6:27 am, Friday, 31 July 2026

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্লু-বার্ডের সিনিয়র শিক্ষকের মৃত্যু

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:32:26 am, Friday, 31 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আর মাত্র তিন মাস পর শিক্ষকতা থেকে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই বেপরোয়া গতির বলি হলেন ব্লু-বার্ডের শিক্ষক মুরাদ আহমদ! নিজ স্কুলের সামনেই ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। সিলেট নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মুরাদ আহমদের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকালে নেমে এসেছে সর্বত্র গভীর শোকের ছায়া। শিক্ষকতার দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল পথচলা শেষ করে আর তিন মাস পরেই যার সুখে-শান্তিতে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল, সেই প্রিয় শিক্ষক আজ আর আমাদের মাঝে নেই। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই নিজ প্রিয় কর্মস্থল ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসেন শিক্ষক মুরাদ আহমদ। কিন্তু কে জানত, এই চত্বরই হবে তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তর! বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা পারাপার বা যাতায়াতের এক পরোক্ষে বেপরোয়া গতির একটি যানবাহন তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। যে প্রাঙ্গণে তিনি বছরের পর বছর শত শত শিক্ষার্থীকে আলো ছড়িয়েছেন, সেই প্রিয় প্রাঙ্গণের সামনেই ঝরে গেল তাঁর তাজা প্রাণ। অবসরের দোড়গোড়ায় থেমে গেল জীবনের চাকা মুরাদ আহমদ ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও প্রাণবন্ত শিক্ষক। জীবনের বড় একটি সময় তিনি পার করেছেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে এবং তাদের উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আর মাত্র তিন মাস পরই তার চাকরি জীবনের ইতি টেনে অবসর নেওয়ার কথা ছিল। কর্মজীবনের দায়িত্ব শেষ করে পরিবারের সাথে জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে কাটাবেন—এমন কত শত স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবার। কিন্তু ঘাতক চালকের বেপরোয়া গতি এক নিমেষেই চুরমার করে দিল সব স্বপ্ন ও স্বজনদের প্রত্যাশা। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক বিদায়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে নেমে আসে শোকের মাতম। সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের চোখে জল। প্রিয় স্যারের এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। অনেক সহকর্মী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তিনি ছিলেন আমাদের একজন অভিভাবকতুল্য সহকর্মী। অবসরে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, তা আমরা ভাবতেও পারছি না। সিলেটের রাজপথে দিনের পর দিন বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে ঝরে যাচ্ছে কত না নিরীহ প্রাণ। প্রিয় শিক্ষকের এই অকাল ও মর্মান্তিক প্রয়াণে ক্ষোভ ও বেদনায় ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। তারা অনতিবিলম্বে বেপরোয়া চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিদ্যালয়ের আশপাশের সড়কগুলোতে স্থায়ী গতি নিয়ন্ত্রকসহ নিরাপদ পারাপারের জোর দাবি জানিয়েছেন। একজন শিক্ষকের জীবনপ্রদীপ এভাবে রাজপথে নিভে যাওয়া কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং পুরো সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনের জন্য এক গভীর বেদনার অধ্যায়। ব্লু-বার্ডের প্রিয় শিক্ষক মুরাদ আহমদের স্মৃতি চিরকাল তাঁর শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সিলেটে সড়ক দুর্ঘটনায় ব্লু-বার্ডের সিনিয়র শিক্ষকের মৃত্যু

Update Time : 02:32:26 am, Friday, 31 July 2026

আর মাত্র তিন মাস পর শিক্ষকতা থেকে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু তার আগেই বেপরোয়া গতির বলি হলেন ব্লু-বার্ডের শিক্ষক মুরাদ আহমদ! নিজ স্কুলের সামনেই ঘটে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা। সিলেট নগরীর স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজের সিনিয়র শিক্ষক মুরাদ আহমদের মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় ইন্তেকালে নেমে এসেছে সর্বত্র গভীর শোকের ছায়া। শিক্ষকতার দীর্ঘ ও গৌরবোজ্জ্বল পথচলা শেষ করে আর তিন মাস পরেই যার সুখে-শান্তিতে অবসরে যাওয়ার কথা ছিল, সেই প্রিয় শিক্ষক আজ আর আমাদের মাঝে নেই। প্রত্যক্ষদর্শী ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিদিনের মতোই নিজ প্রিয় কর্মস্থল ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজে আসেন শিক্ষক মুরাদ আহমদ। কিন্তু কে জানত, এই চত্বরই হবে তাঁর জীবনের শেষ প্রান্তর! বিদ্যালয়ের সামনে রাস্তা পারাপার বা যাতায়াতের এক পরোক্ষে বেপরোয়া গতির একটি যানবাহন তাঁকে সজোরে ধাক্কা দেয়। গুরতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। যে প্রাঙ্গণে তিনি বছরের পর বছর শত শত শিক্ষার্থীকে আলো ছড়িয়েছেন, সেই প্রিয় প্রাঙ্গণের সামনেই ঝরে গেল তাঁর তাজা প্রাণ। অবসরের দোড়গোড়ায় থেমে গেল জীবনের চাকা মুরাদ আহমদ ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ ও প্রাণবন্ত শিক্ষক। জীবনের বড় একটি সময় তিনি পার করেছেন শিক্ষার্থীদের শিক্ষাদানে এবং তাদের উপযুক্ত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে। আর মাত্র তিন মাস পরই তার চাকরি জীবনের ইতি টেনে অবসর নেওয়ার কথা ছিল। কর্মজীবনের দায়িত্ব শেষ করে পরিবারের সাথে জীবনের বাকি দিনগুলো শান্তিতে কাটাবেন—এমন কত শত স্বপ্ন বুনেছিলেন তিনি ও তাঁর পরিবার। কিন্তু ঘাতক চালকের বেপরোয়া গতি এক নিমেষেই চুরমার করে দিল সব স্বপ্ন ও স্বজনদের প্রত্যাশা। শ্রদ্ধেয় শিক্ষকের এমন আকস্মিক ও হৃদয়বিদারক বিদায়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই ব্লু-বার্ড স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে নেমে আসে শোকের মাতম। সহকর্মী শিক্ষক-শিক্ষিকা, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের চোখে জল। প্রিয় স্যারের এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না কেউই। অনেক সহকর্মী কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, তিনি ছিলেন আমাদের একজন অভিভাবকতুল্য সহকর্মী। অবসরে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে এভাবে আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন, তা আমরা ভাবতেও পারছি না। সিলেটের রাজপথে দিনের পর দিন বেপরোয়া যান চলাচলের কারণে ঝরে যাচ্ছে কত না নিরীহ প্রাণ। প্রিয় শিক্ষকের এই অকাল ও মর্মান্তিক প্রয়াণে ক্ষোভ ও বেদনায় ফেটে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষার্থীরা। তারা অনতিবিলম্বে বেপরোয়া চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং বিদ্যালয়ের আশপাশের সড়কগুলোতে স্থায়ী গতি নিয়ন্ত্রকসহ নিরাপদ পারাপারের জোর দাবি জানিয়েছেন। একজন শিক্ষকের জীবনপ্রদীপ এভাবে রাজপথে নিভে যাওয়া কেবল একটি পরিবারের অপূরণীয় ক্ষতি নয়, বরং পুরো সমাজ ও শিক্ষাঙ্গনের জন্য এক গভীর বেদনার অধ্যায়। ব্লু-বার্ডের প্রিয় শিক্ষক মুরাদ আহমদের স্মৃতি চিরকাল তাঁর শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে অমলিন হয়ে থাকবে।