হবিগঞ্জে প্রবেশ করেই প্রশাসনিক বাধা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মুখে পড়ে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গতকাল বুধবার মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল থেকে দফায় দফায় পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে জেলা শহরে পৌঁছায়। হবিগঞ্জ হামলার ঘটনায় থানা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১১ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। গতকাল দলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে এনসিপি বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে। এদিকে কিছু স্থানে বিএনপি ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মুখোমুখি অবস্থানে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এমন পরিস্থিতে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, বালুর ট্রাক দিয়ে নেতাকর্মীদের আটকে রাখা যাবে না। গত মঙ্গলবার হবিগঞ্জে পথসভায় এনসিপি মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হন এবং এনসিপি নেতারা কিছু সময় অবরুদ্ধ ছিলেন। এ ঘটনায় গতকাল হবিগঞ্জের বাহুবল থানার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অনলাইনে একটি মামলা দায়ের করে এনসিপি। মামলায় হবিগঞ্জ থানা ছাত্রদলের সভাপতিসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়। এদিন বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া এলাকায় পৌঁছাতেই তাদের পথরোধ করে পুলিশ। সন্ধ্যা পৌনে ৭টা পর্যন্ত তারা সেখানেই অবস্থান করেন। ঘটনাস্থل ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের কামাইছড়া এলাকায় একটি বাস আড়াআড়িভাবে রাখা হয়। অবরোধের শুরুতে হালকা বৃষ্টি হয়। এনসিপির নেতারা বৃষ্টির মধ্যেও রাস্তায় অবস্থান করেন। আড়াআড়ি দাঁড় করানো বাসের সামনে সতর্ক অবস্থানে ছিলেন পুলিশ ও স্পেশাল সিকিউরিটি অ্যান্ড প্রটেকশন ব্যাটালিয়নের (এসপিবিএন) দুই শতাধিক সদস্য। গত মঙ্গলবার বিকেলে হবিগঞ্জে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচি শেষে এনসিপির নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও নেতাকর্মীদের মারধর করা হয়। এদিন সন্ধ্যায় শহরে এনসিপি প্রতিবাদ মিছিল বের করলে আরেক দফা সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে গতকাল হবিগঞ্জসহ সারা দেশে বিক্ষোভ সমাবেশের ডাক দেয় দলটি। পরে হবিগঞ্জ বিএনপি ও ছাত্রদলের পক্ষ থেকে পাল্টা প্রতিবাদ সমাবেশের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই কর্মসূচিতে অংশ নিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা হবিগঞ্জ শহরে যাচ্ছিলেন। এর আগে গতকাল বিকেল ৫টার দিকে শ্রীমঙ্গল উপজেলার সাতগাঁও এলাকায় চা-কন্যা ভাস্কর্যের সামনে ঢাকা-সিলেট আঞ্চলিক মহাসড়কে এনসিপির গাড়িবহর আটকে দেওয়া হয়। ওই গাড়িবহরে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখ্য সংগঠক উত্তরাঞ্চল সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক দক্ষিণাঞ্চল হাসনাত আবদুল্লাহ, জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে হবিগঞ্জ পৌর শহরে গতকাল বেলা ৩টায় সমাবেশের ডাক দেয় এনসিপি। একই সময়ে পাল্টা কর্মসূচির ঘোষণা দেয় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদল। দুই পক্ষের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে জেলা প্রশাসন শহরের নির্দিষ্ট এলাকায় ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪ ধারা জারি করে। এর পরও হবিগঞ্জের দিকে রওনা হন এনসিপির নেতারা। পুলিশের বাধায় কামাইছড়া এলাকায় সড়কে বসে পড়েন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, হবিগঞ্জে আমাদের পূর্বঘোষিত কর্মসূচি ছিল, হামলার প্রতিবাদে। আমাদের কয়েক দফা বাধা দেওয়া হয়েছে। বালুর ট্রাক, ট্রাক্টর এবং এখানে এসে পুলিশ সর্বশেষ আটকে রেখেছে এবং পেছনে ছাত্রদলের শত শত সন্ত্রাসীরা আছে। যেহেতু ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিবেশ বা সবকিছুর সহযোগিতা করে আমরা শুধু যাব। মামলা দায়ের করব, আহতদের দেখব, তাদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আমরা চলে আসব। প্রয়োজনে যতজন বলবে আমরা ততজন নিয়েই যাব। আমরা কোনো অশান্তি চাই না। এরপর বৃষ্টি নামে। কিন্তু এনসিপির নেতাকর্মীরা সড়ক ছাড়েননি। বৃষ্টির পর গতকাল সন্ধ্যা ৭টা ৫ মিনিটে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, হামলায় এনসিপির ৩০ জনের মতো নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। সেখানে প্রতিবাদ মিছিল করার জন্য যাচ্ছিলেন। কিন্তু বারবার পুলিশ বাধা দিচ্ছে। শেষ পর্যন্ত পুলিশকে বলা হয়েছে, ঘটনায় মামলা করার জন্য এবং আহতদের দেখার জন্য হবিগঞ্জে এনসিপির মাত্র পাঁচজন নেতা যাবেন। তাও যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দলটির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেন, বালুর ট্রাক ভোলা সহজ নয়। কিন্তু আমাদের আপনাদের মতো বালুর ট্রাক দিয়ে আটকে ফেলা যাবে না। এদিকে চট্টগ্রাম নগরের জামালখান প্রেসক্লাব এলাকায় বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীরা মুখোমুখি অবস্থান নেওয়ায় উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
4:35 am, Thursday, 30 July 2026
শিরোনাম :











