আজ মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬
২১ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২৩ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৫%

বালিয়াডাঙ্গীতে খালের পানি থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্যের সৃষ্টি

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:25:26 pm, Monday, 5 October 2026
  • 19

বালিয়াডাঙ্গীতে খালের পানি থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্যের সৃষ্টি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে খালের পানি থেকে কাশমিরা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বড়পলাশবাড়ী গ্রামের নয়াবাড়ী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কাশমিরা আক্তার উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের এন্তাজুল হকের একমাত্র মেয়ে। তার স্বামী মুন্না হোসেন বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামের নয়াবাড়ী পাড়ার আবু বক্করের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে কাশমিরা শ্বশুরবাড়ির কাজ করতে বের হন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গরুর গোবর ফেলতে বাড়ির বাইরে যান। পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিমে একটি খালের পানিতে তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান, কাশমিরা গরুর গোবর ফেলতে বের হওয়ার পর তাকে খালের পানিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পানি থেকে তুলে আনেন। তাদের দাবি, সাংসারিক জীবনে কাশমিরার সঙ্গে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কোনো ধরনের ঝামেলা ছিল না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাশমিরার চাচা শ্বশুর আলী আকবর খালের পাশে গেলে পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখেন। বিষয়টি তিনি বাড়িতে জানালে আরেক চাচা শ্বশুর ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি পানি থেকে ওপরে তুলে আনেন। পরে কাশমিরা মারা গেছেন নিশ্চিত হয়ে মরদেহটি খালের পাড়ে রেখে তার বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নিহতের বাবা এন্তাজুল হক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে সহজ-সরল ছিল। জামাইয়ের সঙ্গেও তার কোনো ঝগড়া ছিল না। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় মেয়ের শরীরে মারধর বা আঘাতের কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা আমরা দেখব। যদি কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে মরদেহ দেখতে ঘটনাস্থলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তাদের অভিযোগ, পানিতে পড়ে থাকার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন না থাকায় ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের আতঙ্ক

বালিয়াডাঙ্গীতে খালের পানি থেকে তরুণীর মরদেহ উদ্ধার, রহস্যের সৃষ্টি

Update Time : 08:25:26 pm, Monday, 5 October 2026

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গীতে খালের পানি থেকে কাশমিরা আক্তার (২০) নামে এক তরুণীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে উপজেলার বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের বড়পলাশবাড়ী গ্রামের নয়াবাড়ী পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

তরুণীর মৃত্যুকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহত কাশমিরা আক্তার উপজেলার ভানোর ইউনিয়নের দুর্গাপুর গ্রামের এন্তাজুল হকের একমাত্র মেয়ে। তার স্বামী মুন্না হোসেন বড়পলাশবাড়ী ইউনিয়নের পলাশবাড়ী গ্রামের নয়াবাড়ী পাড়ার আবু বক্করের ছেলে। স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকালে কাশমিরা শ্বশুরবাড়ির কাজ করতে বের হন।

পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি গরুর গোবর ফেলতে বাড়ির বাইরে যান। পরে শ্বশুরবাড়ি থেকে প্রায় ৩০০ গজ পশ্চিমে একটি খালের পানিতে তাকে পড়ে থাকতে দেখা যায়। নিহতের শ্বশুরবাড়ির লোকজন জানান, কাশমিরা গরুর গোবর ফেলতে বের হওয়ার পর তাকে খালের পানিতে পড়ে থাকতে দেখা যায়। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে পানি থেকে তুলে আনেন। তাদের দাবি, সাংসারিক জীবনে কাশমিরার সঙ্গে স্বামী বা শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কোনো ধরনের ঝামেলা ছিল না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কাশমিরার চাচা শ্বশুর আলী আকবর খালের পাশে গেলে পানিতে মরদেহ ভাসতে দেখেন। বিষয়টি তিনি বাড়িতে জানালে আরেক চাচা শ্বশুর ওমর ফারুক ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি পানি থেকে ওপরে তুলে আনেন। পরে কাশমিরা মারা গেছেন নিশ্চিত হয়ে মরদেহটি খালের পাড়ে রেখে তার বাবা-মাকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে নিহতের বাবা এন্তাজুল হক ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন।

তিনি বলেন, আমার মেয়ে সহজ-সরল ছিল। জামাইয়ের সঙ্গেও তার কোনো ঝগড়া ছিল না। পুলিশের প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদনের সময় মেয়ের শরীরে মারধর বা আঘাতের কোনো চিহ্ন আছে কি না, তা আমরা দেখব। যদি কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়, তাহলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এদিকে মরদেহ দেখতে ঘটনাস্থলে আসা কয়েকজন ব্যক্তি মরদেহ উদ্ধারের স্থান ও পরিস্থিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন।

তাদের অভিযোগ, পানিতে পড়ে থাকার পর মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় দৃশ্যমান কোনো চিহ্ন না থাকায় ঘটনাটি স্বাভাবিক মৃত্যু নাকি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড—তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বালিয়াডাঙ্গী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বুলবুল ইসলাম বলেন, মৃত্যুর ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

এরপর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।