অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে গত ২৪ জুলাই দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করায় ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। জাতীয় সংসদ ভবনের অধিবেশন কক্ষে দুপুর ২টায় এই ভোটগ্রহণ শুরু হয়, যা চলবে বিকেল ৫টা পর্যন্ত।
দীর্ঘ ৩৫ বছর পর ভোটগ্রহণের মধ্য দিয়ে দেশের নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। সবশেষ ১৯৯১ সালে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনে ভোট হয়েছিল। রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১-দলীয় ঐক্যের কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রমের মধ্যে ভোটের লড়াই হচ্ছে। তবে সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় বিএনপির প্রার্থী ও দলটির সদ্য পদত্যাগী মহাসচিব মির্জা ফখরুলই যে বঙ্গভবনের নতুন বাসিন্দা হতে যাচ্ছেন—সেটা এক রকম নিশ্চিত।
এরপরও একাধিক প্রার্থী থাকায় সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী নির্বাচন হচ্ছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। এর মধ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের ৫০ জন সংসদ সদস্য রয়েছেন। গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জয়ী হলেও চট্টগ্রাম-৪ আসনের বিএনপির প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর প্রার্থিতা ও সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার সুযোগ বাতিল করেছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।
ফলে এই আসনটি শূন্য রয়েছে। এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে সামনে রেখে সংসদের বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোটের সংসদীয় দলের বৈঠক দুপুর ১২টায় সংসদ ভবনের বিরোধীদলীয় সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়। এই বৈঠকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটদান পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। সংসদে বিরোধী দলের সদস্য সংখ্যা ৯০। এর মধ্যে নৈতিকস্খলনের দায়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের জামায়াতের এমপি গাজী নজরুল ইসলাম বহিষ্কৃত হওয়ায় তাকে আজকের বৈঠকে ডাকা হয়নি।
এর আগে গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করেন ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে ইসি। গত ১৩ আগস্ট বিএনপি মনোনীত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১-দলীয় ঐক্য মনোনীত অলি আহমদ মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাইয়ে দুই প্রার্থীর মনোনয়নই বৈধ হয়।






















