4:38 am, Thursday, 30 July 2026

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ঢাকা-দিল্লি

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:16:05 am, Thursday, 30 July 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকা ও নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা উভয়েই একমত যে, পারস্পরিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং আমি যেমন সবসময় বলি, সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি মানুষের পারস্পরিক সুবিধা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাই কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি; বরং সামগ্রিকভাবে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়েই মতবিনিময় হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু অস্বস্তিকর বিষয় রয়েছে উল্লেখ করে সেগুলো নিরসন হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, তিনি সেসব বিষয়ে জানেন, আমিও জানি। এসব অস্বস্তিকর বিষয় নিরসন হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে আমাদের দুই দেশের মধ্যে সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আরও কয়েকটি আমন্ত্রণ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও যোগ দেবেন। তাই সব কর্মসূচি একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফরকে অনুসন্ধানমূলক হিসেবে উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, তিনি বাংলাদেশ এবং দেশের অগ্রাধিকারগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে আসছেন। তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশকে জানতে চাইবেন। শুধু আমাদের সঙ্গেই নয়, আরও অনেক অংশীজনের সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সার্জিও গর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি মানুষের পারস্পরিক সুবিধা : দীনেশ ত্রিবেদী : ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হবে উভয় পক্ষের মানুষের পারস্পরিক সুবিধা। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে এই বৈঠকটিকে আমি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করি। এটি খুবই উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারণ আমাদের ইস্যু বা বিষয়গুলো সবই এক। সাংবাদিকদের দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি আপনাদের বলতে পারি যে, ঐতিহাসিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে, এমনকি খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেট নিয়ে আমরা সব বিষয়েই কথা বলেছি। আমি এখান থেকে খুবই আনন্দ নিয়ে ফিরে যাচ্ছি এবং আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, মন্ত্রীরা আমাকে এতটা সময় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা ভিসা উন্মুক্ত করেছি। তাই উভয় দেশের মানুষের পারস্পরিক সুবিধার জন্য ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দিক থেকেই মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। আর এই সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আমরা শুধু সীমানাই ভাগ করে নিই না, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বপ্নও ভাগ করে নিই। তাই বৈঠক খুবই ভালো হয়েছে। আর আমি এমন একটি সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে আছি, যার মূল ভিত্তিই হবে উভয় পক্ষের মানুষের পারস্পরিক সুবিধা। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমরা এই ধারাবাহিক সম্পর্কের দিকেই তাকিয়ে আছি, যেমনটা বললাম সংস্কৃতি থেকে শুরু করে সংগীত, এমনকি ক্রিকেট পর্যন্ত আমাদের সব কথাবার্তাই হলো। আর এটা তো কেবল শুরু, আমি নিশ্চিত যে, আমরা একে অপরের সাথে আরও বেশি যুক্ত হব এবং আমি সেই অপেক্ষাতেই আছি। তিস্তা ও গঙ্গা চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর সৌজন্য সাক্ষাতে যেমন সৌজন্য বিনিময় হয়, তেমনই হয়েছে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। কারণ দিন শেষে সাধারণ মানুষই মুখ্য। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক, যা উভয় দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য লাভজনক হবে, সেটাই আসল।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নিতে চায় ঢাকা-দিল্লি

Update Time : 03:16:05 am, Thursday, 30 July 2026

বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনারের প্রথম সৌজন্য সাক্ষাৎকালে ঢাকা ও নয়াদিল্লি পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নতুনভাবে এগিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। গতকাল মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, আমরা উভয়েই একমত যে, পারস্পরিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এবং আমি যেমন সবসময় বলি, সার্বভৌম সমতার ভিত্তিতে আমাদের দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়া উচিত। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি মানুষের পারস্পরিক সুবিধা। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান বলেন, এটি ছিল একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ। তাই কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়নি; বরং সামগ্রিকভাবে সম্পর্কোন্নয়নের বিষয়েই মতবিনিময় হয়েছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের কিছু অস্বস্তিকর বিষয় রয়েছে উল্লেখ করে সেগুলো নিরসন হওয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন ড. খলিলুর রহমান। তিনি বলেন, তিনি সেসব বিষয়ে জানেন, আমিও জানি। এসব অস্বস্তিকর বিষয় নিরসন হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রসঙ্গ বৈঠকে উঠেছিল কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, কোনো নির্দিষ্ট দ্বিপক্ষীয় ইস্যু নিয়ে আলোচনা হয়নি। তিনি আরও বলেন, আগামী দিনে আমাদের দুই দেশের মধ্যে সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হবে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বিদেশ সফরের আরও কয়েকটি আমন্ত্রণ রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও যোগ দেবেন। তাই সব কর্মসূচি একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের ঢাকা সফরকে অনুসন্ধানমূলক হিসেবে উল্লেখ করে ড. খলিলুর রহমান বলেন, তিনি বাংলাদেশ এবং দেশের অগ্রাধিকারগুলো সম্পর্কে সম্যক ধারণা নিতে আসছেন। তিনি বলেন, তিনি বাংলাদেশকে জানতে চাইবেন। শুধু আমাদের সঙ্গেই নয়, আরও অনেক অংশীজনের সঙ্গেও তিনি কথা বলবেন। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সার্জিও গর রোহিঙ্গা শিবির পরিদর্শন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের মূল ভিত্তি মানুষের পারস্পরিক সুবিধা : দীনেশ ত্রিবেদী : ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হবে উভয় পক্ষের মানুষের পারস্পরিক সুবিধা। গতকাল বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি এ কথা বলেন। এ দিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভারতীয় হাইকমিশনার। তিনি বলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান এবং প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গে এই বৈঠকটিকে আমি একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করি। এটি খুবই উষ্ণ ও আন্তরিক পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, কারণ আমাদের ইস্যু বা বিষয়গুলো সবই এক। সাংবাদিকদের দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, আমি আপনাদের বলতে পারি যে, ঐতিহাসিকভাবে, সাংস্কৃতিকভাবে, এমনকি খেলাধুলা, বিশেষ করে ক্রিকেট নিয়ে আমরা সব বিষয়েই কথা বলেছি। আমি এখান থেকে খুবই আনন্দ নিয়ে ফিরে যাচ্ছি এবং আমি অত্যন্ত কৃতজ্ঞ যে, মন্ত্রীরা আমাকে এতটা সময় দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আপনারা জানেন যে, আমরা ভিসা উন্মুক্ত করেছি। তাই উভয় দেশের মানুষের পারস্পরিক সুবিধার জন্য ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দিক থেকেই মানুষ অত্যন্ত আনন্দিত। আর এই সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আমরা শুধু সীমানাই ভাগ করে নিই না, বরং ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বপ্নও ভাগ করে নিই। তাই বৈঠক খুবই ভালো হয়েছে। আর আমি এমন একটি সম্পর্কের দিকে তাকিয়ে আছি, যার মূল ভিত্তিই হবে উভয় পক্ষের মানুষের পারস্পরিক সুবিধা। ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, আমরা এই ধারাবাহিক সম্পর্কের দিকেই তাকিয়ে আছি, যেমনটা বললাম সংস্কৃতি থেকে শুরু করে সংগীত, এমনকি ক্রিকেট পর্যন্ত আমাদের সব কথাবার্তাই হলো। আর এটা তো কেবল শুরু, আমি নিশ্চিত যে, আমরা একে অপরের সাথে আরও বেশি যুক্ত হব এবং আমি সেই অপেক্ষাতেই আছি। তিস্তা ও গঙ্গা চুক্তি নবায়নের ব্যাপারে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। আর সৌজন্য সাক্ষাতে যেমন সৌজন্য বিনিময় হয়, তেমনই হয়েছে। পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। কারণ দিন শেষে সাধারণ মানুষই মুখ্য। মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্ক, যা উভয় দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের জন্য লাভজনক হবে, সেটাই আসল।