9:03 am, Friday, 31 July 2026

ইসির ভূমিকা নিয়ে জামায়াতে অসন্তোষ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:26:22 am, Thursday, 30 July 2026
  • 9
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, প্রশাসনে রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, ইসি বর্তমানে মারাত্মক রাজনৈতিক চাপে রয়েছে এবং তাদের শারীরিক হাবভাব দেখলেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির বিভিন্ন প্রস্তাব ও আপত্তির কথা তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ইসির চাওয়া চিঠির জবাবে তারা আগে সাতটি প্রস্তাব দিয়েছিন। আজ (গতকাল) আরও দুটি নতুন প্রস্তাব যুক্ত করে মোট ৯টি সুপারিশ ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতাকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে। ওই কর্মকর্তা বিএনপির আসন পুনর্বিন্যাস কমিটিতে যুক্ত আছেন উল্লেখ করে তিনি এই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। জামায়াত নেতার অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচনে ফায়দা লুটতেই সরকারি দলের লোকজনকে এভাবে পদায়ন করা হচ্ছে। বিষয়টি ইসিকে জানানো হলে তারা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারার বিধানের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি করা নিষিদ্ধ নয়। জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারলে স্থানীয় নির্বাচনে কেন পারবেন না? এটি একটি স্পষ্ট বৈষম্য। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে যেসব রাজনৈতিক নিয়োগ ও প্রশাসক বসিয়েছে, তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এসব প্রশাসক বা পদে বহাল ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন কখনোই নিরপেক্ষ হতে পারে না। এ ছাড়া নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিধারীরা যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন, সে বিষয়েও ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা যাতে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার বা প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়ে সুপারিশ করেছে দলটি। একই সঙ্গে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার ইসির। অথচ ইসি চুপ করে আছে আর সরকারি মন্ত্রীরা বলে দিচ্ছেন নির্বাচন কবে হবে। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের রিটের রায়, গেজেট প্রকাশ ও শপথের দ্রুততার বিষয় তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত দ্রুত সব প্রক্রিয়া কীভাবে শেষ হলো? এতেই প্রমাণিত হয়, ইসি রাজনৈতিক চাপে রয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি আমাদের দলে নেই, তাই এ বিষয়ে আমাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। পদত্যাগের চেয়ে বহিষ্কারই বড় বিষয়। তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, সেটি সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। একই সঙ্গে যশোরের জামায়াত সমর্থিত এমপির বাড়িতে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ইসির ভূমিকা নিয়ে জামায়াতে অসন্তোষ

Update Time : 03:26:22 am, Thursday, 30 July 2026

সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিতকরণ, প্রশাসনে রাজনৈতিক নিয়োগ বাতিল এবং নির্বাচন কমিশনের (ইসি) নিরপেক্ষ ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি অভিযোগ করেন, ইসি বর্তমানে মারাত্মক রাজনৈতিক চাপে রয়েছে এবং তাদের শারীরিক হাবভাব দেখলেই তা স্পষ্ট বোঝা যায়। গতকাল বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধিদলের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে দলটির বিভিন্ন প্রস্তাব ও আপত্তির কথা তুলে ধরেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। ব্রিফিংয়ে তিনি জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু করার লক্ষ্যে ইসির চাওয়া চিঠির জবাবে তারা আগে সাতটি প্রস্তাব দিয়েছিন। আজ (গতকাল) আরও দুটি নতুন প্রস্তাব যুক্ত করে মোট ৯টি সুপারিশ ইসিতে জমা দেওয়া হয়েছে। সংবাদ ব্রিফিংয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, সরকার একজন রাজনৈতিক ব্যক্তিকে নির্বাচন কমিশনে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে, যা একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতাকে সরাসরি প্রশ্নবিদ্ধ করে। ওই কর্মকর্তা বিএনপির আসন পুনর্বিন্যাস কমিটিতে যুক্ত আছেন উল্লেখ করে তিনি এই নিয়োগ অবিলম্বে বাতিলের দাবি জানান। জামায়াত নেতার অভিযোগ, স্থানীয় নির্বাচনে ফায়দা লুটতেই সরকারি দলের লোকজনকে এভাবে পদায়ন করা হচ্ছে। বিষয়টি ইসিকে জানানো হলে তারা নিজেদের অসহায়ত্বের কথা প্রকাশ করেছে বলেও দাবি করেন তিনি। এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থী হতে না পারার বিধানের কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত নেতা বলেন, এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের রাজনীতি করা নিষিদ্ধ নয়। জাতীয় নির্বাচনে তারা অংশ নিতে পারলে স্থানীয় নির্বাচনে কেন পারবেন না? এটি একটি স্পষ্ট বৈষম্য। তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে সিটি করপোরেশনসহ স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন পদে যেসব রাজনৈতিক নিয়োগ ও প্রশাসক বসিয়েছে, তা নির্বাচনে প্রভাব ফেলার উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে। এসব প্রশাসক বা পদে বহাল ব্যক্তিরা নির্বাচনে অংশ নিলে নির্বাচন কখনোই নিরপেক্ষ হতে পারে না। এ ছাড়া নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদ-পদবিধারীরা যাতে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে না পারেন, সে বিষয়েও ইসির দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীরা যাতে স্থানীয় নির্বাচনে কোনো প্রার্থীর পক্ষে প্রচার বা প্রভাব বিস্তার করতে না পারেন, সে বিষয়ে সুপারিশ করেছে দলটি। একই সঙ্গে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা নিয়ে সরকারের মন্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার এখতিয়ার ইসির। অথচ ইসি চুপ করে আছে আর সরকারি মন্ত্রীরা বলে দিচ্ছেন নির্বাচন কবে হবে। চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে বিএনপির প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের রিটের রায়, গেজেট প্রকাশ ও শপথের দ্রুততার বিষয় তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, এত দ্রুত সব প্রক্রিয়া কীভাবে শেষ হলো? এতেই প্রমাণিত হয়, ইসি রাজনৈতিক চাপে রয়েছে। সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম সম্পর্কে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি আমাদের দলে নেই, তাই এ বিষয়ে আমাদের নতুন করে কিছু বলার নেই। পদত্যাগের চেয়ে বহিষ্কারই বড় বিষয়। তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, সেটি সংসদ ও নির্বাচন কমিশনের এখতিয়ার। একই সঙ্গে যশোরের জামায়াত সমর্থিত এমপির বাড়িতে হামলার ঘটনা তুলে ধরেন গোলাম পরওয়ার।