রের কাছে তিনি সম্মানীয়। একজন শিক্ষক কর্মরত বা অবসর যেভাবেই থাকুন না কেন, তিনি রাষ্ট্রের কাছে আমৃত্যু সম্মানীয়। ’ শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতা পাওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানি বন্ধের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষকদের বেতন ও অবসর ভাতার জন্য কষ্ট করে অফিসে অফিসে ঘোরাঘুরি করতে হবে না, যথাসময়ে ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পৌঁছে দেওয়া হবে।

’ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘দেশের শিক্ষকগণই হচ্ছেন জ্ঞানভিত্তিক রাষ্ট্র ও সমাজ গড়ার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার। শিক্ষার্থীরা যাতে বই-বিমুখ হয়ে না ওঠে, সেজন্য শিখন ও শিক্ষণ পদ্ধতি গুরুত্বপূর্ণ। মুখস্থ করার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের মনে ‘কেন এবং কীভাবে’—এ ধরনের প্রশ্ন জাগিয়ে তুলতে হবে। কৌতূহল থাকলে শিক্ষার্থী নিজেই নিজের শিক্ষক হয়ে উঠতে পারে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই সিলেবাস আধুনিকায়নের কাজ শুরু করেছে। ’ তিনি বলেন, একজন শিক্ষক ট্যাবের মাধ্যমে ডিজিটাল লেসন প্ল্যান, কোশ্চেন ব্যাংক, শিক্ষার্থীর শেখার অগ্রগতি এবং প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবেন। একই সঙ্গে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সম্প্রসারণ এবং ফ্রি ওয়াইফাই সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আমরা দেশে এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা ধীরে ধীরে গড়ে তুলতে চাই যেখানে কোনো শিশু শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকবে না এবং শিক্ষাজীবনের যেকোনো পর্যায় থেকে কেউ যেন ড্রপআউট না হয়। কাউকে বেকার থাকতে না হয় সেটি নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো জাতীয় বাজেটে শিক্ষাখাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করা হয়েছে।

আগামী পাঁচ বছরে নির্ধারিত লক্ষ্য অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষাখাতে বাজেটের পরিমাণ আরও ধীরে ধীরে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তবে অবশ্যই এতে সমগ্র বাংলাদেশের শিক্ষকদের একান্ত সহযোগিতা সরকারের প্রয়োজন। তাহলেই আমরা লক্ষ্য অর্জন এবং বাজেট বৃদ্ধি বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হব। শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি নৈতিকতা ও চরিত্র গঠনের ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, নীতি-নৈতিকতা এবং চরিত্র গঠনই শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত। কারণ জ্ঞান যদি নৈতিকতার সঙ্গে যুক্ত না হয়, তবে তা সমাজের অকল্যাণের কারণ হতে পারে। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ব্যাপ্তি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, মাধ্যমিক পর্যায়ে প্রায় ২১ হাজার প্রতিষ্ঠান এবং তিন লাখের বেশি শিক্ষক কোটি কোটি শিক্ষার্থীকে শিক্ষা দিচ্ছেন।

শহর ও গ্রামের শিক্ষার সুযোগের পার্থক্য দূর করে সব অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের দক্ষ শিক্ষক ও আধুনিক প্রযুক্তির সুবিধা দিতে সরকার পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করছে।