সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে প্রমিলা ফুটবল খেলাকে ঘিরে সৃষ্টি হয়েছে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা। নারী ফুটবলারদের খেলা দেখতে মাঠে লাখো মানুষের ঢল নেমেছে। খেলা শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগ থেকেই মাঠের চারপাশে দর্শকদের ভিড় জমতে থাকে।
সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের উপস্থিতি এতটাই বেড়ে যায় যে, পুরো এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। সোমবার (৫ অক্টোবর) ফুলজোর ডিগ্রি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত প্রমিলা ফুটবল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে ছিল ব্যাপক আগ্রহ। দুপুরের পর বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ, শিশু-কিশোরসহ ফুটবলপ্রেমীরা দলবেঁধে খেলার মাঠে আসতে শুরু করেন। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকে পায়ে হেঁটে, ভ্যান, অটোরিকশা, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনে করে খেলা দেখতে ছুটে আসেন।
খেলায় একপ্রান্তে ছিল বিআর এফসি সিরাজগঞ্জ অপরপ্রান্তে ছিল জয়পুর হাট। খেলা শুরুর আগেই মাঠের প্রবেশপথ, আশপাশের সড়ক ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দর্শকদের ভিড় দেখা যায়। মাঠে জায়গা না পেয়ে অনেক দর্শক আশপাশের উঁচু স্থান, দোকানের ছাদ ও সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে খেলা উপভোগ করেন। দীর্ঘদিন পর এমন বড় আয়োজনকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা যায় উৎসবের আমেজ।
খেলা শুরু হলে দুই দলের নারী ফুটবলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে দর্শকদের উচ্ছ্বাস আরও বেড়ে যায়। আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচ। বল নিয়ে খেলোয়াড়দের ছুটে চলা, গোলের সুযোগ তৈরি এবং প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকানোর দৃশ্য দর্শকদের মাতিয়ে রাখে। প্রতিটি আক্রমণ ও গোলের সুযোগে দর্শকদের করতালি, উল্লাস ও স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। বিশেষ করে নারী ফুটবলারদের দক্ষতা, গতি ও ক্রীড়াশৈলী দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনেক শিশু-কিশোরকে খেলার বিভিন্ন মুহূর্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে দেখা যায়। স্থানীয় নারী দর্শকদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। তারা বলেন, নারীদের খেলাধুলায় এগিয়ে নিতে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন,আগে নারী ফুটবল খেলা দেখতে এত মানুষের সমাগম দেখা যেত না। এখন মানুষ নারী ফুটবলকে আগের চেয়ে অনেক বেশি ভালোবাসে।
আজকের মাঠের দৃশ্যই তার প্রমাণ। খেলা দেখতে আসা বাকি বিল্লাহ্ বলেন, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খেলা দেখতে এসেছি। মাঠে এত মানুষের উপস্থিতি দেখে সত্যিই ভালো লাগছে। নিয়মিত এ ধরনের আয়োজন হলে এলাকার মেয়েরা খেলাধুলায় আরও বেশি উৎসাহিত হবে। খেলার সভাপতি মো. এনামুল হক মাস্টার বলেন,নারী ফুটবলের প্রসার, প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের উৎসাহ দেওয়া এবং তরুণ প্রজন্মকে খেলাধুলার প্রতি আকৃষ্ট করতেই আমাদের এ আয়োজন।
দর্শকদের ব্যাপক উপস্থিতি আমাদের আনন্দিত করেছে। নলকা ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাধারন সম্পাদক মো:মাজহারুল ইসলাম জুয়েল বলেন,নারীরা এখন দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতার প্রমাণ দিচ্ছেন। খেলাধুলাতেও তাদের এগিয়ে নিতে প্রয়োজন নিয়মিত প্রশিক্ষণ, প্রতিযোগিতা ও উৎসাহ। ফুলজোর কলেজ মাঠে আজকের বিপুল দর্শক উপস্থিতি প্রমাণ করে নারী ফুটবল নিয়ে মানুষের আগ্রহ অনেক বেড়েছে।
এদিকে প্রমিলা ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে মাঠের আশপাশে বিভিন্ন ধরনের অস্থায়ী দোকান ও খাবারের স্টল বসে। এতে স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের মধ্যেও বাড়তি কর্মচাঞ্চল্য দেখা যায়। খেলা দেখতে আসা দর্শকদের পদচারণায় পুরো এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের পরিবেশ। প্রধান অতিথি মো. আব্দুল লতিফ সরকার বলেন, খেলাধুলা মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষ করে নারীদের খেলাধুলায় অংশগ্রহণ সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। আজকের এই প্রমীলা ফুটবল খেলাকে ঘিরে মানুষের ব্যাপক উৎসাহ ও উপস্থিতি সত্যিই আনন্দদায়ক। আমি আশা করি, এ ধরনের আয়োজন নিয়মিতভাবে অব্যাহত থাকবে এবং এখান থেকেই অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় জাতীয় পর্যায়ে উঠে আসবে। খেলাধুলার মাধ্যমে আমাদের তরুণ প্রজন্ম মাদক ও নানা অপরাধ থেকে দূরে থাকবে।
আয়োজকদের এমন সুন্দর আয়োজনের জন্য ধন্যবাদ জানাই এবং অংশগ্রহণকারী সব খেলোয়াড়ের সাফল্য কামনা করছি। সচেতন মহলের মতে, নারী ফুটবলের এমন জনপ্রিয়তা দেশের ক্রীড়াঙ্গনের জন্য ইতিবাচক বার্তা। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মিত নারী ফুটবল প্রতিযোগিতার আয়োজন করা গেলে প্রত্যন্ত এলাকার প্রতিভাবান মেয়েরা নিজেদের প্রতিভা বিকাশের সুযোগ পাবে। পাশাপাশি খেলাধুলার মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন ও আত্মবিশ্বাসও বাড়বে।
এই প্রমিলা ফুটবল ম্যাচে বিপুল দর্শকের উপস্থিতি শুধু একটি খেলা দেখার আগ্রহই নয়,বরং নারী ফুটবলের প্রতি সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও সমর্থনেরও বহিঃপ্রকাশ বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।






















