আজ সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
২০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২২ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৮২%

আওয়ামী লীগের সদস্য রবিউল বিএনপির জন্মগত কর্মী দাবি পরিবারের

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:01:01 pm, Monday, 5 October 2026
  • 13

আওয়ামী লীগের সদস্য রবিউল বিএনপির জন্মগত কর্মী দাবি পরিবারের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের রবিউল ইসলামকে আওয়ামী লীগের সদস্য পরিচয়ে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তার পরিবার ও বিএনপি নেতাদের দাবি, রবিউল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

একই ব্যক্তির নামে আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকা ও বিএনপির প্রত্যয়নপত্র সামনে আসায় তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। রবিউল নারায়ণপুর ইউনিয়নের গুয়াতলী গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার ও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় ৪৬ নম্বর সদস্য হিসেবে রবিউলের নাম রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলুর স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে রবিউলকে ‘জন্মগতভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত’ এবং বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রবিউলের ছেলে আলামিনের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর রাত সোয়া ১১টার দিকে চৌগাছা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে থানায় নিয়ে যান।

সেখানে ওসি মামুনুর রহমান তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রবিউলকে থানায় আটকে রাখা হয়। পরে নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আলামিনের দাবি, ওসির নির্দেশে এএসআই কাজল, এসআই বিল্লাল, এএসআই মিকাইল ও এএসআই জাকির তার বাবাকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যান।

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে রবিউলকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় যোগাযোগ করা হলে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলামিন। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মামুনুর রহমান। তিনি বলেন, রবিউলকে আটকের পর তার পরিবারের কেউ তার কাছে আসেননি। তার কাছে কেউ না এলে তিনি ঘুষ দাবি করবেন কার কাছে?

ওসি বলেন, রবিউলকে আটকের পর নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু তাকে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। এম এ সালামের দাবি, ২০১৩ সালের একটি ‘ভুয়া কমিটির তালিকায়’ রবিউলকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তবে ওসি মামুনুর রহমানের বক্তব্য, রবিউল আওয়ামী লীগের কর্মী। তার কাছে থাকা ২০১৩ সালের কমিটির তালিকায় ৪৬ নম্বর সদস্য হিসেবে রবিউলের নাম রয়েছে। এদিকে, ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়ে এম এ সালাম বলেন, ওসি কোনো আসামিকে ধরে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ নেন এমন কোনো রেকর্ড তার জানা নেই। তার মতে, ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগটি ষড়যন্ত্রমূলকও হতে পারে।

একই ব্যক্তির নামে ২০১৩ সালের আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকা এবং ২০২৬ সালের বিএনপির প্রত্যয়নপত্র সামনে আসায় রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ২০১৩ সালের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হয়ে থাকলে কখন এবং কীভাবে তা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো দলীয় নথি সামনে আসেনি। একইভাবে বিএনপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় তার নাম থাকার কারণও স্পষ্ট নয়।

রবিউলকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়েও রয়েছে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য। পরিবারের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, রবিউল আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তার নাম আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় রয়েছে। ফলে রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয়, ২০১৩ সালের তালিকায় তার নাম থাকার কারণ এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে সত্যিই ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল কি না এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

আওয়ামী লীগের সদস্য রবিউল বিএনপির জন্মগত কর্মী দাবি পরিবারের

Update Time : 08:01:01 pm, Monday, 5 October 2026

যশোরের চৌগাছা উপজেলার নারায়ণপুর ইউনিয়নের রবিউল ইসলামকে আওয়ামী লীগের সদস্য পরিচয়ে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে তার পরিবার ও বিএনপি নেতাদের দাবি, রবিউল দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

একই ব্যক্তির নামে আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকা ও বিএনপির প্রত্যয়নপত্র সামনে আসায় তার রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন। রবিউল নারায়ণপুর ইউনিয়নের গুয়াতলী গ্রামের মৃত কেরামত আলীর ছেলে। ২০১৩ সালের ১৫ নভেম্বর যশোর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহিন চাকলাদার ও চৌগাছা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম হাবিবুর রহমানের স্বাক্ষরিত নারায়ণপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় ৪৬ নম্বর সদস্য হিসেবে রবিউলের নাম রয়েছে।

অন্যদিকে, ২০২৬ সালের ৩ অক্টোবর চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলুর স্বাক্ষরিত প্রত্যয়নপত্রে রবিউলকে ‘জন্মগতভাবে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত’ এবং বিএনপির সক্রিয় সদস্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। রবিউলের ছেলে আলামিনের অভিযোগ, গত ১ অক্টোবর রাত সোয়া ১১টার দিকে চৌগাছা থানার কয়েকজন পুলিশ সদস্য তার বাবাকে বাড়ি থেকে ডেকে থানায় নিয়ে যান।

সেখানে ওসি মামুনুর রহমান তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ৫ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে রবিউলকে থানায় আটকে রাখা হয়। পরে নাশকতা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। আলামিনের দাবি, ওসির নির্দেশে এএসআই কাজল, এসআই বিল্লাল, এএসআই মিকাইল ও এএসআই জাকির তার বাবাকে বাড়ি থেকে থানায় নিয়ে যান।

পরে পরিবারের পক্ষ থেকে রবিউলকে ছাড়িয়ে নিতে থানায় যোগাযোগ করা হলে ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়। এ ঘটনায় ওসিসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে খুলনা রেঞ্জের ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন আলামিন। তবে ঘুষ দাবির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ওসি মামুনুর রহমান। তিনি বলেন, রবিউলকে আটকের পর তার পরিবারের কেউ তার কাছে আসেননি। তার কাছে কেউ না এলে তিনি ঘুষ দাবি করবেন কার কাছে?

ওসি বলেন, রবিউলকে আটকের পর নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে চৌগাছা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এম এ সালাম ও নারায়ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তরিকুল ইসলাম ডাবলু তাকে বিএনপির সক্রিয় কর্মী হিসেবে দাবি করেছেন। এম এ সালামের দাবি, ২০১৩ সালের একটি ‘ভুয়া কমিটির তালিকায়’ রবিউলকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে দেখানো হয়েছে।

তবে ওসি মামুনুর রহমানের বক্তব্য, রবিউল আওয়ামী লীগের কর্মী। তার কাছে থাকা ২০১৩ সালের কমিটির তালিকায় ৪৬ নম্বর সদস্য হিসেবে রবিউলের নাম রয়েছে। এদিকে, ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগের বিষয়ে এম এ সালাম বলেন, ওসি কোনো আসামিকে ধরে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে ঘুষ নেন এমন কোনো রেকর্ড তার জানা নেই। তার মতে, ৫ লাখ টাকা ঘুষ দাবির অভিযোগটি ষড়যন্ত্রমূলকও হতে পারে।

একই ব্যক্তির নামে ২০১৩ সালের আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকা এবং ২০২৬ সালের বিএনপির প্রত্যয়নপত্র সামনে আসায় রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। ২০১৩ সালের পর তার রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তন হয়ে থাকলে কখন এবং কীভাবে তা হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো দলীয় নথি সামনে আসেনি। একইভাবে বিএনপি নেতাদের দাবি অনুযায়ী তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলে আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় তার নাম থাকার কারণও স্পষ্ট নয়।

রবিউলকে নাশকতা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়েও রয়েছে দুই পক্ষের ভিন্ন বক্তব্য। পরিবারের দাবি, বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে তাকে আওয়ামী লীগের সদস্য হিসেবে পরিচয় করিয়ে মামলায় জড়ানো হয়েছে। পুলিশের বক্তব্য, রবিউল আওয়ামী লীগের সদস্য এবং তার নাম আওয়ামী লীগের কমিটির তালিকায় রয়েছে। ফলে রবিউলের রাজনৈতিক পরিচয়, ২০১৩ সালের তালিকায় তার নাম থাকার কারণ এবং তাকে ছেড়ে দেওয়ার বিনিময়ে সত্যিই ৫ লাখ টাকা দাবি করা হয়েছিল কি না এসব প্রশ্নের নিরপেক্ষ তদন্ত ও সংশ্লিষ্ট নথি যাচাইয়ের মাধ্যমেই স্পষ্ট হতে পারে।