ঢাকায় এসে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে বৈঠক করেন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গর। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে অনেক ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। ৩ দিনের সফরে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকায় পৌঁছান সার্জিও গর। সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সন্ধ্যা ৬টার পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে বৈঠকে বসেন। পরে খলিলুর রহমানের সঙ্গে প্রায় ২০ মিনিট একান্তে কথা বলেন সার্জিও গর। একই সঙ্গে গতকাল রাতে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও বৈঠকে বসেন তিনি। রাতে এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত অর্থ মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। আজ শুক্রবার কক্সবাজার পরিদর্শনের কথা রয়েছে মার্কিন ধনকুবের সার্জিও গরের। ভারতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। সেই সঙ্গে তাকে দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূতের দায়িত্ব দেন ট্রাম্প। গত জানুয়ারিতে নয়াদিল্লিতে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব নেওয়ার পর এই প্রথম বাংলাদেশ সফরে এসেছেন তিনি। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে সার্জিও গর লিখেছেন, ‘আমার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে আমি আনন্দিত। অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে।’ এদিকে, বিশেষ দূতকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন বলেন, গর বাংলাদেশের একজন বন্ধু। তিনি বলেন, এই সফর দুই দেশের মধ্যে বেড়ে ওঠা অংশীদারিত্বকে আরও মজবুত করবে। রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক মার্কিন বিশেষ দূত রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর, আমার বন্ধু, তাকে বাংলাদেশে স্বাগত জানাতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।’ তিনি বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-মার্কিন কৌশলগত সম্পর্কের পাশাপাশি আঞ্চলিক সুরক্ষা ও অর্থনৈতিক ইস্যুতেও সহযোগিতা জোরদার করবে। এই সফরের আগে বুধবার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান গরের আগমনকে একটি ‘অনুসন্ধানী সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সম্পর্কে আরও বিশদ ধারণা লাভ করাই এই সফরের মূল উদ্দেশ্য। বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘তিনি বাংলাদেশকে বুঝতে চাইবেন। তিনি শুধু আমাদের সঙ্গেই নয়, আরও অনেক অংশীদারদের সঙ্গেও কথা বলবেন।’ ড. খলিলুর বলেন, মার্কিন বিশেষ দূত রোহিঙ্গা ক্যাম্পও পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তিনি জানান, মিয়ানমার থেকে বাস্তুচ্যুত এই জনগোষ্ঠীর মানবিক সহায়তায় যুক্তরাষ্ট্র এখনো সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক দাতা দেশ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ-মার্কিন সম্পর্ক বহুমাত্রিক এবং দুই দেশই এই অংশীদারিত্বকে আরও এগিয়ে নিতে আগ্রহী।
3:21 am, Friday, 31 July 2026
শিরোনাম :
অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি ঘটেছে : সার্জিও গর
-
MIT ERP
- Update Time : 02:06:41 am, Friday, 31 July 2026
- 3
Tag :
Popular Post
















