আজ শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
১৬ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ১৯ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

বিএসইসির প্রস্তাবিত করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আহ্বান

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:08:45 am, Thursday, 1 October 2026
  • 19

বিএসইসির প্রস্তাবিত করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আহ্বান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রণীত খসড়া বিধিমালা পর্যায়ক্রমে এবং বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। রিলেটেড-পার্টি ট্রানজ্যাকশন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা নির্ধারণ, আনুপাতিক ঝুঁকি তদারকি বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেন বক্তারা।

‘বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন জোরদারকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তারা। রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার হোসেন সাদাত এফসিএস অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিএসইসি করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা ২০২৬-এর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনা পর্ষদ এবং বাজারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে তুলে নিয়ে এসেছে ‘স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশিস বড়ুয়া পুঁজিবাজারে আস্থা অর্জনে স্বতন্ত্র পরিচালক, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, অংশীজনদের আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

এরপর স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন আঞ্চলিক সুশাসনব্যবস্থার সঙ্গে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেন। তিনি বিধিমালাটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন, ‘রিলেটেড-পার্টি ট্রানজ্যাকশন’ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা নির্ধারণ, আনুপাতিক ঝুঁকি তদারকি এবং আইএফআরএস -এস১ ও এস২-এর আলোকে টেকসই-বিষয়ক তথ্য প্রকাশের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেন।

তিনি বলেন, আমি পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন, আরপিটির স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন কাঠামো, ইএসজি রিপোর্টিংয়ের সঙ্গে আইএফআরএস এস১/এস২-এর সামঞ্জস্য বিধান এবং একটি কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক কমপ্লায়েন্স বা বিধি-পালনের পরিবেশ তৈরির সুপারিশ করছি।

বড়ুয়ার সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন লোপা রহমান (করপোরেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবিন (অধ্যাপক, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং সৈয়দ ড. এ মামুন (অধ্যাপকÑফাইন্যান্স অ্যান্ড পলিসি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও কাউন্সিল সদস্য, আইসিএমএবি), এম নুরুল আলম এফসিএস (সভাপতি, আইআইএবি), আফসিন বাতেন এফসিএ (অতিরিক্ত পরিচালক, এনফোর্সমেন্ট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন ডিভিশন, মো. মুনির হোসেন (সভাপতি, সিএমজেএফ); আহসান হাবিব (সাধারণ সম্পাদক, সিএমজেএফ) এবং মো. শফিকুল ভূঁইয়া (প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), ডিএসই)।

আলোচনায় তিনটি বাস্তবসম্মত বিষয় উঠে আসে বোর্ডের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে লোপা রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশার ভিত্তিতে বোর্ড ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং পূর্বনির্ধারিত মানদ-ের ভিত্তিতে নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়নের বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবিন জোর দিয়ে বলেন যে, বোর্ডগুলোকে তাদের তদারকির অগ্রাধিকারের সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

একইভাবে, সৈয়দ এ মামুন এমন একটি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা স্বচ্ছ সুশাসনের মানদ- বজায় রাখার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর মধ্যকার পার্থক্যকেও বিবেচনায় নেয়। এম নুরুল আলম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি পরিচালকদের পেশাগত জ্ঞান এবং পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন ও পরিপালন নিয়ে আফসিন বাতেন কার্যকর তদারকি ও পরিপালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্যায়নভিত্তিক আরও স্পষ্ট পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

অংশগ্রহণকারীরা এমন কার্যকর সংজ্ঞা ও প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন, যা বোর্ড ও অডিট কমিটিকে এ ধরনের লেনদেন শনাক্ত ও পর্যালোচনা করতে সহায়তা করবে। বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও উদীয়মান ঝুঁকি নিয়ে মো. মুনির হোসেন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন। আহসান হাবিব পরিপালনজনিত ঘাটতি শনাক্তকরণ, সাইবার-ঝুঁকি তদারকি জোরদার এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন; এ ক্ষেত্রে অডিটর ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবায়নের সময়সীমা, সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার এবং পরিপালনের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। সমাপনী বক্তব্যে কমিশনার হোসেন সাদাত বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও বিনিয়োগকে সহায়তা করে এমন একটি সুশাসন কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে কাজ করার সময় কমিশন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে।

তিনি স্বচ্ছতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সীমিত সম্পদ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা করা অংশীজনদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আলোচনাটি মূলত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬’-এর পর্যালোচনা নিয়ে পরিচালিত হয়।

অংশগ্রহণকারীরা শুধু বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন পালনের গ-ি পেরিয়ে কীভাবে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পর্ষদ-স্তরের তদারকিব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

বিএসইসির প্রস্তাবিত করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের আহ্বান

Update Time : 05:08:45 am, Thursday, 1 October 2026

বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) প্রণীত খসড়া বিধিমালা পর্যায়ক্রমে এবং বাস্তবসম্মতভাবে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে। রিলেটেড-পার্টি ট্রানজ্যাকশন বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা নির্ধারণ, আনুপাতিক ঝুঁকি তদারকি বিষয়ে একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেন বক্তারা।

‘বাংলাদেশে করপোরেট সুশাসন জোরদারকরণ’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে মঙ্গলবার এসব কথা বলেন তারা। রেনেসাঁ ঢাকা গুলশান হোটেলে উপস্থিত ছিলেন বিএসইসি কমিশনার হোসেন সাদাত এফসিএস অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। বিএসইসি করপোরেট গভর্ন্যান্স বিধিমালা ২০২৬-এর বিষয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা, পরিচালনা পর্ষদ এবং বাজারের সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে তুলে নিয়ে এসেছে ‘স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস’।

অনুষ্ঠানের শুরুতে স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক স্নেহাশিস বড়ুয়া পুঁজিবাজারে আস্থা অর্জনে স্বতন্ত্র পরিচালক, জবাবদিহি এবং স্বচ্ছতার ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র পরিচালকদের স্বাধীনতা, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা প্রাতিষ্ঠানিক সুশাসন, অংশীজনদের আস্থা এবং দীর্ঘমেয়াদি মূল্য সৃষ্টির অন্যতম প্রধান ভিত্তি।

এরপর স্ম্যাক অ্যাডভাইজরি সার্ভিসেস লিমিটেডের পরিচালক জারিন মাহমুদ হোসেন আঞ্চলিক সুশাসনব্যবস্থার সঙ্গে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করেন। তিনি বিধিমালাটি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন, ‘রিলেটেড-পার্টি ট্রানজ্যাকশন’ বা সংশ্লিষ্ট পক্ষের মধ্যকার লেনদেনের ক্ষেত্রে স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন নির্দেশিকা নির্ধারণ, আনুপাতিক ঝুঁকি তদারকি এবং আইএফআরএস -এস১ ও এস২-এর আলোকে টেকসই-বিষয়ক তথ্য প্রকাশের জন্য একটি রোডম্যাপ তৈরির সুপারিশ করেন।

তিনি বলেন, আমি পর্যায়ক্রমিক বাস্তবায়ন, আরপিটির স্পষ্ট সংজ্ঞা ও মূল্যায়ন কাঠামো, ইএসজি রিপোর্টিংয়ের সঙ্গে আইএফআরএস এস১/এস২-এর সামঞ্জস্য বিধান এবং একটি কার্যকর ও প্রতিযোগিতামূলক কমপ্লায়েন্স বা বিধি-পালনের পরিবেশ তৈরির সুপারিশ করছি।

বড়ুয়ার সঞ্চালনায় প্যানেল আলোচনায় অংশ নেন লোপা রহমান (করপোরেট গভর্ন্যান্স বিশেষজ্ঞ), অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবিন (অধ্যাপক, আইবিএ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও চেয়ারম্যান, ন্যাশনাল ব্যাংক এবং সৈয়দ ড. এ মামুন (অধ্যাপকÑফাইন্যান্স অ্যান্ড পলিসি, ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয় ও কাউন্সিল সদস্য, আইসিএমএবি), এম নুরুল আলম এফসিএস (সভাপতি, আইআইএবি), আফসিন বাতেন এফসিএ (অতিরিক্ত পরিচালক, এনফোর্সমেন্ট, ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড ডিসিপ্লিনারি অ্যাকশন ডিভিশন, মো. মুনির হোসেন (সভাপতি, সিএমজেএফ); আহসান হাবিব (সাধারণ সম্পাদক, সিএমজেএফ) এবং মো. শফিকুল ভূঁইয়া (প্রধান নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), ডিএসই)।

আলোচনায় তিনটি বাস্তবসম্মত বিষয় উঠে আসে বোর্ডের কার্যকারিতা ও প্রেক্ষাপট নিয়ে লোপা রহমান বলেন, সুনির্দিষ্ট প্রত্যাশার ভিত্তিতে বোর্ড ও নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা উচিত। তিনি বিনিয়োগের বিভিন্ন দিক, নেতৃত্বের ভূমিকা এবং পূর্বনির্ধারিত মানদ-ের ভিত্তিতে নেতৃত্বের কার্যকারিতা মূল্যায়নের বিষয়ে তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। অধ্যাপক ড. মেলিটা মেহজাবিন জোর দিয়ে বলেন যে, বোর্ডগুলোকে তাদের তদারকির অগ্রাধিকারের সঙ্গে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের কাঠামো ও পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে।

একইভাবে, সৈয়দ এ মামুন এমন একটি কাঠামোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন, যা স্বচ্ছ সুশাসনের মানদ- বজায় রাখার পাশাপাশি কোম্পানিগুলোর মধ্যকার পার্থক্যকেও বিবেচনায় নেয়। এম নুরুল আলম স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির পাশাপাশি পরিচালকদের পেশাগত জ্ঞান এবং পরিচালনগত প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে বোঝাপড়ার গুরুত্ব তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেন ও পরিপালন নিয়ে আফসিন বাতেন কার্যকর তদারকি ও পরিপালন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে লেনদেনের ক্ষেত্রে মূল্যায়নভিত্তিক আরও স্পষ্ট পর্যালোচনার আহ্বান জানান।

অংশগ্রহণকারীরা এমন কার্যকর সংজ্ঞা ও প্রক্রিয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন, যা বোর্ড ও অডিট কমিটিকে এ ধরনের লেনদেন শনাক্ত ও পর্যালোচনা করতে সহায়তা করবে। বিনিয়োগকারী সুরক্ষা ও উদীয়মান ঝুঁকি নিয়ে মো. মুনির হোসেন বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় জবাবদিহি ও স্বচ্ছতার ওপর জোর দেন। আহসান হাবিব পরিপালনজনিত ঘাটতি শনাক্তকরণ, সাইবার-ঝুঁকি তদারকি জোরদার এবং সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন; এ ক্ষেত্রে অডিটর ও স্বতন্ত্র পরিচালকদের সক্রিয় ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

উন্মুক্ত প্রশ্নোত্তর পর্বে সাংবাদিক ও অংশগ্রহণকারীরা বাস্তবায়নের সময়সীমা, সংখ্যালঘু শেয়ারহোল্ডারদের অধিকার এবং পরিপালনের ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলোর প্রস্তুতির বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপন করেন। সমাপনী বক্তব্যে কমিশনার হোসেন সাদাত বলেন, বিনিয়োগকারীদের সুরক্ষা ও বিনিয়োগকে সহায়তা করে এমন একটি সুশাসন কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে কাজ করার সময় কমিশন সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত এবং নীতিগত সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব বিবেচনা করবে।

তিনি স্বচ্ছতার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। সীমিত সম্পদ ও সীমাবদ্ধতার মধ্যেও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিনিয়োগকারীদের অধিকার রক্ষা করা অংশীজনদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। অংশীজনদের মতামত ও সুপারিশগুলোকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে মূল্যায়ন এবং সিদ্ধান্তের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই নীতিগত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। আলোচনাটি মূলত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) কর্তৃক প্রণীত খসড়া ‘করপোরেট গভর্ন্যান্স ফ্রেমওয়ার্ক ২০২৬’-এর পর্যালোচনা নিয়ে পরিচালিত হয়।

অংশগ্রহণকারীরা শুধু বিধিবদ্ধ নিয়মকানুন পালনের গ-ি পেরিয়ে কীভাবে কার্যকর ও দায়িত্বশীল পর্ষদ-স্তরের তদারকিব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করেন।